ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

আট প্রদেশ গঠনসহ ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা জাপার

প্রকাশ: ২০১৮-১২-১৫ ১২:৩৯:২৬ || আপডেট: ২০১৮-১২-১৫ ১৭:৩৫:০৫

 

অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৮ প্রদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতিসহ ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা)। গতকাল শুক্রবার বনানীতে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পার্টির পক্ষে এরশাদের বিশেষ সহকারী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ইশতেহার ঘোষণা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান, এসএম ফয়সল চিশতী, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান খান, আলমগীর সিকদার লোটন, যুগ্ম মহাসচিব মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক প্রমুখ।

আগামীতে ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রশাসনিক, সরকার পরিচালনা ও নির্বাচনের পদ্ধতি বদলে দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করে প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন, দুই স্তরবিশিষ্ট সরকার কাঠামো এবং নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি তাদের ভাষায় ‘গণতন্ত্রের বিকাশ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায়।

ইশতেহারে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, শিক্ষা পদ্ধতির সংস্কার, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে।

রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আগামী দিনের সরকার পরিচালনায় জাপার প্রথম অঙ্গীকার হচ্ছে দেশে সব ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে গণতন্ত্রের মাধ্যমে দেশের মানুষের কল্যাণ সাধন করতে হবে।

১৮ দফা ইশতেহারে বলা হয়-
এক. জাতীয় পার্টি দেশে প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করবে। আট বিভাগকে ৮টি প্রদেশে উন্নীত করা হবে। নাম হবে উত্তরবঙ্গ, বরেণ্য, জাহাঙ্গীরনগর, জাহানাবাদ, জালালাবাদ, চন্দ্রদ্বীপ, ময়নামতি ও চট্টলা। দুই. সরকার কাঠামো হবে দুই স্তরের। কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা হবে ফেডারেল সরকার। থাকবে ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদ। আর প্রদেশ চালাবে প্রাদেশিক সরকার। থাকবে প্রাদেশিক সাংসদ। প্রতিটি উপজেলা কিংবা থানাকে প্রাদেশিক সরকারের আসন বিবেচনা করা হবে।

তিন. প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন হলে ঢাকা থেকে ৫০ শতাংশ সদরদপ্তর প্রাদেশিক রাজধানীতে স্থানান্তর হবে। চার. নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। বর্তমান ব্যবস্থার বদলে ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে জয়-পরাজয় নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হবে। নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হবে ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’। পাঁচ. উপজেলা আদালত ও পারিবারিক আদালতসহ পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ব্যবস্থা চালু করে স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালী করা হবে। ছয়. ক্ষমতায় গেলে ‘এক বছরের মধ্যে’ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।

পাঁচ বছরের মধ্যে মামলাজট শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসবে। রাজনৈতিক মামলা করার প্রবণতা বন্ধ করা হবে। প্রতিশ্রুত প্রাদেশিক রাজধানীতে খোলা হবে হাইকোর্ট বেঞ্চ। সাত. শিক্ষা পদ্ধতিরও সংস্কার করা হবে। বাদ দেওয়া হবে সমাপনী পরীক্ষা। স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করবে।

এ ছাড়াও ধর্মীয় মূল্যবোধকে ‘সবার ঊর্ধ্বে’ স্থান দেওয়া হবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য জাতীয় সংসদে ৩০টি আসন সংরক্ষণ করা হবে। সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, চরাঞ্চলের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, ইউনিয়নভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিস্তৃতি ঘটানো এবং পল্লী রেশনিং ব্যবস্থা চালুর অঙ্গীকারও রয়েছে দলটির ইশতেহারে।

প্রতিটি উপজেলায় কৃষিভিত্তিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার পাশাপাশি অনগ্রসর অঞ্চলে শিল্প স্থাপনে জাতীয় পার্টি ‘অগ্রাধিকার’ দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।