ঢাকা, রোববার, ৩ জুলাই ২০২২

কক্সবাজারে নিখোঁজ চার স্কুল ছাত্র রাঙামাটি থেকে উদ্ধার

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১০ ১৮:১২:৪৪ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১০ ১৮:১২:৪৪

কক্সবাজারে নিখোঁজ চার স্কুল ছাত্র রাঙামাটি থেকে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজার সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ের নিখোঁজ চার ছাত্রকে রাঙামাটি থেকে উদ্ধার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ২ টার দিকে রাঙামাটি শহরের হোটেল রাজুর একটি কক্ষ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিৎ বড়–য়া।

তিনি জানান, থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোঃ শাহজালাল ৪ ছাত্রকে হোটেলের ৪০২ নম্বর কক্ষ থেকে উদ্ধার করে। তারা সম্পূর্ণ সুস্থাবস্থায় রয়েছে।

তারা সবাই কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রাইভেট ও স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে এ চার শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়।

উদ্ধারকৃতরা হলো- কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র কক্সবাজার বাজারঘাটা এলাকার এডভোকেট আব্দুল আমিনের বড় ছেলে এইচ এ গালিব উদ্দিন, শহরের কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকার আকতার কামাল চৌধুরীর ছেলে শাহরিয়ার কামাল সাকিব, একই এলাকার ফয়েজুল ইসলামের ছেলে শাফিন নূর ইসলাম, একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ও শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা উপাধ্যক্ষ মাওলানা জহির আহমদের ছেলে সাইয়েদ নকীব।

‘‘রাঙামাটিতে উদ্ধার হওয়ার চার শিক্ষার্থী নকীব, সাকিব, শাফিন ও গালিব বলেন, বাড়িতে বললে বেড়াতে যেতে দিবে না, তাই না বলেই রাঙামাটিতে বেড়াতে চলে আসি। শুধু আমরা চারজনই রাঙামাটিতে বেড়াতে আসি। আমাদের সাথে আর কেউ ছিল না।’’ আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার হওয়ার পর সাংবাদিকদের একথা বলেন শিক্ষার্থীরা।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) কামরুল আজম বলেন, রোববার সকালে ওই চার শিক্ষার্থী প্রাইভেট ও স্কুলের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরে না আসায় রাতে শহরে মাইকিং করা হয়। পরে পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ চার শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে সোমবার সকালে থানায় জিডি করে।

তিনি আরও বলেন, এরপর বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে ওই চার শিক্ষার্থী হোটেল রাজুতে অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত হই। সংখ্যায় তারা চারজন হলেও সাকিব নামে এক শিক্ষার্থীর নামে রুম বুকিং করা হয়। রাঙামাটি সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ চলছে।

রাঙামাটি পুলিশের বরাত দিয়ে ওসি আজম বলেন, শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে তারা স্বইচ্ছায় চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি এলাকায় বেড়াতে গেছে। তাদের সঙ্গে ফুটবলসহ খেলার নানা সরঞ্জাম রয়েছে।

নকীবের বাবা জহির আহমদ বলেন, নকীবের সঙ্গে রোববার সর্বশেষ সকাল ১১টায় মোবাইলে কথা হয়। প্রাইভেটের টাকা দেয়ার জন্য ৬০০ টাকাও নিয়েছিল সে। দুপুর ১২টায় স্কুল থাকলেও সে স্কুলে যায়নি বলে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, তার মতো আরও তিন শিক্ষার্থী স্কুলে যায়নি এবং রহস্যজনকভাবে তারাও নিখোঁজ থাকে।

কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইব্রাহিম বলেন, রোববার নকীব, সাকিব, শাফিন ও গালিব কেউ স্কুলে আসেনি। বিকেলে তাদের পরিবার থেকে যোগাযোগ করা হলে নিখোঁজের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। রাত অবধি বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও না পেয়ে সোমবার সকালে সবাই মিলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হই।

রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারের আবাসিক হোটেল রাজুর ম্যানেজার জানিয়েছেন, চার কিশোর রবিবার রাতে তাদের হোটেলে আসে। দুদিনের ১২’শ টাকা পরিশোধ করে ৪০২ নাম্বার রুমটি বুকিং নেয়। তিনি জানান, চারজনই চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটিতে ঘুরতে এসেছে জানিয়ে দু’দিন অবস্থানের কথা রেজিষ্ট্রি খাতায় এন্ট্রি করে।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, তারা বিদ্যালয়ের যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। পূর্বপরিকল্পনানুসারে রবিবার বিকেলেই কক্সবাজার থেকে রাঙামাটিতে পৌঁছে। সন্ধ্যায় হোটেলে ওঠে। মূলতঃ তারা চার বন্ধু মিলে রাঙামাটিতে ঘুরতে গেছে।