ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২

এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৯ ০৬:০৬:১১ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৯ ০৬:০৬:১১

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘এমএসএফ হাসপাতালে’ চিকিৎসা না পেয়ে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশি হওয়ার কারণে কোনো ধরনের চিকিৎসা না পেয়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এমএসএফ হাসপাতালে স্থানীয় খলিলুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী মারা যান।

রোহিঙ্গা না হওয়ায় মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন খুলে নেন এমএসএফ হাসপাতালের চিকিৎসক। রোগীর স্বজনরা শেষ মুহূর্তে এ্যাম্বুলেন্স চাইলেও তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এমএসএফ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় উখিয়া টেকনাফ জুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ায় স্থানীয়দের চিকিৎসায় অবহেলার দায়ে এমএসএফ হাসপাতালের চিকিৎসক জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় মারা যাওয়া খলিলুর রহমান (৪০) উখিয়ার কুতুপালং গ্রামের পূর্বপাড়ার মীর কাশেমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খলিলুর রহমান শুক্রবার (২৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে বোনের বাড়িতে যাওয়ার সময় কুতুপালং বাজারের পাশে পূর্বপাড়া রাস্তায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটে পড়েন। এরপর তাকে দ্রুত স্থানীয় কুতুপালং বাজার সংলগ্ন এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এসময় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিয়াউর রহমান জানতে চান রোগী রোহিঙ্গা কি না। খলিলুর বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার বিষয়টি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানান ওই চিকিৎসক। স্বজনরা প্রায় আধ ঘণ্টা আকুতি মিনতি করলেও খলিলুরকে চিকিৎসাসেবা দিতে রাজি হননি ওই চিকিৎসক। এক পর্যায়ে সবাইকে হাসপাতাল থেকে জোর করে বের করে দেয়া হয়।

স্বজনরা শেষ পর্যন্ত খলিলুরকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার জন্য এমএসএফের অ্যাম্বুলেন্সটি দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ‘কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে এমএসএম হাসপাতালে চিকিৎসা বা অন্যান্য সেবা দেওয়া হয় না’ বলে জানিয়ে দেন কর্তব্যরত ওই চিকিৎসক। পরে সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার প্রক্রিয়ার সময় খলিলুর রহমান মারা যান।

খলিলুর রহমানের ছোট ভাই জাফর আলম জানান, অসুস্থ হওয়ার সাথে সাথে খলিলকে কুতুপালংয়ের পার্শ্ববর্তী এমএসএফ (হল্যান্ড) হাসপাতালে নিয়ে যাই। ওই সময় এমএসএফ হাসপাতালে দায়িত্বরত ছিলেন জিয়া নামে এক ডাক্তার। তিনি (ডাক্তার জিয়া) আমাদের প্রথমে রোহিঙ্গা মনে করে দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসাসেবা শুরু করার আগে জানতে চান- খলিলুর রোহিঙ্গা কি না। উত্তরে খলিলুর বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার বিষয়টি জানার পর চিকিৎসা করতে রাজি হননি ওই চিকিৎসক। পরে অনেক আকুতি মিনতি করেও রাজি করাতে পারিনি। এক পর্যায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ায় অক্সিজেন দেওয়ার জন্য হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করি। কিন্তু ওই ডাক্তার অক্সিজেনটা পর্যন্ত খুলে নেন।

এ ব্যাপারে এমএসএফ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল মান্নান শনিবার রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এমএসএফ হাসপাতালে যান। এমএসএফ কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় চিকিৎসা অবহেলায় মারা যাওয়া রোগী খলিলুর রহমানের স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্ত চিকিৎসককে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন উখিয়ার ইউএনও নিকারুজ্জামান। সেই সাথে আগামী ২ দিনের মধ্যে পুরো ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। প্রয়োজনে ওই চিকিৎসকের সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও আগামীকাল এমএসএফের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে সভার আয়োজনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা যাতে কোনোভাবেই হয়রানি না হয় সেজন্য ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন ইউএনও নিকারুজ্জামান।