ঢাকা, রোববার, ৩ জুলাই ২০২২

বর্জন ও বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে কক্সবাজারে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন, চলছে গণনা

প্রকাশ: ২০১৮-১২-৩০ ১৮:২৬:০০ || আপডেট: ২০১৮-১২-৩০ ১৮:২৬:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হত্যা, বর্জন ও বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। প্রায় প্রতিটা কেন্দ্রে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল সকালই বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন।
কিন্তু কেন্দ্র দখল, ভোটে কারচুপি ও সমর্থকদের মারধরসহ নানা অভিযোগে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে নির্বাচন বর্জন করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। হামিদ আযাদের প্রধান এজেন্ট জাকের হোসাইন ৩০ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১২টায় কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
এছাড়াও কক্সবাজার সদর আসনসহ বাকি সংসদীয় আসনের বেশ কিছু কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষেে কক্সবাজার-১ আসনের পেকুয়ার রাজাখালী এলাকায় ছাত্রলীগের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন নিহতের দু’চাচাও।
পেকুয়া থানার ওসি জাকির হোসেন ভূঁইয়া জানান, রাজাখালী মাতবরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীর হামলায় আবদুল্লাহ আল ফারুক (২২) নিহত হন। তিনি ওলুদিয়াপাড়া পাড়ার মৃত আবুল কালামের ছেলে। এসময় তার দু’চাচা আবু তালেব ও আবদুল নওশেদ আহত হন। তিনজনকে আহতাবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেে নেয়া হলে সেখানে মারা যান ফারুক।
এছাড়াও কক্সবাজার শহরের নয় নম্বর ওয়ার্ডের খাজামঞ্জিল ভোট কেন্দ্র, ৭নং ওয়ার্ড এবিসি ঘোনা, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ৫নং ওয়ার্ডের শহীদ তিতুমির ইনস্টিটিউট, রহমানিয়া মাদ্রাসা, রামুর গর্জনিয়া পূর্ব জুমছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ বোয়ালখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভারুয়াখালী ঘোনারপাড়া, পিএমখালী চেরাংঘাটা মাদ্রাসা কেন্দ্রসহ আরো বেশ কিছু কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের সাথে আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ভীতি ছড়াতে ফাঁকা গুলিও বর্ষণ করা হয়। কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুজ্জামান বিচ্ছিন্ন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনায় ভোট গ্রহণে কোথাও ব্যাঘাত ঘটেনি।
অপরদিকে, সংঘর্ষ ও ফাঁকা গুলিতে রামুর গর্জনিয়া পূর্ব জুমছড়িতে ৬-৭ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। সাবেক শিবির ক্যাডার বিডিআর শফির নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়। শফি গর্জনিয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের অনুসারী বলে প্রচার রয়েছে।
এদিকে,  কক্সবাজার-২ আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভোটের আগের  রাত থেকে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। ভোটের দিন সকালেও কেন্দ্র দখল করে ভোট কেটে নেয়া হয়। আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চারটি ভোটকেন্দ্রে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে সরকারদলীয় লোকজন। অনেক ভোটারকে বেছে বেছে লাইন থেকে বের করে দেয়া হয়। ভোটের দিন রাত্রে অধিকাংশ কেন্দ্রে ৪০-৬০ শতাংশ নৌকা প্রতীকের ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে। আপেল প্রতিকের এজেন্ডদের বের করে দেয়া হয়।
অনেককে মারধর ও আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের অভিযোগ জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেয়ায় অবশেষে বাধ্য হয়ে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন জাকের হোসাইন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোন ভোট কেন্দ্রেই ব্যাঘাত ঘটেনি। এখন ভোট গণনা চলছে। গণনা শেষ হলেই জানা যাবে কত শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।