ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২

নৌমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০১ ১৮:০৯:৩২ || আপডেট: ২০১৮-০৮-০১ ১৮:০৯:৩২

নৌমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ

দুই বাসের রেষারেষিতে দুই শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনায় বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ নয় দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে।

আজ বুধবার সকাল ১১টার দিকে নয় দফা দাবি নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী। এসব কলেজগুলোর মধ্যে ছিল, ঢাকা কমার্স কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, বেগম বদ্দরুন্নেসা সরকারি কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ, তেজগাঁও সরকারি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ইত্যাদি।

শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা নয় দফা দাবি তুলে ধরে। তাদের দাবিগুলো হলো, বেপোরোয়া চালককে ফাঁসি দেওয়া এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করা; নৌমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া; শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নেওয়া; প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিড ব্রেকার দেওয়া; সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নেওয়া; শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের বাসে তুলে নেওয়া; শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করা; রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধ করা; বাসে অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়া।

আন্দোলনের একপর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ চেয়ে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করে। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের দাবি জানায়।

আন্দোলনের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে আবার শাহবাগে অবস্থান নেয়। পরে পৌনে চারটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাসিব হাসান তাদের নয় দফা দাবি তুলে ধরে। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানায়। অন্যথায় শাহবাগে অবস্থান নিয়ে পুরো ঢাকা অচল করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা চলে গেলে বিকেল ৪টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বাইরে ছিল রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, রোগীদের অন্যান্য যানবাহন বা জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহন অবরোধের বাইরে ছিল।

গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। উত্তরাগামী জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস মিরপুর ফ্লাইওভার থেকে নেমে অপর একটি বাসের সঙ্গে পাল্লা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দিয়া খান মিম শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং আবদুল করিম রাজীব (১৭) দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।-আমাদের সময়