ঢাকা, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২

টুংটাং শব্দে ব্যস্ত কামাররা

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৮ ২৩:৪৮:২০ || আপডেট: ২০১৯-০৮-০৮ ২৩:৪৯:০৬


এম,এস রানা, উখিয়া :
টুংটাং শব্দে সরগরম হয়ে উঠেছে উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারের কামার দোকানগুলো। মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহৎ ঈদ উৎসব কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন এসব দোকানের কামাররা।

নাওয়া-খাওয়া ভুলে গিয়ে অবিরাম কাজ করছেন তারা। আগুনের শিখায় লোহাকে পুড়িয়ে তৈরি করা এসব ছুরি, দা, বঁটি, চাপাতি দিয়ে পশু কোরবানির পাশাপাশি মাংস কাটার জন্য। এসব কিনতে এখন কামারের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এ বছর এসব সরঞ্জামের দাম অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। 
কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ শিল্পের প্রধান উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় কামাররা এখন বিড়ম্বনায় পড়েছেন। বর্ষাকালীন বৃষ্টির কারণে কয়লার সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও জানান তারা।


ঈদুল আযহা উপলক্ষে উখিয়া সদর দারোগা বাজার, কোটবাজার, মরিচ্যা বাজার, রুমখাঁ বাজার,বালুখালী বাজার পালং খালী বাজার,থাইং খালী বাজার সহ প্রত্যান্তঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন কামারের দোকানে গ্রাহকের আনাগোনা বেড়েছে। কামাররাও দা, বটি, ছুরি, ধামাই শাণ দিতে সময় পার করছেন। দোকানের সামনে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রেখেছেন নতুন দা, ছুরি, বটি।


মান ভেদে নতুন দা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায়, ছুরি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, বটি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায়, জবাই ছুরি৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় এবং ধামা ৬০০থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


বিক্রেতারা জানান, এ বছর প্রধান কাঁচামাল খাঁটি মানের লোহার দাম অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। তাছাড়াও লোহা পুড়ানোর প্রধান উপাদান কয়লার সংকট দেখা দিয়েছে প্রচুর। চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল না পাওয়ায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে খরচও বেশি হচ্ছে তবুও কোরবানি ঈদের আগে প্রত্যেক কামার দোকান অর্ডার অনুযায়ী সরবরাহ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানালেন এক কামার শিল্পী।  


কোটবাজারের কামার কালু  বলেন, কয়লার দাম বাড়ায় অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী মাল তৈরি করতে পারছি না। বৃষ্টির কারণে ঠিকমতো কয়লার সরবরাহ হচ্ছে না। তিনি জানান, গত বছর প্রতি বস্তা কয়লার দাম ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। সেখানে এ বছর প্রতি বস্তা কয়লার দাম পড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা,কাচা লোহা ক্রয় করতে হচ্ছে ১২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত তাই লোহার এসব সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। 
মরিচ্যা বাজারের অজিত কর্মকার জানান, কোরবানের ঈদকে সামনে রেখে গ্রাহকের অর্ডার সামাল দিতে ইতিমধ্যে আমরা দোকানে বাড়তি কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি।

কোরবানির আয়ে আমাদের সারা বছর চলতে হয় বিধায় গ্রাহকের চাপ সামাল দিতে সবধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইতিমধ্যে আমাদের পরিচিত কিছু গ্রাহক দা, বটি, ছুরি বানানোর অর্ডার দিয়ে গেছে এবং শাণ দিতে অর্ডার পেয়েছি। পাশাপাশি নতুন বটি, ছুরি তৈরি করছি। বিশেষ করে কোরবানের ২/১ দিন আগে গ্রাহকের আনাগোনা বেড়ে যাবে বলেও জানান তিনি।


তিনি আরো বলেন, আশা করি গত ঈদের চেয়ে এবার ঈদে বিক্রি বেশি হবে। দা, বঁটি, ছুরি ও চাইনিজ কুড়াল এগুলো ঈদ এলে বেশি বিক্রি হয়। তবে ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে বেচাকেনা অনেক বেশি হয়। এখন একটু কম বিক্রি হচ্ছে, কারণ এখন শুধু অর্ডার আসে কয়েকদিন পর ডেলিভারি দেয়া শুরু করলেই বিক্রি বেড়ে যাবে। তবে এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে বঁটি। 


দা-বঁটি কিনতে আসা ক্রেতা রুমখাঁ চরপাড়ার জহুর আলম বলেন, আসলে ঈদ যত কাছাকাছি চলে আসবে কামারের দোকানে ভিড় তত বেড়ে যাবে আর তখন কামাররা যন্ত্রপাতি ভালোভাবে না বানিয়ে কোনোমতে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়। তাই একটু আগেই এসেছি, বসে থেকে ভালোভাবে বানিয়ে নেয়ার জন্য