ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

সু চির বক্তব্যে ‘হতাশ’ বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২৩ ১৭:১১:৩৮ || আপডেট: ২০১৮-০৮-২৩ ১৭:১৫:৩২

সু চির বক্তব্যে 'হতাশ' বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আটকে থাকার জন্য কার্যত বাংলাদেশকে দায়ী করেছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া না হলেও বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘নভেম্বরে সই হওয়া প্রত্যাবাসন চুক্তির ১০ মাস পরেও প্রধান কোনো শর্তই মিয়ানমার বাস্তাবায়ন করেনি।’ বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কমিশনার আবুল কালাম বলেন,’দুটি অভ্যর্থনা ক্যাম্প ও একটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করা ছাড়া কিছুই করেনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।’

এদিকে গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে এক বক্তৃতায় সু চি বলেন, ‘মিয়ানমার শরণার্থীদের নিতে প্রস্তুত, তাদের পুনর্বাসনের জন্য জায়গাও ঠিক হয়েছে। কিন্তু তাদের পাঠানোর দায়িত্ব মূলত বাংলাদেশের।’ তার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কমিশনার আবুল কালাম আরও  বলেছেন, ‘মূল সমঝোতা চুক্তিতে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, তারা প্রত্যাবাসিত হবে তাদের নিজেদের গ্রামে। সম্ভব হলে স্বগৃহে এবং কোনো কারণে যদি সেটি সম্ভব না হয়, তাহলে তাদের এমন স্থানে নিতে হবে, যেটি তাদের গ্রামের নিকটবর্তী। কিন্তু মিয়ানমার মোটাদাগে শুধু দুটি অভ্যর্থনা ক্যাম্প ও একটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করেছে।’ আবুল কালাম আরও জানিয়েছেন, সপ্তাহ দেড়েক আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে তিনিসহ বাংলাদেশের যে প্রতিনিধি দল মিয়ানমার গিয়েছিল, সে সময় তাদের ঐ তিনটি ক্যাম্প তারা দেখিয়েছেন।

এদিকে কক্সবাজারে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একজন নেতা মো: নূর জানান, জমিজমা বা নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে তারা ফিরে গেলে আবারও নির্যাতনের মুখে পড়তে হবে বলে তারা মনে করেন। ‘আমাদের ফেরত নেয়ার বিষয় নিয়া কিছুই করে নাই মিয়ানমার সরকার। আমাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনাই তারা করে নাই। এটা হইলো, দুনিয়াতে নাটক বানাইতেছে মিয়ানমার সরকার।’

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য নিযুক্ত একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার শিউলী শর্মা বিবিসিকে জানান, রোহিঙ্গাদের এখন ফেরত পাঠানো হলে তাদের আবারও আগুনের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে। ‘শরণার্থীরাও মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার প্রশ্নে নিরাত্তাহীনতায় ভুগছে। আমরাও যারা তাদের সহায়তায় কাজ করছে, আমরাও এমন একটা পরিবেশে তাদের ফেরত পাঠাতে পারি না।’

এদিকে রোহিঙ্গারা যাতে সব অধিকার নিয়ে স্বেচ্ছায় নেজের দেশে ফিরতে পারে, সেটা মিয়ানমারকেই নিশ্চিত করতে হবে বলে  মনে করেন বিশ্লেষকরা।- আমাদের সময়