ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সহজতর হবে : ত্রাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৪ ১৮:৪২:০৮ || আপডেট: ২০১৮-০৮-১৪ ১৮:৪২:০৮

বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সহজতর হবে : ত্রাণমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রেহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে সবপক্ষকে একিভূত হয়ে কাজ করা জরুরি উল্লেখ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন,  যেকোন সংকটে আমরা ঘুরে দাড়াতে পারি তার প্রমাণ এ রোহিঙ্গা সংকট। এক সাথে এত সংখ্যক শরণার্থী এলেও একটি মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। এটিই মানবতার জন্য আমাদের লড়াইয়ের বড় সফলতা। এ সফলতা আনায়নে কক্সবাজারের মানুষ রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখন রোহিঙ্গাদের সফল প্রত্যাবাসনকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা পেলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সহজতর হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসে বেসরকারি সংস্থা এ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে শুরু হয় আলোচনা। এতে কক্সবাজার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
তারা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। এক বছরে সংকট মোকাবেলায় রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে রেহিঙ্গাদেরকে তাদের মাটিতে ফিরিয়ে নিতে সবার একসঙ্গে কাজ করাটা জরুরি। সংকটের সুষ্ঠু সমাধানে ডকুমেন্টেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এজন্য ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়াতেও গুরুত্ব দেয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ে রয়েছে, যাদের বেশীরভাগই নারী এবং শিশু। দেশহীন রোহিঙ্গারা সারাবিশ্বের সবচেয়ে বিপদাপন্ন জাতির মধ্যে একটি, যারা ন্যূনতম মানবিক অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নাগরিক হিসেবে মিয়ানমার কর্তৃক স্বীকৃতি পায়নি, যেখানে তারা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ এবং সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এরই ফলে সর্বপ্রথম সত্তরের দশক, এরপরে নব্বইয়ের দশক এবং সর্বশেষ গত তিনবছরে তারা বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে অনুপ্রবেশ করেছেন। ২০১৭ এর অগাস্টের পূর্বে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে এসে অবস্থান করছেন। রাখাইন রাজ্যে নতুনভাবে সহিংসতা এবং নির্যাতন শুরুর পর গেল বছরের ২৫ অগাস্টের পর আবার ৮ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসেন। এত অল্প সময় বিশাল সংখ্যক মানুষের দেশছাড়া হওয়ার ঘটনাটাটি বিশ্বেও সবচেয়ে দ্রুত বর্র্ধিত শরণার্থীর আশ্রয়স্থল হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে সারাবিশ্বে পরিচিত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামাল।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসায় স্থানীয় জনগণ ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের দৃশ্যগুলো ধারণ করায় চিত্রগ্রাহক এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজক এ্যাকশনএইড বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান বক্তারা। ছবিগুলো ভবিষ্যতে ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের’ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মতদেন তারা।
এ্যাকশনএইড বাংলাদেশের বোর্ড প্রধান ব্যারিস্টার মঞ্জুর হাসান ওবিই’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আলোকচিত্রী মাহমুদ রহমান, এ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরসহ অন্যরা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সনের আগস্টের ঘটনার পরপর বাংলাদেশ সরকার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এ সংকট উত্তেরণে মানবিক সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। হাজার হাজার একর জমি রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়।  আশ্রয় শিবির নির্মাণ, খাদ্য, পুষ্টি, পানি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, প্রাথমিক শিক্ষা ইত্যাদি সেবা দেয়া হচ্ছে প্রথম থেকেই। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিত্য জীবনের  চিত্র এবং গল্পগুলি তুলে এনেছেন আলোকচিত্রী মাহমুদুর রহমান। বেঁচে থাকার আকুতি, জীবনসংগ্রাম, মানবিক শক্তির স্পষ্ট অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে চিত্র প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবিগুলোতে। হৃদয়স্পর্শী ছবিগুলো শুধু অসহনীয় কষ্ট, মানসিক আঘাত এবং অসহায়তাকে তুলে ধরেনা, বরং মর্মভেদী গল্পগুলো বন্ধন এবং ভাতৃত্বকেও প্রকাশ করে।