ঢাকা, সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২

নিরাপত্তার চাঁদরে ঢাকছে কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলো

প্রকাশ: ২০১৮-১২-২৬ ২০:২৩:৩০ || আপডেট: ২০১৮-১২-২৬ ২০:৪৮:৩৯

৯৬ প্লাটুন সেনা-নৌ-র‌্যাব-বিজিবি-পুলিশ সদস্য মাঠে, থাকছে ৮৬ ম্যাজিস্ট্রেট 
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ এবং  নির্বাচনে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনেও সোমবার থেকে  মাঠে নেমেছে সেনা-নৌবাহিনী, বিজিবি, র্যাবসহ নির্দিষ্ট সংখ্যক পুলিশ। সাথে রয়েছে ৮৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট। এতে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকছে জেলার আট উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলো।
কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অফিস সূত্র জানায়, জেলার নির্বাচনী নিরাপত্তায় ৩০ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৬ প্লাটুন নৌবাহিনী, ৪৮ প্লাটুন বিজিবি, পুলিশের ১০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ২ কোম্পানি র‌্যাব মাঠে নামানো হয়েছে। র‌্যাবের এ ২ কোম্পানি কক্সবাজারের পার্শবতী চট্টগ্রামের দুটি আসনেও টহল দায়িত্বে থাকবে। আনসার ও গ্রাম পুলিশ শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে ভোট কেন্দ্রে।
সূত্র আরো জানায়, কক্সবাজারের ৪ আসনের জন্য ৮৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্বে লাগানো হচ্ছে। এর মাঝে ৩২জন কক্সবাজারে আগে থেকে কর্মরত ছিলেন। বাকী ৫৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মন্ত্রণালয় থেকে চাওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনে ১০ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ১৩ প্লাটুন বিজিবি ও ৩ টি স্ট্রাইকিং ফোর্স নিরাপত্তার দায়িত্বে দেয়া হয়েছে।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ৫ প্লাটুন সেনবাহিনী, ৩ প্লাটুন নৌবাহিনী, ১১ প্লাটুন বিজিবি, পুলিশের ২ টি স্ট্রাইকিং ফোর্স। এছাড়া প্রয়োজন সাপেক্ষে দায়িত্বে লাগাতে রিজার্ভ রাখা হবে আরো ২ প্লাটুন বিজিবি।
আর কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে মাঠে থাকবে ১০ প্লাটুন সেনাবাহিনী, বিজিবি ১০ প্লাটুন, পুলিশের ৩ টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ছাড়াও রিজার্ভ রাখা হবে আরো ৪ প্লাটুন বিজিবি।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে নিরাপত্তার দায়িত্বে দেয়া হচ্ছে ৮ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৩ প্লাটুন নৌবাহিনী, বিজিবি ৬ প্লাটুন ও পুলিশের ২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স। আর প্রয়োজন মূহুর্তের জন্য রিজার্ভ রাখা হবে আরো ১ প্লাটুন বিজিবি।
এছাড়া কক্সবাজারের ৪টি আসনের ভোট কেন্দ্রে শৃংখলার দায়িত্বে থাকবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গ্রামপুলিশ ও আনসার বাহিনী।
র‌্যাব-৭ কক্সবাজার সূত্র জানায়, কক্সবাজারের ৪ টি আসনে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ২ কোম্পানির সমপরিমাণ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। কক্সবাজারের পাশাপাশি তারা দায়িত্ব পালন করবে চট্টগ্রামের দক্ষিণ সাইডের কক্সবাজারের লাগোয়া দুটি আসনের নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখভাল করবেন।
কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে ৪টি পৌরসভা ও ৭১টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৩১ জন। আর এ চারটি আসনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ নানা দলের ২৮ জন প্রার্থী স্ব স্ব প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে এদের মাঝে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাজী মুহাম্মদ ইলিয়াছ নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে প্রচারণা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। বাকীরা যে যার মতোই প্রচারণায় মত্ত রয়েছেন।