ঢাকা, শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২

১৯৩ শিক্ষার্থীকে সনদ ও সম্মাননা প্রদান করলেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো: শফিউল আলম

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২০ ১৮:২১:৫৩ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২০ ১৮:৪৭:৩০

শহীদ এ.টি.এম জাফর আলম স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা-২০১৮

পলাশ বড়ুয়া:
কক্সবাজারের উখিয়ায় প্রথমবারের শহীদ এ.টি.এম জাফর আলম স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা-২০১৮ পুরষ্কার বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় হলদিয়াপালং ইউনিয়নের “শহীদ এ.টি.এম জাফর আলম স্কুল এন্ড কলেজ” মাঠে ১৯৩জন শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো: শফিউল আলম।


এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো: শফিউল আলম কোমলমতি শিক্ষার্থী উদ্দেশ্যে বলেছেন, শহীদ এ.টি.এম জাফর আলম একজন হলদিয়াপালং ইউনিয়নের সাধারণ পরিবারের সন্তান ছিলেন। যিনি দীর্ঘ পথ পায়ে হেটে বিদ্যালয়ে যেতেন। তৈলের কুপি’র আলোতে পড়ালেখা করতেন। তৎকালে বর্তমানের সময়ের মতো এতো বিদ্যালয় বা সুযোগ-সুবিধাও ছিল না।

তিনি আরো বলেন, শহীদ জাফর আলম শিক্ষাজীবনে রুমখাঁপালং প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। মহেশখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন করে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে আইএসসি পাস করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যায়ন সম্পন্ন করেন।


রাষ্ট্রীয় কাজে কয়েকটি চিঠি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তিনি কলকাতা যান। সেখান থেকে ফেরার পরপরই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের প্রথম প্রহরে পাক্বাহিনীর হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে প্রথম শহীদ হন শহীদ এ.টি.এম জাফর আলম। তিনি ছিলেন তদানীন্তন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর মৃত্যু’র দুই মাস পর সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি)’র চিঠি এসে পৌঁছায়।

মেধা অন্বেষণে আগামীতেও এই বৃত্তি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান । অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘শহীদ এ.টি.এম জাফর আলম স্কুল এন্ড কলেজের’ নামে একটি ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন মো: শফিউল আলম ।

১৯৩ শিক্ষার্থীকে সনদ ও সম্মাননা প্রদান করলেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো: শফিউল আলম


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, উখিয়া উপজেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখান থেকে অনেক দূরবর্তী এবং মাত্র ২টি কলেজ যথেষ্ট নয়। তাই শহীদ এ.টি.এম জাফর আলম স্কুল এন্ড কলেজ কে একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজের রূপান্তর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।


স্বাগত বক্তব্য রাখেন শহীদ এ.টি.এম জাফর আলমের ছোট ভাই ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মো: শফিউল আলমের সহধর্মীনি ছৈয়দা শামীমা সুলতানা, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আযম, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আবছার, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের, এটিএম জাফর আলম স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মুনীর আহমদ, শিক্ষক কামাল উদ্দিন।


উপস্থিত ছিলেন উখিয়া সহকারী কমিশনার (ভুমি) ফখরুল ইসলাম, উখিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন, জিয়াউল হক হান্নান, শিক্ষক হাসান জামাল বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক মনোজ কুমার বড়ুয়া। সঞ্চালনা করেন আজিজুর রহমান।


উল্লেখ্য, শহীদ এ.টি.এম জাফর আলমের স্মৃতিকে ধরে রেখে প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়নের শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডার গার্টেনের ১ম শ্রেণি থেকে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত ১০১৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন।