ঢাকা, রোববার, ২৬ জুন ২০২২

কক্সবাজারের পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৬ ১০:৫৫:১৭ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৬ ১২:১৭:৪৭

কক্সবাজারের পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০১১ সালে পৌর পরিষদ গঠনের দীর্ঘ সাড়ে ৭ বছর পর ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছে কক্সবাজার পৌরসভার বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। নির্বাচনে জনতার রায়ে নতুন পরিষদে পৌর পিতা নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান।  নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৪১ হাজার ২৫৫ ভোট। আর ধানের শীষ প্রতীকে রফিকুল ইসলাম ১০ হাজার ১৪৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। নাগরিক কমিটির ব্যানারে জামায়াত প্রার্থী বর্তমান মেয়র সরোয়ার কামাল নারকেলগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১৪৬ ভোট। জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন সিকাদার নাঙ্গল প্রতীকে ৪৮০ ভোট ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে মাওলানা জাহেদুর রহমান পান ৫৯৫ ভোট পেয়েছেন। নৌকা প্রতীকে মুজিবুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ে ৩১ হাজার ১০৮ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারি ভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছে।
এদিকে, নব্বই দশকের শেষ দিকে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত হয়ে পাওয়া চেয়ারম্যান উপাধিটা এবার মেয়র পদবীর আড়ালে হারিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন মুজিব চেয়ারম্যানের শুভার্থীরা।
বুধবারের ভোটে নির্বাচিত হওয়া নতুন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড হতে ৩ হাজার ১৭৭ ভোট নিয়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন বর্তমান কাউন্সিলর আকতার কামাল, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আতিক কোম্পানী পেয়েছেন ১৭১৫ ভোট। ২ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মিজানুর রহমান এক হাজার ৬৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ১৪৯৭ ভোট। ৩ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান মাবু ২৯১৬ ভোট আর অপর প্রার্থী আমিনুল হক মুকুল পেয়েছেন ১২৬৩ ভোট। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিগত চারবারের কাউন্সিলর সিরাজুল হককে পরাজিত করে ১৮৩৭ ভোট পেয়ে নতুন জয় পেয়েছেন দিদারুল আলম রুবেল। ৫ নম্বরে ১৮১৩ ভোটে জয় পেয়েছেন তরুণ প্রার্থী শাহাব উদ্দীন সিকদার। এখানে গোলাম আরিফ লিটন পেয়েছেন ১১৯২ ভোট।  ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২২০৮ ভোট পেয়ে পুনরায় জয় পেয়েছেন ওমর ছিদ্দিকী লালু, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ফেরদৌস চৌধুরী পেয়েছেন ৯১৯ ভোট। ৭ নম্বরে ২৩৪৬ ভোট পেয়ে জয় ধরে রেখেছেন আশরাফুল হুদা জামশেদ, নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি জাফর আলম পেয়েছেন ২৩৩২ ভোট। ৮ নম্বরে ২২০২ ভোটে পুনরায় জয়পান রাজ বিহারী দাশ, নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি বেলাল হোসেন পেয়েছেন ১২৮৫ ভোট।  ৯ নম্বরে ২১২৯ ভোটে আবার জয়পান হেলাল উদ্দীন কবির, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আবু ওবায়েদ্দীন নাছের পান ৯৫১ ভোট। ১০ নম্বরে ২৩৩১ ভোট পেয়ে নতুন নির্বাচিত হন সালা উদ্দীন সেতু নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি কফিল উদ্দিন পান ২০৬৪ ভোট। ১১ নম্বরে ১০৭৩ ভোটে নতুন জয় পেয়েছেন নুর মোহাম্মদ মাঝু, নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি সেলিম রেজা পান ৭০৯ ভোট ও ১২ নম্বরে ৩৪৮৬ ভোটে নতুন জয় পান কাজী মোর্শেদ আহমদ বাবু, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি নুরুল ইসলাম পেয়েছেন ১৪১৫ ভোট।
আর সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর (১,২,৩ নং ওয়ার্ডে ৫৯৬১ ভোটে শাহিনা আকতার পাখি জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ফাতেমা পেয়েছেন ৩৮৪৩ ভোট। ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডে ৭০৮৯ ভোটে ইয়াসমিন আক্তার জয় পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি পেয়েছেন ৫৬২৮ ভোট। ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডে ৫৯১৭ ভোটে জাহেদা আক্তার জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী দ্বীপ্তি শর্মা পেয়েছেন ২৯৩২ ভোট এবং ১০,১১,১২ নং ওয়ার্ডে ৩৮৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন নাসিমা আকতার বকুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি বর্তমান কাউন্সিলর কোহিনুর  পেয়েছেন ৩৩১২ ভোট। কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্র আরো জানায়, পৌরসভার ১২ ওয়ার্ডের ৩৯ কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহ চলে। নির্বাচনে ৩৯টি ভোটে কেন্দ্রে ৩৯ জন প্রিসাইডিং অফিসারের তত্বাবধানে ২২৪ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার ও ৪৪৮ জন পোলিং এজেন্ট অফিসার দায়িত্বপালন করছেন। নির্বাচনকালীন কেন্দ্রের নিরাপত্তায় এক হাজার নিরাপত্তাকর্মী, ২ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৬টি ভ্রম্যমান দল এবং একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১২টি ওয়ার্ডে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করেন।
নির্বাচনে পাঁচ মেয়র, ১৭ সংরক্ষিত ও ৬৪ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ৮৬ জন প্রার্থী সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন পুরুষ ও ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন নারী ভোটার মিলে পৌরসভায় ৮৩ হাজার ৭২৮ জন ভোটার রয়েছেন। তাদের মাঝে ৫৬ হাজার ৬২৩ জন ভোটার নতুন পৌর পরিষদ গঠনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। মেয়রগণের প্রাপ্ত ভোটে এমনটি হিসাব এসেছে।
উল্লেখ্য, ভোট ডাকাতি, ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান, নৌকা প্রতীকে জোর করে সীল মারা, এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনে অংশ নেয়া ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মাঝে আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মুজিবুর রহমান ছাড়া বাকি ৪ জনই নির্বাচন বর্জন করে পূণ: নির্বাচনের দাবী জানিয়েছেন। বুধবার বিকেল ৩ টায় ওই ৪ মেয়র প্রার্থী পৃথক পৃথকভাবে ওই ঘোষনা দেয়।