ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

প্রধানমন্ত্রী নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য, শাস্তির দাবিতে উখিয়া-টেকনাফে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১২ ১৬:২৭:০১ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১২ ১৬:২৯:৫৭

প্রধানমন্ত্রী নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য, শাস্তির দাবিতে উখিয়া-টেকনাফে বিক্ষোভ

টেকনাফ-উখিয়া সংসদীয় আসনের এমপি আবদুর রহমান বদিকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তুলনা করার ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।

সোমবারের দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি জনপ্রিয় বদি!’ শিরোনামের সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই সীমান্ত জনপদ উখিয়া-টেকনাফে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ চলছে।

গত শনিবার টেকনাফ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্থানীয় এমপি আবদুর রহমান বদির নির্দেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। সভায় টেকনাফ উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন সহ টেকনাফ পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা ছাড়াও এমপি বদির সমর্থিত গুটি কয়েক আওয়ামী লীগ নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও রবিউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে এমপি আবদুর রহমান বদি উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি।

ইউএনও কর্তৃক সভার আয়োজন প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, এমপি বদির জনপ্রিয়তা মূলত এখন শূন্যের কোঠায়। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বিতর্কিত এমপি বদির ডাকে এখন কেউ আর সাড়া দেয় না। এ কারণেই এমপি বদি সরকারি কর্মকর্তাকে দিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজনীতি করছেন।

এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন দলের সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা এমপি বদির গুণকীর্তন নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এক পর্যায়ে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এম জহির হোসেন এমপি বদির জনপ্রিয়তা নিয়ে বলতে গিয়ে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করে বসেন। এমনকি এমপি বদির ‘ডান হাত’ হিসাবে পরিচিত এম জহির হোসেন বলেন‘ বদি এমনই জনপ্রিয় যে আগামী ভোটে শেখ হাসিনা এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিপুল ভোটে হেরে যাবেন।’ এ ঘটনা নিয়ে সেই থেকেই এলাকায় তোলপাড় চলছে।

চাঞ্চল্যকর এ বিষয়টি নিয়ে সোমবারের কালের কণ্ঠে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই কক্সবাজারের রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গনে সরব আলোচনা চলছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে ঝড় উঠেছে। ফেসবুকে অনেকেই নানা মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়েছেন। আফসান খান নামের একজন তার ফেসবুক আইডিতে গতকাল স্ট্যাটাসে লিখেছেন ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার চেয়েও জনপ্রিয় সাংসদ এমপি বদিকে বয়কট করলাম। আমি দেশরত্ন ও নৌকার দালাল কিন্তু এমপি বদির দালাল না।’ এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমপি বদির তুলনা করে বক্তব্য প্রদানকারী আওয়ামী লীগ নেতার শাস্তির দাবিতে টেকনাফ-উখিয়ায় গত দু’দিন ধরে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ চলছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উখিয়া উপজেলার কোটবাজার বাসস্টেশনে স্থানীয় ছাত্রলীগের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভকারীরা এমপি বদির সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করার দায়ে এমপি বদির ঘনিষ্টজন আওয়ামী লীগ নেতা এম জহির হোসেনের শাস্তি দাবি করেন। বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে বক্তৃতা করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা মামুনুর রশিদ, আনোয়ার হোসেন কাজল, জয়নাল আবেদীন বাবুল, আজিজুর রহমান ও জয়নাল আবছার বাবুল প্রমুখ।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে এমপি বদির জনপ্রিয়তা বেশি বলে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রদানকারী টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এম, জহির হোসেনের সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ এক সভা আহবান করেছে। টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর একথা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রদানকারী টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এম, জহির হোসেন ঘটনার ৪ দিনের মাথায় আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এক ব্যাখ্যা দিয়ে দাবি করেন, তিনি সহজ সরল উদ্দেশেই এমন মন্তব্যটি করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশে এমন কথা বলেননি।

প্রসঙ্গত, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি এম জহির হোসেন আবদুর রহমান বদি এমপি নির্বাচিত হবার পর থেকেই তাঁর (এমপি বদি) অন্যতম ঘনিষ্টজন হিসাবে কাজ করছেন। এম, জহির হোসেনের এক ছেলে আলী জোহার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা ইয়াবা কারবারীর তালিকায় রয়েছেন।

টেকনাফ থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া মঙ্গলবার এমন তথ্যের সত্যতাও নিশ্চিত করেছেন। তবে নিজের ছেলে ইয়াবা কারবারী তালিকায় থাকা প্রসঙ্গে এম জহির বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা ইয়াবা কারবারীর তালিকায় এমপি বদির পরিবারের ২০/২৫ জন সহ আরো ৯০০ জনের নামই তো রয়েছে। তার ছেলের নাম থাকা এমন অস্বাভাবিক কিছুই নয়, বলেন এম, জহির। সূত্র: কালেরকণ্ঠ