ঢাকা, রোববার, ৩ জুলাই ২০২২

ব্যস্ততা বেড়েছে কামার শিল্পীদের, নেয়া হচ্ছে বাড়তি দাম

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২০ ১৬:৫৫:০৬ || আপডেট: ২০১৮-০৮-২০ ১৬:৫৫:০৬

ব্যস্ততা বেড়েছে কামার শিল্পীদের, নেয়া হচ্ছে বাড়তি দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক.
কোরবানি ঈদের বাকি মাত্র আর দুদিন। মুসলমান হিসেবে সমাজে বাসকরা প্রতিটি ঘরে যাবে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর কোরবানির পশুর মাংস। তাই যারা কোরবানি দিচ্ছেন তারা পছন্দের পশু কিনতে হাটে হাটে ঘুরছেন। তাদের পরিবারের অন্য সদস্য এবং যারা কোরবানি দিতে না পারলেও মাংস ঠিকই পাবেন তারাও কাটা-কাটির সরঞ্জাম কিনতে কামারের দোকানে ভীড় জমাচ্ছেন।
কেউ কেউ শান দিতে নিয়ে যাচ্ছেন পুরোনো সরঞ্জাম। তাই নতুন পুরোনো ছুরি, চাপাতি, দা, বটি, ছোট চাকু তৈরী এবং শান দিতে দিনরাত ঘুমহীন   ব্যস্ত সময় পার করছেন কক্সবাজারের কামার শিল্পীরা।
শুধু কক্সবাজার জেলা শহরে নয় উপজেলা ও ইউনিয়ন কেন্দ্রীক কামাররাও চরম ব্যস্ততায়  সময় পার করছে। কথা বলার ফুরসুরত নেই তাদের। দিন-রাত সমান তালে টুং,টাং শব্দে ঝড় তুলে নিপুণ কারিশমায় তৈরি করছে নানা ধারালো সরঞ্জাম।
কোরবানির দিন ঘনিয়ে আসায় কামার পল্লীর দোকানের সামনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরণের ধারালো অস্ত্র। ক্রেতারা পছন্দের প্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনতে ভীড় করছেন দোকানগুলোতে। ক্রেতার সংখ্যা বাড়ায় দামও বাড়তি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন অনেকে। এরপরও বিকিকিনি থেমে নেই।
কক্সবাজার শহর, চকরিয়া ও ঈদগাঁওর কামারপল্লী ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন কাজ চলছে। দম ফেলার সময়ও নেই অনেক কামারের। পুরো অর্ডার পূর্ণ করা ছাড়া শনিবার থেকে নতুন দা, ছুরি বানানোর অর্ডার নিচ্ছেন না তারা।
দোকানিরা জানায়, প্রতিটি দা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা, ছোট ছুরি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, বটি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাপাতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু লোহার তৈরি জিনিস নয় রয়েছে স্প্রিং ও স্টিলের তৈরী ধারালো অস্ত্রের চাহিদাও।
বড় বাজার এলাকার শিমুল কর্মকার বলেন, কোরবানির ঈদে কামার পাড়ায় কাজের চাপ বাড়ে। পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস ও হাড্ডি কাটার জন্য দা, ছুরি, চাপাতি, ছোট-বড় চাকু ও ছুরির চাহিদা থাকে। সারা বছর কাজ নেই বললে চলে। ঈদকে সামনে রেখে তৈরি জিনিসগুলোর কদর খুব বেশি। কোরবানি দেয়ার সামর্থ না থাকলেও সামাজিক বরাদ হিসেবে সব মুসলমান মাংসের ভাগ পেয়ে থাকে। তাই সব শ্রেণীর মানুষ পুরোনো দা, বটিও শান দিচ্ছে।
ঈতগাঁও বাজারে ছুরি কিনতে আসা শাহ আলম সওদাগর জানান, একটি বড় ছুরি ৫০০ ও ছোট দুটি ছুরির দাম রেখেছে ৩৫০ টাকা। বাজারে কোরবানি পশুর দামের সাথে পশু কাটার সরঞ্জামেরও দাম বাড়তি রাখছে কামারেরা। সাধারণ মানুষগুলোই সব সময় নিষ্পেষিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।