ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

এবারও আশা-নিরাশায় রোহিঙ্গাদের কোরবানীর ঈদ

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১২ ২২:৪৩:৫২ || আপডেট: ২০১৮-০৮-১২ ২২:৪৩:৫২

এবারও আশা-নিরাশায় রোহিঙ্গাদের কোরবানীর ঈদ

পলাশ বড়ুয়া:

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গারা কোরবানের ঈদ উদযাপন নিয়ে এবারও আশা-নিরাশায় ভুগছে। কিভাবে তারা কোরবান করবে ? মাংস পাবে কোথায় ? আসন্ন কোরবানের ঈদকে নিয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোরবানের ঈদ কিভাবে করছে এবং ঈদ পালন করতে গিয়ে নামাজ শেষে কোরবানির গরু জবাই দিতে পারছে কিনা ? সব মিলিয়ে আশ্রিত বিশাল এ রোহিঙ্গা জনগোষ্টির জন্য চাহিদা মত গরুর মাংসও ভাগ্যে জুটছে কিনা এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তাদের মাঝে।

রোববার দুপুরে কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদ নিয়ে তাদের মাঝে আশা-নিরাশার অনেক কথাবার্তা। কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নাগরিক শফিক আহমদ ও ছখিনা খাতুনসহ অনেকে জানান, তারা স্বাচ্ছন্দে কোরবানের ঈদ উদযাপন করতে চায় এবং চাহিদা অনুযায়ী কোরবানির মাংস পেলে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে খেতে পারবে। এতে অন্তত: ঈদ উদযাপনের মত আনন্দ একটু হলেও পাবে বলে আশা তাদের।

বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন নিয়ে কথা হয় রোহিঙ্গা নবী হোছন ও বেলাল আহমদের সাথে। তারা বলেন, গত বৎসর ঠিক এই সময় নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে বাংলাদেশে। গত কোরবানের ঈদ কেটেছে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে পথে ঘাটে। মাংস তো দূরের কথা ঠিক মত ঈদের নামাজটাও আদায় করতে পারিনি। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় হলেও সামনের কোরবানের ঈদ ঠিক ভাবে করতে পারব কিনা তা নিয়ে নানা চিন্তায় আছি।

কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ নুর সিএসবি’কে বলেন, প্রশাসনিক ভাবে প্রত্যেক রোহিঙ্গা পরিবারকে মাংস দেওয়ার কথা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ কোরবানি করতে পারবে কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা তো আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল নয়। তবে কেউ কোরবানি করছে কিনা সে ব্যাপারে তিনি পরিষ্কার ভাবে জানাতে পারেনি।

ইতিপূর্বে বিভিন্ন ব্যক্তি ও দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত মেগা ক্যাম্প কুতুপালং রোহিঙ্গাদের জন্য ঠিকই কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়। তবে পুরাতন ও নতুন আশ্রিত ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গাদেরকে কিভাবে এনজিও ও দাতা সংস্থা মাংস বিতরণ করবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা অনিশ্চয়তা। এ পর্যন্ত ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ কোরবানির ঈদ নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা গণমাধ্যমকে জানায়নি।

এমএসএফ এর তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ১১ আগষ্ট, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’র আক্রমণ ও পরবর্তীতে মায়ানমার সামরিক বাহিনীর তথাকথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন উদ্দেশ্যমূলক সহিংসতা থেকে বাঁচতে ৭ লাখের এর বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

এ ব্যাপারে জানার জন্য কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মো: রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী রবিন জানান, গতকাল ১২ আগষ্ট জেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে কোরবানির ঈদে রোহিঙ্গাদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী গরু, মহিষ, ছাগলসহ ২০ হাজার মাংসের প্যাকেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এসব দেখভালের জন্য উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, ক্যাম্প প্রশাসন, ওসি ও জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি থাকবে। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মাঝে ব্যক্তি, এনজিও এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে এসব গরু দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রাও গরুর মাংস পাবেন বলে তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের বলেন, উখিয়া থানা পুলিশ কোরবানের ঈদে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সংস্থা, এনজিও এবং দানশীল ব্যক্তিদের প্রদানকৃত মাংস শৃঙ্খলার মাধ্যমে বিতরণে সবধরণের সহযোগিতা প্রদান করবে।