ঢাকা, রোববার, ২৯ মে ২০২২

উখিয়া কলেজের ইতিকথা : পর্ব-১

প্রকাশ: ২০২০-০৩-০৪ ১৩:২৯:০১ || আপডেট: ২০২০-০৩-০৫ ১২:০৭:০৭


এম ফজলুল করিম, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, উখিয়া কলেজ ॥
১৯৯১ ইংরেজি সনের ৬ সেপ্টেম্বর উখিয়ার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৯০ ইংরেজি সনে এস. এস. সি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরকে “উখিয়া কলেজ ” এর ব্যানারে সংবর্ধণা দেওয়া হয়েছিল। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বর্তমান “উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” এর উঠানে।


এতে প্রধান অতিথি হওয়ার কথা ছিল তৎকালীন সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত: রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে ঢাকা চলে যেতে হয়েছিল বলে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করার সৌভাগ্য হয়েছিল এম.পির সহধর্মিণী মিসেস শাহীন জাহান চৌধুরীর। তখন তিনি উখিয়া টেকনাফের ফাস্ট লেডী। প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি ছিলেন তৎকালীন ইউ.এন.ও জনাব কামাল আব্দুল নাছের চৌধুরী ও তার সহধর্মিণী মিসেস কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী। তিনি তখন কবি কামাল চৌধুরী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি পরবর্তীতে শিক্ষা সচিব, জনপ্রশাসন সচিব সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে অবসরে যান।


সেদিন ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯০ এস.এস.সি. উত্তীর্ণদের একটি কলম একটি গোলাপ দিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়েছিল। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছিলেন প্রয়াত: মাষ্টার সাইফুল ইসলাম। আমি সহ আমার মতো উচ্চ শিক্ষিত অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সেদিন থেকে উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মাষ্টার শুক্কুর সাহেবকে প্রস্তাবিত উখিয়া কলেজের কার্যক্রম চালানোর দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তুু সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ৪ মাস কলেজের কোন কার্যক্রম হয়নি। কারণ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কুলের কাজ করতে করতে কলেজের কার্যক্রম চালানোর সময় ছিলনা। অতঃপর শাহজাহান চৌধুরী এম.পি সাহেবের নেতৃত্বে ৩১ ডিসেম্বরের সকাল ১০ টায় উখিয়া উপজেলা ইউ.এন.ও এর হল রুমে প্রস্তাবিত উখিয়া কলেজের সর্ব প্রথম সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেন।


৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় মিটিং শুরু হয়। মিটিং এর শুরুতে শাহজাহান চৌধুরী এম.পি. অতীতে যারা কলেজ করার চেষ্টা করেছেন, তাদের পক্ষ থেকে কলেজ নির্মাণের ম্যানুয়েল দেওয়ার আহ্বান করেন। কিন্তু সবাই বললেন, আমাদের কাছে কোন ধরনের কলেজ নির্মাণ সংক্রান্ত ম্যানুয়েল নেই। তাহলে এতদিন কিভাবে কলেজ করার চেষ্টা করেছেন ? সৌভাগ্য বশত: আমি ২৭ ডিসেম্বর ১৯৯০ বর্তমান কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে গিয়ে একটি ম্যানুয়েল যোগাড় করে রেখেছিলাম। ঐটার আলোকে সমস্ত কার্যক্রম গুলো করতে সুবিধা হয়েছিল। সেদিন ১ম মিটিংয়ে একটি সাত সদস্য বিশিষ্ট সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়।


কমিটি নিন্মরূপ :
১. জনাব শাহজাহান চৌধুরী এম.পি, সভাপতি।
২. জনাব এম. ফজলুল করিম,সদস্য সচিব।
৩. জনাব নরুল ইসলাম চৌধুরী (প্রকাশ ঠান্ডা মিয়া), সদস্য।
৪. জনাব আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য।
৫. জনাব এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, সদস্য।
৬. জনাব এডভোকেট কাজী গিয়াস উদ্দিন, সদস্য।
৭. জনাব মাহমুদুল হক চৌধুরী, সদস্য।

সে দিনের সভায় জনাব শাহজাহান চৌধুরী এম.পি. ১,০০,০০০/= টাকা অনুদান প্রদান করেন (তৎকালীন)।