ঢাকা, সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২

চাকমারকুল রোহিঙ্গা বস্তিতে আগুন : ২৮ ঘর ভস্মিভূত

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৫ ১৩:২৯:৫৯ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০৫ ১৩:৩১:৪৯

চাকমারকুল রোহিঙ্গা বস্তিতে আগুন : ২৮ ঘর ভস্মিভূত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং চাকমারকুলস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্প বস্তিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে পুড়ে গেছে বস্তির ২৮টি ঘর। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কেও কিছুই বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি রনজিত বড়ুয়া।
পুড়ে যাওয়া ঐ রোহিঙ্গা বস্তির নিকটবর্তী এলাকা থেকেই সোমবার সকালে গলায় রক্তাক্ত জখম অবস্থায় রোহিঙ্গা তিন যুবককে উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
ওসি রনজিত বড়ুয়া জানান, টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তি থেকে প্রায় কয়েক কিলোমিটার ভেতরে পাহাড়ে গড়ে উঠা রোহিঙ্গা বস্তির ১৪টি ঘরে আগুন লাগে। প্রতিটি ঘটে দুটি করে কক্ষ ও এক কক্ষে একটি করে পরিবার বাস করতো এখানে। বাঁশ, চট এবং পলিথিনে গড়া ঘরগুলো একটার সাথে একটা লাগোয়া ভাবে তৈরী করায় মুহুর্তে সব ঘরে আগুন লেগে যায়। ২০-৩০ মিনিটের মতো সময়ে সব ভস্মিভূত হয়ে যায় বলে স্থানীয় রোহিঙ্গারা জানায়।
ওসি আরো জানান, খবর পেয়েই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। অগ্নিকান্ডে কেউ হতাহত হয়েছে কিনা খুঁজে দেখে পুলিশদল। ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন আগুনে ঘর পুড়লেও কেউ হতাহত হননি। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে ঘরে বসবাসকারিরা কেউ কিছু জানাতে পারছেন না।
ওসি রনজিত বড়ুয়া আরো জানান, খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্থানীয় ইউপি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্যত্র থাকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করছিলেন। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, গত ৩১ আগস্ট টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তিতে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভোলান্টিয়ার মো. আবু ইয়াছের (২২)কে হত্যা করে। তিনি হ্নীলা অনিবন্ধিত লেদা রোহিঙ্গা বস্তির এফ ব্লকের ১৫৬ নম্বর রুমের বাসিন্দা মো. ইসলাম মিয়া ছেলে ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটমান অপরাধ কর্ম রোধে আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম’র সহায়তায় গঠিত স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
এঘটনার তিন দিনের মাথায় লেদা অনিবন্ধিত ক্যাম্পের অনতিদূরে চাকমারকূল পাহাড়ি এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিকটবর্তী এলাকা হতে গলাকাটা জখমী রোহিঙ্গা তিন যুবককে ৩ সেপ্টেম্বর উদ্ধার করে টেকনাফ থানা পুলিশ। তারা হলেন, বালুখালি ক্যাম্পের সাইদ হোসেনের ছেলে নুর আলম (৪৫), কুতুপালং ডি  ব্লকের ৩ নম্বরের জামাল মোস্তাফার ছেলে মো. খালেক (২২) ও কুতুপালং ই ব্লকের ৩ নম্বরের আবদুল গাফ্ফারের ছেলে মো. আনোয়ার (৩৩) । তাদের উখিয়ার বালুখালি ক্যাম্প থেকে সোমবার ভোররাত আড়াইটার দিকে তাদের অপহরণ করে হোয়াইক্যং পাহাড়ে আনা হয়। তাদের সাথে অপহৃত অপর তিনজনকে উদ্ধার করে উখিয়া থানা পুলিশ।
এসব ঘটনার রেশ না কাটতেই সেই পাহাড়ি রোহিঙ্গা বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনায় স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। ধারাবাহিক ঘটনাগুলোর সাথে কোন যোগসূত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে আইন প্রয়োগকারি সংস্থার সদস্যরা।