ঢাকা, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২

সৈয়দ আশরাফের মরদেহ আসবে শনিবার

প্রকাশ: ২০১৯-০১-০৪ ২০:৩২:৩০ || আপডেট: ২০১৯-০১-০৪ ২০:৩২:৪৯

অনলাইন ডেস্ক:  জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামের বড় সন্তান, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ আগামীকাল শনিবার বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে দেশে আনা হবে।

তবে কোথায় সৈয়দ আশরাফকে দাফন করা হবে, এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার সূত্র। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে থাইল্যান্ডে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ আশরাফ ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত স্নেহধন্য ছিলেন। সৈয়দ আশরাফ এক মেয়ে, ভাই-বোনসহ অসংখ্য স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী
ছেড়ে যান।

ক্লিন ইমেজের নেতা বলে পরিচিত সাবেক এই জনপ্রশাসনমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন।

এদিকে সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। গণতন্ত্র, রাজনীতি ও সমাজ উন্নয়নে তার অবদান মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ রাষ্ট্রপতি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এ ছাড়া সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা ।

ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত সৈয়দ আশরাফ এতদিন ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ থেকে ছুটি নেন। দেশে না থেকেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ আশরাফ কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা) আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন। গতকাল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নিয়েছেন। তবে শপথ নেওয়ার জন্য সময় চেয়ে সৈয়দ আশরাফের চিঠিটি গতকালই স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারিতে ময়মনসিংহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। পারিবারিক ঐতিহ্যের সূত্র ধরেই সৈয়দ আশরাফ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন। স্বাধীনতার পর তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তিনি যুক্তরাজ্য চলে যান। প্রবাস জীবনে তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আশরাফুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের সেই মেয়াদে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার তিনি নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সৈয়দ আশরাফ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১৪ সালে জেতেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন তিনি। তার স্ত্রী শিলা ইসলাম ২০১৭ সালের অক্টোবরে মারা যান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে নেতিবাচক কোনো খবর নেই। তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরাও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং দলকে সংগঠিত রাখেন।