ঢাকা, সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২

দুদক সরকারের দুর্নীতি ধোয়ার মেশিন : রিজভী

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৭ ১৬:৫৫:০২ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৭ ১৬:৫৫:০২

দুদক সরকারের দুর্নীতি ধোয়ার মেশিন : রিজভী

বড় পুকুরিয়া কয়লা খনিতে বিশাল পরিমাণ কয়লা লুটপাটের পর দুদক তদন্তকে ‘রোগী মরিবার পর ডাক্তার আসিলেন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘বড় পুকুরিয়ায় কয়লা দুর্নীতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত আইওয়াশ মাত্র। আসলে দুদক সরকারের দুর্নীতি ধোয়ার মেশিন। আর বিরোধী দলের জন্য দুদক টর্চারিং মেশিন।’

আজ শুক্রবার বেলা ১২টায় বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মহা দুর্নীতি, সুপার দুর্নীতি, মেগা দুর্নীতিরই জয়জয়কারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট থেকে শুরু করে ব্যাংক-বীমা-আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে প্রাইমারি স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পরীক্ষা ও সরকারি চাকরিতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি মহা ধুমধামেই চলছে।’

তথ্যমন্ত্রী হাসানুণ হক ইনুর দেওয়া তথ্যের বিরুদ্ধে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘তিনি তথ্য দিয়েছেন, পিয়নের চাকরি নিতে গেলেই নাকি ১০ লাখ টাকা লাগে। তাহলে এই ১০ লাখ টাকার ভাগ কে কে পায় সেটিও তথ্যমন্ত্রী জানালে ভালো করতেন।’

কয়েক বছর ধরে লাখ লাখ টন কয়লা লোপাট হয়েছে, অথচ খনি কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি মন্তব্য করে রিজভী আরও বলেন, ‘খনি কর্তৃপক্ষই ‘শুঁড়ির সাক্ষী মাতাল’। কয়লা লোপাট হওয়া বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদাসীন থাকাটা রহস্যজনক।’

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী শাসনামলে বিপুল পরিমাণ কয়লা চুরিতে কেউ বিস্মিত নয়। ‘কারণ মেগা চুরির ঘটনা কেবলমাত্র এই সরকারের আমলেই ঘটে। স্বয়ং অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন-এখন পুকুর চুরি নয়, সাগর চুরি হয়। দুর্নীতির তদন্তে নাম আসা একজন কর্মকর্তাকে বিদেশ যেতে ৪২ দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ফলে কয়লা লোপাটের মহা দুর্নীতির দায় সরকার বা সরকার প্রধান এড়িয়ে যেতে পারে না।’

বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যার উৎসব চলছে মানুষ চলছে দাবি করে বিএনপির সাবেক এই ছাত্র নেতা বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এ পর্যন্ত বন্দুকযুদ্ধে প্রায় আড়াইশ জন ব্যক্তিকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সরকারের বাহিনীগুলো গর্বের সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানের কথা বলছেন জোরেসোরে। অথচ মাদকের গডফাদাররা অধরাই থেকে যাচ্ছে। মাদক সম্রাট বদিরা এখনও বহাল তবিওতে রয়েছে।’

মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত বলেও অভিযোগ করেছেন রিজভী। বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ক্ষমতাসীনদের অনুগ্রহভাজন হয়ে তাদের অন্যায্য-অন্যায় নির্দেশ পালন করছে। এই কারণে তারা এত রক্ত ঝরিয়েও মাদকের বিস্তার রোধ করতে পারেনি।- আমাদের সময়