ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট ২০২২

উত্তর রাখাইনে স্বাধীন মানবিক সংস্থার প্রবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবা এখনও রুদ্ধঃ এমএসএফ

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১১ ০০:২১:০৭ || আপডেট: ২০১৮-০৮-১১ ০০:২১:০৭

উত্তর রাখাইনে স্বাধীন মানবিক সংস্থার প্রবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবা এখনও রুদ্ধঃ এমএসএফ

আমস্টারডাম, ১১ আগস্ট ২০১৮ – আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স / ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)–এর মতে, স্বাধীন মানবিক সংস্থাগুলো উত্তর রাখাইনের অরক্ষিত ও ঝুঁকিতে থাকা সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো যথেষ্ট বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় মানবিক ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের অনুপযুক্ত পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

২০১৭ সালের ১১ আগস্টে, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’র আক্রমন ও পরবর্তীতে মায়ানমার সামরিক বাহিনীর তথাকথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে, মিয়ানমার সরকার এমএসএফ-এর উত্তর রাখাইনের মেডিক্যাল কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এক বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও এখনও এমএসএফ সেখানে কাজ করতে পারছে না।

 

এমএসএফ-এর মিয়ানমারের অপারেশন ম্যানেজার বেনোয়া দ্য গ্রিজ বলেন, “উত্তর রাখাইনে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র পরিস্থিতির যাচাই ও মূল্যায়নের অভাবের কারণে এখন পর্যন্ত কেউই পুরোপুরি জানতে পারছে না সেখানকার মানবিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা আসলে কতটুকু”। মিয়ানমার সরকারের কাছে এমএসএফ বারবার আবেদন করেছে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যাতায়াত ও মেডিক্যাল কার্যক্রমের অনুমতির চেয়ে। কিন্তু প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কল্যাণে এটি এখনও অসম্ভব। “এমএসএফ আবারও মিয়ানমার সরকারকে অনুরোধ করছে উত্তর রাখাইনে সকল স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মানবিক সংস্থার অবিলম্বে পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য। যেন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য চাহিদা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়।”

 

এমএসএফ উত্তর রাখাইনের সকল জনগোষ্ঠীকে ১৯৯৪ সাল থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলো। ২০১৭’র ১১ আগস্টে যখন এমএসএফ-এর কর্মকান্ড বন্ধ করা হয়, তখন উত্তর রাখাইনে এমএসএফ-এর চারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক ছিল – এর মধ্যে তিনটি পরে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই চারটি ক্লিনিকে প্রতি মাসে ১১,০০০ এর বেশি রোগীকে প্রাথমিক ও প্রসূতি সেবা দেয়া হত। পাশাপাশি ছিল জরুরি অবস্থার রোগীদের যাতায়াত ও হাসপাতালের ভর্তি করানোর সাহায্য।

 

২৫ আগস্ট-পরবর্তী উদ্দেশ্যমূলক সহিংসতা থেকে বাঁচতে ৭০০,০০০ এর বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। উত্তর রাখাইনের অনেক স্থানকে জনশূন্য করা হয়েছে। তবে এখনও রাখাইন প্রদেশজুড়ে ৫৫০,০০০ থেকে ৬০০,০০০ রোহিঙ্গা আছে। দ্য গ্রিজ বলেন, “উত্তর রাখাইনের রোহিঙ্গাদের এবং স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায় ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য চাহিদা স্বাধীন ও পুংখানুপুংখভাবে যাচাই করতে হবে”।

 

চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হলেও মংডুতে এমএসএফ-এর কর্মীরা এখনও আছে। সেখানকার রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে আমরা সব সময়ই শুনি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য তাদেরকে কি রকম সমস্যার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। মুসলমান রোগীদের স্বাধীনভাবে চলাফেরায় বাধা আছে এখনও। আরও আছে অতিরিক্ত মেডিক্যাল ফি দেয়ার বাধ্যবাধকতা, যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে।

 

এমএসএফ-এর মিয়ানমার টিম একজনের* সাথে কথা বলেছিল যিনি কয়েক মাস আগে তাঁর মায়ের চিকিৎসার জন্য উত্তর রাখাইন থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাঁর মা পরে বাংলাদেশেই মারা যান। “আমরা সিত্তওয়ে বা ইয়াঙ্গুনে যেতে পারি না, তাই আমাদের চিকিৎসার জন্য একমাত্র রাস্তা থাকে সীমানা পার হয়ে বাংলাদেশে আসা।” তাঁরা এমএসএফ-কে বলেন। “এই রুট অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আমার খুব ইচ্ছা ছিল আমার মা’কে আমাদের গ্রামে নিয়ে আমার বাবার পাশে কবর  দেয়ার। কিন্তু আমাদের দেশের পরিস্থিতিতে সেটা এখন আর সম্ভব না। আমরা যদি এখানে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখাতে পারতাম, তাহলে তো আমরা আর বাংলাদেশে যেতামই না।”

 

মিয়ানমার সরকার দাবি করে যে সকল স্বাস্থ্য চাহিদা পূর্ণ করা হচ্ছে। কিন্তু উত্তর রাখাইনে মানবিক সংস্থাগুলোর প্রবেশে তীব্র প্রতিবন্ধকতার কারণে বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কোন নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া যায় না। “মানবিক সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পাওয়ার জন্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত ছাড়া পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের উপযোগী কি না তা বোঝারও বিন্দুমাত্র উপায় নেই,” দ্য গ্রিজ বলেন।