ঢাকা, সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২

টেকনাফে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-৩০ ১৫:০৫:৪৬ || আপডেট: ২০১৮-০৮-৩০ ১৫:০৫:৪৬

টেকনাফে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
 কক্সবাজারের টেকনাফে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে পাষন্ড স্বামীকে গ্রেফতার করেছে টেকনাফ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে হোয়াইক্যং করাচিপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
২৮ আগস্ট দিবাগত গভীর রাতে পিঠিয়ে আহত করা প্রসূতি গৃহবধু ২৯ আগস্ট বিকেলে মারা যায়। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়ায় ঘটেছে এ ঘটনা।
নিহত গৃহবধু বেবী আক্তার (২০) হোয়াইক্যং কাঞ্জর পাড়ার মো. সোহেল ওরফে রুবেল (২৬) এর স্ত্রী।
পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।  ঘাতক সোহেল স্থানীয় আবুল কালামের ছেলে।
 টেকনাফ থানার ওসি রনজিত বড়ুয়া জানান, গত ৩ বছর পূর্বে কাঞ্জর পাড়ার মো. আইয়ুব আলী ও মুনিরা বেগমের মেয়ে বেবী আক্তারের সাথে একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে মো.সোহেল’র ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। গত কয়েক বছর ধরে স্বামী সোহেল মাদকাসক্ত  হয়ে পড়ে। সময়ে অসময়ে নানা অজুহাতে বেবীর উপর নির্যাতন চালাত। গত ৭ মাস আগে বেবী আক্তার এক ছেলে সন্তানের মা হন। তার নাম রাখা হয় মো. সাইফুল ইসলাম। ২৮ আগষ্ট রাত ১টায় সোহেল বাহির থেকে এসে বাড়ির দরজা খুলতে বলে। তখন প্রসূতি বেবী কান্নারত শিশু সন্তানকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। স্বামীকে দরজা খুলে দিয়েই কান্নারত শিশুটির পাশে যান বেবী। শিশুকে ঘুমপড়াতে দেরি হওয়ায় স্বামীকে তৎক্ষনাত ভাত দিতে পারেননি। অকস্মাত স্বামী ‘খাবার আনতে এতো দেরী কেন’ বলে বেবীকে এলোপাথাড়ি লাতি ও ঘুষি মারতে থাকে। এতে প্রসূতি বেবী তল পেটে মারাত্মক আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এসময় স্থানীয় পল্লী চিকতসকের কাছে প্রাইমারী চিকিৎসা করে। অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৯ আগষ্ট দুপুরের পর হ্নীলা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়ার পথে বেবী মারা যান।
ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া আরো জানান, অভিযোগ উঠেছে সোহেল ও তার বাবা বেবী আক্তারকে চিকিৎসা করাতে গাফিলতি করায়য় বেবী অকালে মারা যায়।
নিহত বেবীর পিতা আইয়ুব এসব উল্লেখ করে অভিযোগ দিয়েছে। যা হত্যা মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করা হয়েছে। এতে বেবীর স্বামী সোহেল, শ্বশুর আবুল কালামসহ বেশ কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে। ধৃত সোহেলকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।