ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২

বাংলাদেশে ক্যাসিনোর জন্মই হয়েছে হাওয়া ভবনে : কাদের

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৫ ১৫:০৩:৫৭ || আপডেট: ২০১৯-০৯-২৫ ১৫:২৫:৩৪

চলমান শুদ্ধি অভিযানকে লোক দেখানো নয় মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার সেনানিবাসের শ্যুটিং ক্লাব পয়েন্টে আন্ডারপাস নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।’

‘বর্তমান সরকার ক্যাসিনোর সরকার’ সিলেটে বিএনপির জনসভায় দলটির মহাসচিব জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া এ বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্যাসিনোর জন্মই হয়েছে হাওয়া ভবনে। ‌মদ জুয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু তা প্রবর্তন করেছিল বিএনপি। তবে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। খালেদা জিয়া যা পারেননি শেখ হাসিনা তা পেরেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযান, লোক দেখানো নয়। যেটা কেউ করেনি, আমরা তো করছি। বেটার লেট দেন নেভার।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এ অভিযানকে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ স্বাগত জানিয়েছেন, অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিযানে চুনোপুঁটি কিংবা রাঘববোয়ালের কোনো প্রশ্ন নেই। দেখতে হয়তো চুনোপুঁটি, কিন্তু পদ পজিশনে নয় আবার কাজগুলো করেছে রাঘব-বোয়ালের মতো। যাদেরকে ধরা হয়েছে, তারা নজরদারিতে ছিলেন। সত্যিকার অর্থে অপকর্মকারী কাউকে ছাড় নয়।’

বিশ্বজুড়েই দুর্নীতি চলে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। পরিস্থিতি অন্তত সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত অভিযান চলবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কিছু কিছু কাজ মানুষের সহ্য সীমার বাইরে চলে গিয়েছিল। শেখ হাসিনার বিশাল বিশাল অর্জন ম্লান হয়েছে। কাজেই গুটি কয়েকের অপকর্মের জন্যে সরকারের অর্জনগুলো ম্লান হতে দিতে পারি না।’

কাউন্সিলের সঙ্গে এই অভিযানের সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই অভিযান শুধু ঢাকাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সুন্দরবন থেকে সুনামগঞ্জ, কুতুবদিয়া থেকে তেঁতুলিয়া- সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮৮ দশমিক ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের আন্ডারপাসটি নির্মাণ করেছে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এমপি, সেনাবাহিনীর নয় পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চীফ ইন ইঞ্জিনিয়ার (ই ইন সি) মেজর জেনারেল ইবনে ফজল শায়খুজ্জামান।