ঢাকা, শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২

ফলোআপ : “এনজিও ফোরামের” ওয়াশ প্রোগ্রাম নিয়ে এবার এন্তার অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-০১ ২১:১১:৩৬ || আপডেট: ২০১৯-০৫-০১ ২১:১১:৫৭

গফুর মিয়া চৌধুরী, সিএসবি ২৪ ডটকম:
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক “এনজিও ফোরামের” বিরুদ্ধে এবার এন্তার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ এপ্রিল “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও ফোরামের কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি” শীর্ষক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ অনলাইন পত্রিকা সিএসবি ২৪ ডটকম-এ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসছে সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মোশারফ হোসেন।


এনজিও ফোরামের প্রকল্প সমন্বয়কারী অভিযুক্ত মোশারাফ হোসেন নানা ভাবে অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা তদবির চালাচ্ছেন বলেও জানা গেছে। ক্যাম্প কেন্দ্রিক কাজে কারচুপি, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ব্যাপক অনিয়মের মধ্যে দিয়ে ঢিলেঢালা ভাবে কাজ চললেও তা যেন দেখার কেউ নেই। এনজিও ফোরামের এই কর্মকর্তা ঠিকাদারদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে নানা ভাবে ফায়দা লুটছে।


আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউনিসেফের অর্থায়নে ওয়াটার স্যানিটেশন এন্ড হাইজিন প্রোগ্রামে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্টির জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার বুর হোল কাজে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৬, ৭ ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে এসব রিহেবল বুর হোলের কাজ করছে এনজিও ফোরাম। মানব সেবার কথা বলেও ক্যাম্পে কাজ করার অনুমতি নিলেও যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে এই সংস্থাটি।


জানা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৬, ৭ সহ কয়েকটি ক্যাম্পে প্রতিটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি রিহেবল বুর হোল প্রকল্পেও নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির গুরুতর এই অভিযোগ। ওপেন টেন্ডার আহবান করলেও দূর্নীতি ও প্রহসনের আশ্রয় নিয়ে ১৭ এপ্রিল রাজশাহীর মেসার্স জ্যোতি এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর নুরুল কবিরকে কাজ পাইয়ে দেয়। এসবের মূলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় উখিয়ার মালভিটা পাড়াস্থ এনজিও ফোরামের দূর্নীতিবাজ প্রকল্প সমন্বয়কারী মোশারফ হোসেন।


১ মে (বুধবার) এনজিও ফোরামের কাজে নানা অনিয়মের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রকল্পসমন্বয়কারী মোশারফ হোসেন সিএসবি ২৪ ডটকমকে বলেন, এনজিও ফোরামের বিরুদ্ধে অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তার দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আমরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ করে যাচ্ছি। নিজের এলাকার ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেছেন জ্যোতি এন্টারপ্রাইজ ওপেন টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে কাজ পেয়েছে। কাজ পাওয়ার জন্য প্রাথমিক ভাবে টেকনিক্যাল এবং পরে আর্থিক সাপোর্টের উপর নির্ভর করে কাজ দেওয়া হয়।


এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উখিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো: ইব্রাহীম খলিল সিএসবি ২৪ ডটকমকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও ফোরামের ওয়াশ প্রোগ্রামের কাজ করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলকে জানিয়ে অবহিতপত্র দিতে হয়। যেহেতু কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে। জেলা ও প্রশাসনকে না জানিয়ে ও অবহিতপত্র না দিয়ে কাজ করলে সেটা নিয়মবহির্ভুক্ত হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যে সব কাজ হচ্ছে এনজিও ফোরাম শুধুমাত্র ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি)কে অবগত করে এসব কাজ করে যাচ্ছে। এতে অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও কাজের মান নিয়ে অভিযোগ উঠলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিই। তিনি আরো বলেন, জাপানী সংস্থার অর্থায়নে এএআর একটি প্রকল্পে এনজিও ফোরাম হোষ্ট কমিউনিটিতে কাজ করছে।