ঢাকা, বুধবার, ১৮ মে ২০২২

উখিয়া কলেজের ইতিকথা : পর্ব-২

প্রকাশ: ২০২০-০৩-০৫ ১২:১৭:০৩ || আপডেট: ২০২০-০৩-০৫ ১২:১৭:০৮


এম. ফজলুল করিম, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, উখিয়া কলেজ।


উখিয়া কলেজের যাত্রা শুরু’র পর থেকে যেভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল …….
১লা জানুয়ারী ১৯৯২ উখিয়া তথা কক্সবাজার জেলার ইতিহাসে আরো একটি স্মরণীয় দিন। বলা যায়, উখিয়া উপজেলার একটি মাইল ফলক। ১ জানুয়ারী ১৯৯২ তারিখ সকাল ১০টায় উখিয়া কলেজের পাঠদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তৎকালীন ইউ.এন.ও জনাব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। সকাল ঠিক ১০ টায় লাল-সবুজ ফিতা কেটে উখিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ক্লাস রুম হিসেবে প্রবেশ করে যথারীতি ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর রুল কল করে, বিলাসী গল্প দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেন। যথা নিয়মে ৪০ মিনিটের ক্লাসে ৫৫ মিনিট পাঠদান করেন।


৩১ ডিসেম্বর/৯১ এর সিদ্ধান্তমতে শহীদ মাস্টার ইলিয়াস মিয়া গণপাঠাগারে কলেজের অস্থায়ী অফিসে বসে উপস্থিত সুধী মন্ডলী নুর হোটেলের সুস্বাদু মিষ্টি দিয়ে উপস্থিত সবাই মিষ্টিমুখ করলাম। উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৩ জন কিন্তু ভর্তি ইচ্ছুক ২০/২২ জনের মতো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সেদিন কলেজ শিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলাম আমি ফজলুল করিম, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।


বর্তমানে সর্বজন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ও কাজী শাহাব উদ্দিন ( রাষ্ট্র বিজ্ঞান), ফরিদুল আলম চৌধুরী (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি), ইউ.এন.ও কামাল আবদুর নাসের চৌধুরী ও বাবু অজিত দাস (বাংলা), সিরাজুল হক সাহেব ইতিহাস। পরের দিন থেকে জনাব আনোয়ার সাদাত (অর্থনীতি) বিষয়ে কলেজের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বর্তমানে তিনি কানাডার টরেন্টো শহরের অধিবাসী।


আমি ফজলুল করিম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেও পতাকা উত্তোলন, ক্লাসের ঘন্টা বাজানো, চা এর দোকানে নাস্তার অর্ডার দেয়া সহ যাবতীয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলাম। জসীম ইলেক্ট্রিক টেলিফোন দিয়ে প্রস্তাবিত কলেজকে সহযোগিতা করেছেন। ঐ ফোনে ওয়াকিটকি ছিল। কলেজের ফোন আসলে দৌড়ে কলেজ অফিসে চলে যেতেন জসীম সাহেব।

জসীম ইলেক্ট্রিকের টেলিফোনটি কলেজের ফোন হিসেবে ব্যবহার করতাম।পরের দিন ম্যাজিস্ট্রেট ফাইনান্স জনাব বজলুল করিম কলেজের অস্থায়ী কার্যালয়ে এসে আক্ষেপ করে আমাকে বললেন – ” আমার কলেজে শিক্ষকতা করার প্রবল ইচ্ছে ছিল, কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট হওয়াতে আশা পূর্ণ হলনা! “। তখন ম্যাজিস্ট্রেট বজলুল করিমকে আমি বললাম, আপনিও আমাদের সাথে শিক্ষকতা করেন। তিনি পরের দিন থেকে দর্শনের ক্লাস নেয়া শুরু করলেন। তৎকালীন এসিল্যান্ড সাহেব ইংরেজি বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস নিতেন। আমার হিসাব মতে ৪ মাসে ৬০টি ইংরেজি ক্লাস নিয়েছেন অরুণ কুমার মালাকার। (২০১৩ সালে সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে মালাকার সাহেবকে পেয়েছিলাম। আমাকে অনেক দোয়া করলেন, ধন্যবাদ দিলেন এবং কলেজের খবর শুনে খুব খুশি হলেন।এখন অবসরে আছেন।)


আমরা শিক্ষকরা বাই-রোটেশনে প্রতিদিন নাস্তা করতাম। উল্লেখিত সবাই উখিয়া কলেজে দুই বছর অবৈতনিক পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে ছিলাম। কলেজ শুরুর ৫ মাস পর জনাব আবদুল হক সাহেব শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে অবসর নিয়ে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।


০১ জানুয়ারী ১৯৯৪ ইং থেকে কলেজ ব্যানবেইচ ভূক্ত হয়। ব্যান বেইচ হওয়ার পূর্বে আরো অনেক ঘটনার সাথে উখিয়া কলেজ জড়িত। উখিয়ার বেশির ভাগ শিক্ষিত জন প্রস্তাবিত উখিয়া কলেজের বিরোধিতা করেছেন। শিক্ষা র্বোডে প্রেরিত স্মারকলিপিতে একজন বিজ্ঞ এডভোকেটের নেতৃত্ব ছিল।

কলেজ পরিদর্শক আমাকে বললেন – “হো ইজ ব্লাডি এডভোকেট”; একটি উপজেলাতে কোন কলেজ নেই সেখানে এডভোকেটের মতো মানুষ কেন বিরোধিতার নেতৃত্ব দিলেন! কলেজ পরিদর্শক মহোদয় কলেজ পরিদর্শনে আসলে নেতৃত্বদান কারী এডভোকেটকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। মাস্টার ইলিয়াস মিয়া গণপাঠাগারে পাঠদান কালে নুর হোটেলে একদল লোক বসে বসে অট্টহাসি দিয়ে বলতেন – “কলেজের শিক্ষকেরা কি খায় ? বেঁচে থাকে কিভাবে ?? কলেজে আসে কিভাবে ???”


কলেজ শুরু’র সময় আবদুল্লাহ আল মামুন শাহীন ও আব্বাস উদ্দিন, বর্তমানে শিল্পপতি অসাধারণ ভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন। ছয়তারা রাইস ও ফ্লোর মিল, যখনই মোটা অঙ্কের টাকা প্রয়োজন হত তখনই হযত ছয়তারা রাইস মিল নতুবা মদিনা রাইস মিল তাদের আর্থিক সহযোগিতার কথা অতুলনীয়। কামাল স্টোরের কামাল ও আমাদেরকে অনেক সহযোগিতা করতেন। তখন তার একটি ছোট্ট দোকান ছিল। আরও রহস্য জনক ঘটনা আছে।

চলবে…