ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

সৌদি আরব আরও ২৫০ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা

প্রকাশ: ২০১৯-০১-২১ ১০:৫২:৫৩ || আপডেট: ২০১৯-০১-২১ ১০:৫২:৫৩

 

অনলাইন ডেস্ক:

সৌদি আরব আরও ২৫০ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ পাঠাবে দেশটি। রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্টদের একটি গ্রুপ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের প্রচারণা সমন্বয়কারী নায় সান লুইন জানান, সৌদি আরবে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছে। তিনি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে রোহিঙ্গাদের ফেরত না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার আশঙ্কা, বাংলাদেশে পৌঁছার পরপরই ফেরত পাঠানো রোহিঙ্গাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগেরই বসবাসের অনুমতি রয়েছে এবং সৌদি আরবে বৈধভাবে বাস করতে পারে। কিন্তু জেদ্দাহর শুমাইসি কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে অন্য রোহিঙ্গার মতো আচরণ করা হয়নি। অপরাধীর মতো আচরণ করা হচ্ছে।

এই অ্যাক্টিভিস্টের সংগ্রহ করা একটি ভিডিও অনুসারে, কয়েক বছর আগে সৌদি আরব পৌঁছা এসব রোহিঙ্গাদের জেদ্দাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে। এখান থেকে তাদের ঢাকাগামী ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হবে। রোববার মধ্যরাতে বা সোমবার সন্ধ্যায় এসব রোহিঙ্গাদের বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারে।

সান লুইন জানান, অনেক রোহিঙ্গাই ভুয়া কাগজপত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও নেপালের মতো দেশের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছে। যখন এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পৌঁছাবে তাদের কারাগারে পাঠানো হতে পারে।  সৌদি আরবের উচিত এই প্রত্যর্পণ বন্ধ করে তাদের বসবাসের অনুমতি দেওয়া। যেমনটা এদের আগে আসা রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে করা হয়েছে।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয় ১৯৮২ সালে। এর ফলে রাখাইনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাসবাসকারী রোহিঙ্গারা দেশহীন হয়ে পড়েছে। মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুসারে রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এর ফলে তারা শিক্ষা, কাজ, ভ্রমণ, বিয়ে, ভোট, ধর্ম পালন ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।