ঢাকা, বুধবার, ১৮ মে ২০২২

বদি বাদ গেলেও স্ত্রী’র হাতে নৌকা নিয়ে নেতাকর্মীরা হতাশ

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২০ ১৮:২৫:৩২ || আপডেট: ২০১৮-১১-২০ ১৮:২৮:৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাদ পড়েছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সরকার দলীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদি। এ আসনে নৌকার মাঝি হচ্ছেন তাঁরই স্ত্রী শাহীনা আকতার চৌধুরী। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ-বিদেশে দলকে বিতর্কের উর্ধ্বে রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দলের হাই কমান্ড বিষয়টি জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত মাইনাস হলো দেশজুড়ে নানা বিতর্কে ও আলোচনা-সমালোচনায় থাকায় আবদুর রহমান বদি।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) সকালে দলের সাাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেছেন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি আর মনোনয়ন পাচ্ছে না। তিনি বলেন দলের নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্ত মতে, এবারে উখিয়া-টেকনাফ আসনে নৌকার টিকেট পাচ্ছেন বর্তমান এমপির স্ত্রী শাহীনা আকতার চৌধুরী। লাকী আসন খ্যাত কক্সবাজার-৪ আসন থেকে আলোচিত আবদুর রহমান বাদ গেলেও তাঁর স্ত্রীর হাতে নৌকা নিয়ে আওয়ামী পরিবারের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। একই ভাবে নৌকার বিজয় নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে সাধারণ ভোটারের মাঝে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আদিল চৌধুরীর কাছে বদি’র বাদ পড়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সিএসবি২৪ ডটকমকে বলেন, উখিয়া-টেকনাফের বর্তমান সাংসদ আবদুর রহমান বদি এ আসন থেকে ২৪জনকে মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ঢাকা নিয়ে গেছে। যাদেরকে জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে ৭লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচ করে মনোনয়ন ফরম কিনে দিয়েছেন। এটাও খতিয়ে দেখা দরকার।

তিনি আরও বলেন, বদি নৌকা মার্কা নিয়ে আবারও প্রার্থী হতে পারবে জেনে উখিয়া-টেকনাফের মানুষ টাকার আশায় বসে রয়েছে। টাকার কাছে বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমান কিছুই নয়। বদি’র স্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল কি না বলে।

তাদের উদ্দ্যেশ্যে আঞ্চলিক ভাষায় উদ্বৃতি দিয়ে আদিল বলেন, “যে দেশত এ ব, জুঁইর পুদত দি ন ব”। সর্বশেষ জননেত্রী শেখ হাসিনার মুখ থেকে না শোনা পর্যন্ত বদি’র স্ত্রীকে মনোনয়ন দিয়েছে এই কথার কোন ভিত্তি নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন আমরা তার জন্য কাজ করব।

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের টানা দুই মেয়াদে শিক্ষক, ব্যাংকার, প্রকৌশলী ও আইনজীবিকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত এবং ইয়াবা ইস্যুতে তুমুল আলোচনায় ছিলেন বিতর্কিত সাংসদ আবদুর রহমান বদি। পাশাপাশি একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে নিজে যেমন বিতর্কে জড়িয়ে যান, ঠিক তেমনি দলকেও ফেলেন নানা বেকায়দায়। যে কারণে প্রতিনিয়ত তাকে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের মাঝে বিরোধীতা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তবে সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে আম-জনতার কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষেও ছিল আবদুর রহমান বদি।

ইতিপূর্বে কক্সবাজার-৪ আসন থেকে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর দুই বার জাতীয় সংসদে যান আবদুর রহমান বদি। টানা ১০ বছর সংসদ সদস্য থাকার কারণে বিএনপির দূর্গে সাধারণ জনগনের মাঝে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন তিনি। কিন্তু ইয়াবা ও অন্যান্য ইস্যুতে তৈরি হওয়া বিতর্ক গুলো শেষ পর্যন্ত বদির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার পরও নৌকার টিকেট নিশ্চিত হয়নি এবার আবদুর রহমান বদির।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এ আসন থেকে এখন পর্যন্ত ২৭ জন প্রার্থী নৌকার মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত: ৪-৫ জন প্রার্থীর দলীয় অবস্থান শক্ত হলেও প্রায় সবারই জনপ্রিয়তা রয়েছে কম-বেশি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রভাষক বলেন বদি’র স্ত্রী শাহীনাকে মনোনয়নের বিষয়টি চাওর হলেও সাধারণ মানুষ তাকে কিভাবে নিচ্ছেন ? তিনি পারবেন তো সীমান্তবর্তী এবং গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে প্রতিনিধিত্ব করতে ? যদি বদি’র স্ত্রীকে মনোনয়ন দেন তাহলে এ আসনে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত হবে বলেও তিনি মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী সোহেল আহমদ বাহাদুর দীর্ঘ এক প্রতিক্রিয়ায় সিএসবি২৪ ডটকমকে বলেন, ওবায়দুল কাদের উখিয়া-টেকনাফের আসন সম্পর্কে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছেন। আবদুর রহমান বদি’র স্ত্রী শাহীনা দলের কোন নেতাকর্মীকে যেমন চিনেন না, তেমনি নেতাকর্মীরাও তাকে চিনে না। তিনি কোনদিন রাজনীতিও করেননি। আর দলের কেউ নয়। সে কেবল একজন গৃহীনি। তাকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি উখিয়া-টেকনাফের মানুষ মেনে নিতে পারছে না। আমিও ওবায়দুল কাদেরের এই সিদ্ধান্তে হতাশ। অবিলম্বে এই আসনে আওয়ামী পরিবারের একজন ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তিনি এও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ডেকে দল যাকে নমিনেশন দেয় তাঁর জন্য কাজ করতে বলেছেন। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে সরকারি কোন তদারকি সংস্থার রিপোর্টে আবদুর রহমান বদির স্ত্রীর নাম আছে সেটা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে এই আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি। অন্যথায় এ আসনে নৌকার মার্কার প্রার্থীকে বিজয় করা কষ্ট হবে বলে তিনি মনে করেন।