ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

মহেশখালীতে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করলো প্রতিপক্ষ

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৬ ১২:৩৩:২৬ || আপডেট: ২০১৮-০৮-১৬ ১২:৩৩:২৬

মহেশখালীতে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করলো প্রতিপক্ষ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াবুল হক (৪০)।
বুধবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে মাতারবাড়ীর বাংলাবাজার এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন  প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শরীর থেকে তার হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে গুরুতর জখম করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টায় তিনি মারা যান।
নিহত জিয়াবুল হক উপজেলার মাতারবাড়ীর মগডেইল গ্রামের ফরিদুল আলমের ছেলে ও ইউপি সদস্য সরোয়ার কামালের ভাই।
এলাকাবাসী জানায়, সাবেক যুবলীগ নেতা জিয়াবুলের সাথে একই এলাকার সামশুল অালমদের জায়গা জমি সংক্রান্তে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে অাসছিল।
১৫ অাগষ্ট বুধবার জিয়াবুল হক ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মাতারবাড়ী বাংলাবাজারে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন জিয়াবুলের উপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার ডান হাত ও দুই পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
অাহত জিয়াবুলের ছোট ভাই ইউপি মেম্বার সরওয়ার জানান, তার ভাইকে মুমুর্ষ অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যায়।
তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী জিয়াবুল হক’র বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে চাঁদাদাবী করে আসছিল। এ ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও হয়েছে। বিষয়টি মহেশখালী থানা ও মাতারবাড়ির পুলিশ ফাঁড়িকে কয়েক দফা অবহিত করা হয়। এর ধারবাহিকতায় বুধবার জিয়াবুলকে বাজারে পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শামসুল আলম, কাইচার হোসেনরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ডান হাত ও দুই পায়ে কুপিয়ে শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাতারবাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মাহমুদুল্লাহ বলেন, জিয়াবুলের উপর হামলার সাথে আমার কোনো ধরণের সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি সারাদিন শোক দিবসের আলোচনায় অংশ নিতে উপজেলা সদরে ছিলাম। তার ভাই সরওয়ার মেম্বারের সাথে পরিষদ সংক্রান্ত বিরোধ থাকার জের ধরে এ ঘটনায় আমাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তিনি প্রকৃত দোষীদের বের করতে প্রশাসনের নিরপক্ষ তদন্ত দাবী করেন।
মৃত্যুর বিষয়টি মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ  প্রদীপ কুমার দাশও নিশ্চিত করে বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিয়াবুলকে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে রাতে মাতারবাড়ীতে অভিযান চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।