ঢাকা, সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২

চাকরির আগে মাদকসেবী কিনা পরীক্ষা করা হবে

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-৩০ ০১:০০:৪৫ || আপডেট: ২০১৮-০৭-৩০ ০১:০৩:৩১

অনলাইন ডেস্ক: চাকরিতে প্রবেশের আগে ডোপ টেস্টের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে। এ আইন পাস হলে চাকরিপ্রার্থীদের মাদক সেবনকারী কিনা পরীক্ষা করে নেওয়া হবে। বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও মাদক সেবনকারী কিনা পরীক্ষা করা হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে সে মাদকাসক্ত কিনা তা পরীক্ষা করে নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রোববার সকাল ১১টায় রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এক কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে প্রণীত অ্যাকশন প্লান শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠানে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদক নিয়ন্ত্রণে যে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে তা বাস্তবায়ন আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং এটা জিরো টলারেন্স না আসা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

তিনি বলেন, আমরা শুধু অভিযানের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন ধরনের সভা-সমাবেশ সেমিনার এবং মসজিদের ইমামদের মাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছি। 

ফরিদ উদ্দিন বলেন, মাদক নিয়ে যারা ধরা পড়ছে তারা অধিকাংশই ছোট ব্যবসায়ী এবং মাদকসেবী। সব সময় সব অভিযান থেকেই মাদক ডিলাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তাদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করেছি তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত মাদক নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কিন্তু মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো আলোচনায় ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে না। মিয়ানমারের সঙ্গে ও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করা হচ্ছে। 
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার মাদকমুক্ত দেশ গঠনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে মাদক ব্যবসার কৌশল। একদিকে নতুন মাদকের আগ্রাসন অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যক্তিদের মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছেন। এখনই সময় যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা। ইয়াবা নামক মরণ নেশার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন মাদক বিরোধী সর্বাত্মক সামাজিক সচেতনতা ও সকল বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহাদুজ্জামান খাঁন কামাল কিন্তু বিশেষ কারণে তিনি না আসতে পারায় প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। অ্যাকশন প্লান্ট উপস্থাপন করেন সেবা ও সুরক্ষা বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব আতিকুল হক। 

কর্মশালায় র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, দেশের জেলাগুলোতে বিশেষ আদালত গঠন করে মাদকের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।