ঢাকা, সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শোভাবর্ধনকারী গাছগুলো যেন ব্যানার অত্যাচারে শংকটাপন্ন

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৯ ০০:০৩:৫০ || আপডেট: ২০১৯-০৯-২৯ ০০:১৫:০০


জসিম আজাদ ॥
সন্তান পিতার সাথে বেইমানী করতে পারে, কিন্তু একটি গাছ কখনো তা করে না। একটি গাছের পুরো জীবনকাল মানুষের উপকারই করে যায়। হয় অক্সিজেন, না হয় ছায়া, লাকড়ি বা আপনার সৌখিনের ফার্ণিচার হয়ে।

পরম এই বন্ধু গাছকে আমরা কতটুকু যত্ন নিচ্ছি ? দেশে চাহিদার তুলনায় দিনদিন সাবাড় হয়ে যাচ্ছে বনাঞ্চল। নিজেরা ত বনায়ন সৃজন করছি না। স্কুল, কলেজ, রাস্তা ঘাটে গুটিকয়েক থাকলেও এই গাছ গুলিকেও নির্যাতন করতে যেন আমরা চিন্তা করি না।

ছবিটি কক্সবাজারের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সরকারি কলেজের প্রবেশদ্বারের চিত্র। জীবনরক্ষাকারী গাছগুলোতে বিভিন্ন সংগঠন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রঙবেরং এর ব্যানারে ভরে গেছে। ব্যানার টাঙাতে শক্ত করে বাঁধা হয়েছে রশি দিয়ে। দিন যায়, মাস যায়, বছরের পর বছর যায় তবুও যেন শেষ হয় না গাছের উপর অত্যাচার।

এমন চিত্র কেবল কক্সবাজার সরকারি কলেজে নয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশের বৃক্ষগুলো ব্যানার টাঙানোর রশিতে আবৃত হয়ে যাচ্ছে। এ সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শুভাবর্ধনকারী এসব গাছের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকায় পরিবেশবাদীরা।

নিলর্জ্জ সংগঠন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলো গ্রীষ্মকালীন অফার, শীতকালীন অফার, বিজয় দিবস অফারসহ নানা অজুহাতে ব্যবসার প্রচার ও প্রসারে যত্রতত্র ব্যানার টাঙিয়ে প্রচারণা চলেই আসছে।

পরিবেশ রক্ষার প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অসচেতনতা এবং অবহেলাকে দুষছেন পরিবেশবাদী ও গণমাধ্যমকর্মী পলাশ বড়ুয়া।

আশরাফুল কায়েস নামে এক এনজিও কর্মি বলেন, একটি সর্বোচ্চ শিক্ষালয়ের প্রধান ফটকে, হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে, ধর্ষিত হল একটি নির্বাক গাছ। অথচ আমারা কিছুই করলাম না। আসলে আমরা কী শিখছি?

কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষক মুফিদুল আলম বলেন, অনেক চেষ্টা করেও সুফল পাচ্ছি না। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

গাছের প্রাণ সচ্ছলতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কক্সবাজার সরকারি কলেজ উদ্ভিদ বিজ্ঞান অনুষদের প্রতি অনুরোধ জানান কক্সবাজার সরকারি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র নুরুল আজিম চৌধুরী।