ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে রাস্তায় নেমেছে ছাত্রলীগ

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২২ ১৬:২৭:১৮ || আপডেট: ২০১৮-০৮-২২ ১৬:২৭:১৮

কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে রাস্তায় নেমেছে ছাত্রলীগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দূর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করা কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে মাঠে নেমেছে কক্সবাজারের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। বুধবার দুপুর ১২ টা থেকে পৌরশহরের বিমান বন্দর সড়কের পাশে পড়ে থাকা বর্জ্য অপসারণ দিয়ে এ যাত্রা শুরু করেছেন তারা।
বর্জ্য অপসারণে নেতৃত্ব দেয়া কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মইন উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশব্যাপী চলছে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর কোরবানির ঈদ উদযাপন। আল্লাহর সন্তুষ্ঠি অর্জনে পাড়ায় মহল্লায় দেয়া হয়েছে অসংখ্য পশু কোরবানি। গ্রামে খোলা জায়গায় পশু জবাই হলেও শহরের সংকীর্ণ এলাকায় পশু জবাই হয়েছে রাস্তার ধারে, পথের উপর। কক্সবাজার পৌর শহরেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। কিন্তু অনেকে জবাই করা পশুর নিথর দেহটা উঠুনে কিংবা বাসাবাড়ির বারান্দায় নিয়ে মাংস কাটাকাটি ও ভাগ বসানো নিয়ে ব্যস্থ। কিন্তু বর্জ্যগুলো তৎক্ষণাত অপসারণ হয়নি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের তাপ বাড়ায় দূর্গন্ধ ছড়ানো শুরু করে বর্জ্যগুলো।
তিনি আরো জানান, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সিডিউলে উপসড়ক গুলোতে কবে আসবেন তার সঠিক সময় নির্ধারণ নেই। তাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধ হয়ে বর্জ্য অপসারণে মাঠে নেমেছি।
মইন জানান, পশু জবাই করা স্থানগুলো পরিষ্কার করে সেখানে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দূর্গন্ধ মুক্ত করার চেষ্ঠা করছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা৷ বিমানবন্দর সড়ক হিসেবে এটি ভিআইপি এলাকা। ঈদ উপলক্ষ্যে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বিমান থেকে নেমে এ সড়ক দিয়েই হোটেল ও গেস্ট হাউসে যাচ্ছে। বর্জ্যের দূর্গন্ধে পর্যটক এবং স্থানীয়রা নাকে রুমাল দিয়ে চলছে দেখে আমরা তা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে মাঠে নেমেছি।
দুপুরে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নিজ উদ্যোগে বাসাবাড়ি থেকে পাইপ টেনে পানি দিয়ে রাস্তায় জমে থাকা রক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন। পশুর নাড়ি-ভুড়ি-হাড়-বর্জ্য একটা নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে পরে বালতি ভরে সেগুলো দূরবর্তী ডাস্টবিনে রেখে আসা হয়। মেয়রের এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বর্জ্য অপসারণে নেমেছে খবর পেয়ে অন্যান্য ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরাও কাজে নেমেপড়ে বলে জানায় স্থানীয়রা।
কক্সবাজার পৌর মেয়র জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, এটি বন্দনা যোগ্য কাজ। পর্যটন নগরীর বাসিন্দা হিসেবে নিজ এলাকা পরিস্কার রাখতে পৌরসভার পাশাপাশি নিজেদেরও যে দায়িত্ব রয়েছে সেটাই তারা প্রমাণ করেছে। কক্সবাজার পৌর ও ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বর্জ্য অপসারণে নেমে যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে তা আগামীতে পরিচ্ছন্ন দেশ গঠনে তাদের অনুপ্রাণিত করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পৌর মেয়র জানান, কক্সবাজার পৌর এলাকার ১২ ওয়ার্ডের ৬১ স্পটে এবার কোরবানির পশু জবাই করার স্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপরও কিছু কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন ভাবে পশু জবাই হয়েছে। সেসব এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ক্রমে বর্জ্য অপসারণ করছে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের পূর্বে সদর আসনের সাংসদ সাইমুম সরোয়ার কমল, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব অধ্যক্ষ মাহমুদুল হকের ঈমামতিতে এবারো প্রায় ২০ হাজার মুসল্লী ঈদের নামাজে অংশ নেন। পরে দেশ ও জনগণের কল্যান কামনায় মুনাজাত করা হয়।