ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষিদ্ধ সীম বিক্রির হিড়িক, বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২৬ ১৯:৪৩:৫১ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২৬ ১৯:৫৪:৩১


পলাশ বড়ুয়া:
কক্সবাজারের আশ্রিত রোহিঙ্গাদেরকে সীম বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও দেদারছে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশী টেলিকম কোম্পানীর সিম ও মোবাইল ফোন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভিতরে এবং আশপাশের বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে এসব অবৈধ সীম। অপরাধীচক্রের সদস্যরা নামে-বেনামে নিবন্ধিত এসব সীম নিয়ে খুব সহজেই অপরাধকর্মকান্ডের নীলনকশা করছে এমন অভিযোগ খোদ রোহিঙ্গাদের।

তাছাড়া রোহিঙ্গাদের কাছে সীম বিক্রির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে টেলিটকের বুথ স্থাপন করার। সরেজমিনে ঘুরে বুথ স্থাপনের বিষয়টি চোখে পড়েনি ক্যাম্প গুলোতে। বিষয়টি স্বীকার করে নেটওয়ার্ক সমস্যা জনিত কারণে এখনো বুথ করা হয়নি বলেন জানালেন পুলিশ। তবে এসব অনিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে অপরাধ করার আশঙ্কা থেকেই যায়। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।

গত সোমবার ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে। জানতে চাওয়া হলে ক্যাম্প-১০ এর এইচ-৩০ ব্লকের আবুল হাফেজের ছেলে আইয়ুব খাঁন বলেন, ২শ টাকা দরে তিনটি সিম কিনেছি। হাতে যেটা আছে এটা ৭/৮ বছর আগে মিয়ানমার থাকাকালে কিনেছি।

২৫ আগষ্ট পরবর্তী আসা অনেক রোহিঙ্গারা বলছে তাদের অনেকে পুরনো রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে তারা সিম কিনেছে। কেউ আবার কিনেছে স্থানীয় বাজার থেকে নিজে গিয়ে কিনেছেন। অপরাধ প্রবণতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ক্যাম্প ১৮ এফ-২২ এর রোহিঙ্গা নুর ইসলাম জানালেন, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের নয় রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পের পুরাতন রোহিঙ্গারাই নানা অপরাধের সাথে জড়িত আছে কর্মকান্ড করছে। একই ধরণের কথা বললেন ক্যাম্প-৫ এর জি-২ ফয়েজুল্লাহর ছেলে হাবিবুল্লাহ।


বিশাল এই রোহিঙ্গা জনগোষ্টি বাংলাদেশী সীম ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধ প্রবণতা বাড়ার আশংকায় করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এদিকে মিয়ানমারে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের কথাও স্বীকার করছেন অনেক রোহিঙ্গা নাগরিক। এভাবে অবৈধ পথে মিয়ানমারেও পাচার হচ্ছে বাংলাদেশি সিম। আবার কয়েকজন রোহিঙ্গা জানালেন, বাজার থেকে সিম কিনলেও কিছুদিন ব্যবহার করার পর তাদের সীম গুলো নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে।

২২ এপ্রিল উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, জামতলী, লম্বাশিয়া, মধুছড়া ক্যাম্পের ভিতরে এবং পার্শ্ববর্তী বাজার গুলোতে দেখা যায় মোবাইল ফোন ও সিম বিক্রির সারি সারি দোকান। এসব দোকান গুলোতে রোহিঙ্গাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ সীম কিনছে। কেউ ইজিলোড করছে। কেউ সীম কাটছে।

বিক্রেতারাও বলছেন বেচা-বিক্রি আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এসব সিম কার্ড বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছে না কেউই। কয়েকজন বিক্রেতা জানালেন, সবাই করছে আমরাও এই ব্যবসা করছি। আগে যদি ১৫-২০ টি সিম বিক্রি হতো এখন আরো একটু বেড়েছে। ইজিলোড বিক্রিও ভালো হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেছেন, অবৈধভাবে সিম কার্ড বিক্রির বিষয়টি নজরে রয়েছে তাদেরও। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং পুরো ক্যাম্পে যৌথ অভিযানেরও একটা প্রক্রিয়া চলছে। অবৈধভাবে সিম বিক্রির দায়ে এখন কিছুদিন আগেও ৫০ জনকে আটক করার কথা তিনি জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গারা ফোন ব্যবহার ও সিম বিক্রির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ক্যাম্প-৫ এর ক্যাম্প ইনচার্জ আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবাইদুল্লাহ বলেন সীম বিক্রির কোন ছবি থাকলে তাঁর কাছে নিয়ে যেতে। এছাড়াও ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের কথা বলার জন্য বুথ স্থাপনের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান। এ বিষয়ে জানতে টেলিটক কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন।