ঢাকা, রোববার, ২৬ জুন ২০২২

কর্ণফুলী হ্রদের দুষণ ও অবৈধ দখলদার ঠেকাতে উদ্যোগ নেই প্রশাসনের

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-৩০ ১৭:৩৫:২৮ || আপডেট: ২০১৯-০৭-৩০ ১৭:৩৫:৩৩


নির্মল বড়ুয়া মিলন, রাঙামাটি : স্থানীয় প্রশাসন কোন ভাবেই ঠেকানো চেষ্টা করছে না এশিয়ার বৃহত্তর হ্রদ কর্ণফুলী হ্রদের দুষণ ও অবৈধ দখলকারীদের। এমনই অভিযোগ স্থানীয় পরিবেশবিদদের। প্রতিদিন হ্রদের দু’পাশ গিলে খাচ্ছে দখলদারেরা। বর্তমানে নতুন করে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে দখলদার সিন্ডিকেট।

রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের পিছনে, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পিছনে, রাঙামাটি মহিলা কলেজ এলাকা, পুরাতন বাস ষ্টেশন, পুরাতন হাসপাতাল এলাকা, পুরাতন পুলিশ লাইন, ডিসি বাংলো সড়ক এর দুই পাশ, তবলছড়ি বাজার লঞ্চ ঘাটের দুই পাশে, তবলছড়ি বাজার, পর্যটন এলাকা, মাঝেরবস্তি, আসামবস্তী, রাঙাপানি, ভেদভেদী জেলা আনসার কমান্ডেন্ট কার্যালয়ের পিছনে, কলেজ গেইট, টিটিসি রোড, পিটিআই অফিসের পিছনে, দেবাশীষ নগর, রাঙামাটি জিমনেশিয়ামের পিছনে, হাসপাতাল এলাকা, রাজবাড়ি, চক্রপাড়া, পাবলিক হেলথ, কালিন্দীপুর, বৃহত্তর বনরুপা, আলম ডক ইয়াড, কাঠালতলী, রাঙামাটি পৌরসভার পিছনে, ফিশারী এলাকা, রসুলপুর, শান্তিনগর ও পুরাতনবস্তিসহ কর্ণফুলী হ্রদের তীর দখল করে গড়ে উঠছে অসংখ্য বহুতল ভবণ ও অবৈধ স্থাপনা। সেখানে হ্রদ দখল করে কেউ করেছেন মুরগীর খামার, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, কেউবা বানিয়েছেন হোটেল-মটেল। হ্রদের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে মাঝারী ধরনের কারখানা, রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয়, মাছের আড়ত, করাতকল, শুঁটকিমহল, বরফকলসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে দখলদারদের তালিকা পর্যন্ত নাই। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের মাসিক আইন শৃংখলা কমিটির সভায় কর্নফুলী হ্রদের দুষণ মুক্ত ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত অদ্যবধি বাস্তবায়ন হয়নি। তৈরী করা হয়নি কর্ণফুলী হ্রদের দুষণকারী ও হ্রদের জায়গা দখলকারীদের তালিকা। দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে হ্রদের জায়গা দখলদারদের উচ্ছেদে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রাঙামাটি শহরের বনরুপা ও রিজার্ভ বাজার এলাকায় কর্ণফুলী হ্রদের তীরে গিয়ে দেখা যায়, পাড় ভরাট করে ঘরবাড়ি তৈরির জন্য বিভিন্ন আকারের বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। শহরের বিভিন্ন পাহাড় থেকে মাটি এনে ভরাট করা হচ্ছে হ্রদের পাড়। দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে একসময় হ্রদ ছিল। স্থাপনা রক্ষায় দখলদারেরা নিজেদের টাকায় হ্রদের পানি ঠেকাতে মাটি ফেলে বাঁধও নির্মাণ করেছেন।

বনরুপা, রিজার্ভ বাজার ও তবলছড়ি এলাকায় ইতোমধ্যে এখানে অসংখ্য ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য রাঙামাটি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নেয়া হয়নি। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।

স্থাপনা নির্মাণকারীরা সিএইচটি মিডিয়াকে বলেন, অনেকের দেখাদেখি তারাও ভবন তৈরি করেছেন। এ পর্যন্ত কেউ বাধাঁ দেয়নি।  একাধীক বহুতল ভবণ স্থাপনা নির্মাণকারী একই কথা বলেন।

রাঙামাটি পৌরসভা কার্যালয় সূত্র জানায়, রাঙামাটি শহর এলাকায় গত কয়েক বছরে হ্রদের হাজার-হাজার একর জমি দখল করে নানা অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। রাঙামাটি জেলায় ও শহরে কর্ণফুলী হ্রদের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমী স্থানীয়রা।