ঢাকা, বুধবার, ২৫ মে ২০২২

উখিয়া কলেজের ইতিকথা : পর্ব-৯

প্রকাশ: ২০২০-০৪-০১ ১৭:৩৫:২৮ || আপডেট: ২০২০-০৪-০২ ২০:১১:১১

এম. ফজলুল করিম, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, উখিয়া কলেজ ॥
২০১২ইং সন থেকে মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি, উখিয়া কলেজের সভাপতি। লোকটি ব্যক্তিগত ভাবে খুব ভালো মানুষ। স্থানীয় রাজনৈতিক জ্ঞানে ভরপুর। বর্তমান যুগে উনার মতো এম.পি হওয়া আবশ্যক। ২০০৮ সালে এপ্রিল থেকে ২০১২সালের জুন পর্যন্ত আমি (ফজলুল করিম) অধ্যক্ষ পদ থেকে সাসপেন্ড হয়েছিলাম। আমার পরিচালিত উখিয়া কলেজের তিনজন অধ্যাপকের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার দূর্নীতি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন গভর্ণিং বডিকে।

ঐ তিন অধ্যাপক শতভাগ স্বাধীনতা নিয়ে এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী’র নির্দেশ মতো কাজ করেছিলেন। তিন অধ্যাপকের মনের আশা পূর্ণ করেছিল। তিনজনের কমিটির সভাপতি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ আবদুল হক। তিনি বাদে আমি বাকী দুজন অধ্যাপকের উপকার করেছিলাম বেশি। এমন শব্দ প্রয়োগ করেছেন যা খুবই আপত্তিকর ও লজ্জাজনক।

গভর্ণিং বডির সভাপতি ছিলেন ইউএনও শামীম আল রাজি, উনার তেমন দোষ নেই। এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী। আমার বন্ধু মাহমুদুল হক সাহেব সেদিন আমার সামনে বলেছিলেন, এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী যেভাবে বলবেন আমিও তাঁর সাথে সুর মিলাব এ প্রেক্ষিতে আমার বক্তব্য হল- শাহজাহান চৌধুরী হরিণ পালন মামলার আসামী হওয়ার পর বিভিন্ন কাজে মূখ্য ভূমিকায় ছিলেন এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী ও জাতীয়পার্টির নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী।

ইউএনও শামীম আল-রাজি নাকি কোন আর্মি অফিসারের চাপের মুখে ছিলেন। গভর্ণিং বডির প্রভাবশালী দুইজন সদস্য আর্মি অফিসারের সাথে সুর মিলিয়ে ছিল অর্থাৎ উল্লেখিত অংকের টাকা আত্নসাতের দায়ের সাসপেন্ড করবেনই। শেষ পর্যন্ত সাসপেন্ড করে দিলেন। আমার সহজ সরল অন্তরে যে আঘাত হয়েছে- সেই আঘাত নিয়ে কবরবাসী হবো ইনশাল্লাহ।

তাঁরা দুই জনের মনের আশা কি রকম ছিল সেটা আল্লাহ ভালো জানেন। শাহজাহান চৌধুরীর সাহেবও সি বিষয়ে তাঁদেরকে ভাল কোন পরামর্শ দেননি। আমার জীবনের ‘কী’ পয়েন্ট সময়টি সাসপেন্ড অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। আমার বড় ছেলেটি তখন কক্সবাজার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। আমি তখন কক্সবাজার বাসায় থাকতাম। আমার বড় ছেলে প্রাইমারি বৃত্তি পরীক্ষায় টেলেন্টপুল গ্রুপে উপজেলা ফাষ্ট হয়েছিল। অষ্টম শ্রেুণিতে জেলার ৫ম স্থানে কৃতকার্য হয়েছিল।

বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ও কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে অনার্স সম্পন্ন করে ঢাকা ভার্সিটিতে মাষ্টার্স করছে। সাথে জি.আর.ই ও টোফেল পরীক্ষা দিচ্ছে। হয়ত: বিদেশ চলে যাবে। নয়ত: ব্যবসা করবে। ছোট হউক আর বড় হউক চাকুরী করবে না। কারণ “তার আব্বুর টেনশন গুলো তার নিজের চোখে দেখেছেন”। মেঝ ছেলে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স শেষ করে মাষ্টার্স করছে এবং আইওএম এনজিওতে অফিসার পদে চাকুরীরত আছে। তার ছোট মেয়েটি অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত। তার ছোটটির বয়স মাত্র ৬ বৎসর। নূরানী মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত। আমার প্রবল ইচ্ছে তাকে “কোরানে হাফেজ” করব ইনশাল্লাহ। সবাই একটু দোয়া করবেন। আমার মনের ইচ্ছেটি যেন পূর্ণ হয়। এই আমার সংসার। সহধর্মীনি রাজিয়া বেগম। সে একজন গৃহবধু। উখিয়া কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে আমার চাকুরীর মেয়াদ ১০ মে ২০২০ইং পর্যন্ত।

আমার সাসপেন্ড এর বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় মামলা করেছিলাম। সৌভাগ্য বশত: শিক্ষা সচিব ছিলেন কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। তিনি বিভাগীয় তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট নিয়ে দেখলো কোন আর্মির চাপের মুখে সাসপেন্ড করেছিল। তখন দ্বৈত শাসন বিরাজমান ছিল। ফখরুদ্দিন সরকার ক্ষমতায় ছিলেন। অন্যদিকে আর্মি শাসন, সবাই খুবই তটস্থ ছিল মোটামুটি। বিভাগীয় তদন্ত শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গভর্ণিং বডিকে সাময়িক বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ ফজলুল করিমকে স্বপদে পুন: বহাল করার জন্য নির্দেশনামূলক চিঠি দিয়েছেন। দূর্ভাগ্য ঠিক সেই সময় গভর্ণিং বডি ছিল না। আবদুর রহমান বদিকে সভাপতি করে এডহক কমিটি ছিল। কিন্তু বিএনপির বাদশা মিয়া চৌধুরী ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সাসপেন্ড অর্ডার স্থগিত করার জন্য হাইকোর্টে রিট করেছিল। রিট করে আমার রিপোর্টটিকে সাসপেন্ড অর্ডার স্থগিত করে দিয়েছিল। উক্ত রিট অর্ডারের বিরুদ্ধে আমি ‘লিভ টু আপিল’ করলাম।

রাজশাহীর একজন আওয়ামীলীগের এম.পি নাম নুরুল ইসলাম। আমার বিজ্ঞ আইনজীবি। সুপ্রিম কোর্টের স্থগিত আদেশ নাকচ করে দেয়ার অর্ডার নিলেন। তখন আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি উখিয়া কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি ছিলেন। উনি আমাকে সম্মানের সাথে পুন: বহাল করলেন। কারণ উনি নিজে জানতেন এবং দেখেছেন আমি শাহজাহান চৌধুরীর সাথে রাজনীতি করেছি, তারপরও তিনি আমাকে বিমুখ না করে বুকে টেনে নিয়েছিলেন-এই জন্য বলি আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি নিখাদ ভালো মানুষ। এম.পি আবদুর রহমান বদিকে কোন এক আওয়ামীলীগ নেতা বলে ছিলেন অধ্যক্ষ ফজলুল করিম তো বিএনপির গোড়ার ভাগ। এক্স এম.পি শাহজাহান চৌধুরীর ডান হাত। উনি কি কলেজ চালাবেন। এম.পি বদি উত্তর দিলেন উনি দুনিয়াতে এসে হয়ত: বিএনপি করেছে। আমি জন্মগত বিএনপি। একসাথে ধানের শীষের মিছিল করেছি। তোমার আর কোন কথা আছে ? উনার দোষের চেয়ে ভালো কাজ গুলি আমি বেশি দেখেছি। মাঝে মাঝে আমাকে বেশ গালমন্ধ করে কিন্তু সাধন বড়ুয়াকে বলে দিয়েছে আমি অধ্যক্ষ ফজলুল করিমের সাথে রাগ দেখালেও উনার স্বাক্ষর ছাড়া কোন ”বিল-ভাউচার” পাশ হবে না।

সারা জীবনটা উখিয়া কলেজের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন চাইলে অন্য পেশায়ও যেতে পারতেন। অথচ শিক্ষকতায় রয়ে গেছেন- অর্থাৎ দেশের জন্য, এলাকার জন্য কিছু করার মানসিকতা ছিল বলেই কলেজের চাকুরী ছেড়ে অন্য কোথাও যায়নি। সুতরাং যে যাই বলুক উনি উনার লাইনে ঠিক আছেন। উনি এডভোকেট ছিলেন সেটাতেও যায়নি। তাতে বুঝা যায় উনার মনটি ভাল ছিল। অন্য কোন ধান্ধাবাজি করে নাই, বিধায় অধ্যক্ষ ফজলুল করিম একজন ভাল মনের মানুষ।

আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি পদে আসীন। প্রায় ৮ বছর উনার সংসারে উখিয়া কলেজ। বর্তমানে উনার সহধর্মীনি শাহীন আকতার, মাননীয় সংসদ সদস্য। বর্তমান এম.পি উখিয়া কলেজের গর্বিত ছাত্রী। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা যে সপ্তাহে শেষ হয়েছে, এর পরের সপ্তাহে এজাহার কোম্পানী সাহেব শাহীন আকতারকে ছেলের বউ বানিয়ে টেকনাফ গেলো। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার হলে ‘বউ’ দেখতে এসেছিল এজাহার কোম্পানী।

তিনি আমার বন্ধু লোক। শাহজাহান চৌধুরী ও এজাহার কোম্পানীর বন্ধুত্ব ছিল। যখনই বন্ধুত্ব ছিন্ন হয়েছে তখনই শাহজাহান চৌধুরী আর এম.পি নির্বাচিত হয়নি। পারিবারিক মত দ্বৈততা হয়েছিল। কারণ আমি এম.পি বদিকে ছাত্র অবস্থায় এম.পি শাহজাহান চৌধুরীর বাসায় দেখেছি। এখনও দেখছি এম.পি বদি শাহজাহান চৌধুরী সাহেবকে বাস্তবে অনেক বেশি সম্মান করেন। এক্স এম.পি হিসেবে শ্রদ্ধা করেন।

শাহজাহান চৌধুরী সাহেবের অনুপস্থিতিতে কঠিন কোন সিদ্ধান্ত নেন না। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হলেই শাহজাহান চৌধুরীর উপস্থিতির কথা বলেন। সম্মানী লোককে সম্মান করতে জানেন। আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি এম.পি গরিব দরদী ও দানবীর এবং সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করে থাকেন। এ জন্য এক্স এম.পি আবদুর রহমান বদি ও সভাপতি গভর্ণি বডি, উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। উনি দীর্ঘজীবি হউন। আজীবন নেতৃত্বের আসনে আসীন থাকুক। সেটাই আন্তরিক ভাবে কামনা করি।

চলবে…