ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু বৃহস্পতিবার, প্রথম ধাপে ১৫ দিন চলবে

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১৪ ১১:০৫:১৭ || আপডেট: ২০১৮-১১-১৪ ১১:৩৬:০১

সিএসবি ২৪ ডটকম:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে অাশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে।

বৃহস্পতিবার থেকে পনের দিন প্রথম ধাপে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চলবে। ইতিমধ্যে ২হাজার ২শ ৬১জন রোহিঙ্গার নাম চুডান্ত করেছেন। পরিবারের সংখ্যা ৪৮৫। শরনার্থী ক্যাম্পে বসবাস কারী রোহিঙ্গারা নিজেদের বসত বাড়ীতে ফিরে যাবে।

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ব্লকের বাসিন্দা অাবুল ফয়েস (৫৫)অাবুল কালাম( ৪৫)বলেল, নিজ দেশে মরতে পারলে খুশি হব। অাত্না শান্তি পাবে। তবে মিয়ানমারে অাবারো নির্যাতন অাশংকা রয়েছে। একই ব্লকের মসজিদের ইমাম মৌলভী নুরুল অালম বলেন, স্বদেশে ফিরতে রাজি অাছি। অামাদের সহায় সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে। নাগরিকত্ব দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য উখিয়ার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্প প্রস্তুত করা হয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্টদূত উ লুইন ও গন্যমাধ্যমকে বলেন, অাগামী ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রথম ব্যাচে ২হাজার ২৬১ জন রোহিঙ্গা ১৫দিনে মিয়ানমার ফিরে যাবে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন দেড়শ জন করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে মিয়ানমারে। তিনি অারো বলেন নৌপথে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরে যাবে। প্রতিদিন ফিরে যাওয়ার সময় নির্ভর করবে জোয়ার-ভাটার উপর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সুত্রে জানা গেছে, প্রত্যাবাসনের জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোকে দুইটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। প্রথম তালিকায় ৮হাজার ২২জন ও দ্বিতীয় তালিকায় ২২হাজার ২২৪জন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নাম রয়েছে।

মিয়ানমার থেকে জানানো হয়েছে মিয়ানমারের ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য ভারত সরকার ২৮৫টি বাড়ি নির্মান করে দিয়েছে। অার চীন সরকার এক হাজার বাড়ির কাঠামো পাঠিয়েছ, যেগুলোর সংযোগ করলেই পূনবাড়িতে রূপ নেবে।

কূটনৈতিক সুত্রে জানা গেছে প্রথম ব্যাচের ২হাজার ২৬১জন রোহিঙ্গার মধ্যে যাচাই বাছাই শেষে ২৩জনের বিরুদ্ধে অাপত্তি করেছে মিয়ানমার।

উল্লেখ্য মিয়ানমার সামরিক জান্তার নির্যাতনের মুখে জীবন বাচাঁতে ২০১৭ সালের ২৫ অাগষ্ট থেকে উখিয়া -টেকনাফ ও বান্দরবানের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে রোহিঙ্গার ঢল নামে। প্রায় ১১লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া -টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অাশ্রয় নেন।