ঢাকা, সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২

উখিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাড়াশি অভিযান দৃশ্যমান

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১৪ ২১:৩৭:১৪ || আপডেট: ২০১৮-০৭-১৪ ২২:১৭:৩২

গাঁ ঢাকা দিয়েছে ইয়াবা কারবারীরা

উখিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাড়াশি অভিযান দৃশ্যমান
গফুর মিয়া চৌধুরী, সিএসবি ২৪ ডটকম:
কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ উখিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ক্রমান্বয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। বর্তমানেও মাদক ইয়াবার বিরুদ্ধে এ অভিযান পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মাস ধরে সীমান্ত জনপদ উখিয়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ইয়াবার বিরুদ্ধে চলছে ব্যতিক্রম অভিযান। যা সচেতন মহলের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

উখিয়া থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ইতিমধ্যে ইয়াবা গডফাদাররা ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। অনেকে আত্মগোপনের পাশাপাশি রাতারাতি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে এমন তথ্য সংবাদকর্মীদের কাছে রয়েছে।

গত ৩ মাসে উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (সেকেন্ড অফিসার) এরশাদ উল্লাহর মাদক ও ইয়াবা বিরোধী অভিযান অনেকটা সফলতা এনেছে বলে জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। এরশাদ উল্লাহ কক্সবাজারের উখিয়া থানায় উপ-পরিদর্শক হিসেবে যোগদানের পরপরই শুরু মাদকের বিরুদ্ধে বিরামহীন অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এ অভিযানে ধর-পাকড় হয় চোখে পড়ার মতো। প্রতিনিয়ত আটক করা হচ্ছে ইয়াবা বহনকারী, ইয়াবা গডফাদার, পরিবহণ (বাস) ও অর্ধ লক্ষাধিক ইয়াবার বড় চালান। যা ইতিপূর্বে এ ধরণের গাড়ীসহ বড় চালান ও তালিকাভুক্ত ইয়াবাকারবারি বা গডফাদার আটক হয়নি।

পুলিশ জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন এরশাদ উল্লাহ উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের লম্বাঘোনা গ্রামের মৃত ফকির আহমদের ছেলে ইয়াবা সম্রাট মাহমুদুল করিম খোকাকে টিভি রিলে কেন্দ্রের সামনে টেকনাফ থেকে প্রাইভেট কার নিয়ে আসার পথে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায়। সে সময় খোকা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার ব্যবহৃত গাড়ী ইয়াবাসহ জব্দ করে এবং তার বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা রুজু করে।

উখিয়া থানায় যোগদানে পর গত জুন মাসে উখিয়ার ইয়াবাকারবারী মোহাম্মদ শফি ড্রাইভারকে ইয়াবাসহ আটক করে। এছাড়াও কক্সবাজারের আলোচিত ইয়াবা গডফাদার রাজাপালং ইউনিয়নের জাদিমুরা গ্রামের কবির আহমদকে পুলিশী জালে আটকানোর চেষ্টা করলেও পালিয়ে সৌদি আরবে চলে গেছে বলে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন।

মাদক বিরোধী অভিযানে চৌকষ এ পুলিশ কর্মকর্তা এরশাদ নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ থাকাকালে ঘুমধুম ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করার জন্য দিনরাত কাজ করেছেন। অবশ্যই সফলতাও এসেছে। সে সময় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলার আশপাশের ইয়াবা কারবারিরাও তাঁর আতংকে বেকায়দায় পড়েছিল।

এমনকি সীমান্তের মাদক ইয়াবা ও চোরাচালানের ট্রানজিট পয়েন্ট ঘুমধুম, তুমব্রু, বেতবুনিয়া এবং বালুখালীকে শান্তির জনপদ ঘোষণার জন্য তিনি দৃশ্যমান অভিযান চালিয়ে সীমান্ত জনপদকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করেছিল। তৎসময় সীমান্তে কেউ ইয়াবা, চোরাচালান, মাদক মিয়ানমার থেকে এনে সুবিধা করতে পারেনি। ভাটা পড়েছিল ইয়াবা কারবারীদের দৌরাত্ম্যে।

এরশাদ উল্লাহ উখিয়ায় আসার পর থেকে মাদক কারবারীদের মধ্যে চুলছেড়া বিশ্লেষণের পাশাপাশি নানা আতংক দেখা দেয়। অনেকে অবৈধ ইয়াবার টাকায় গড়ে তোলা স্বপ্নের বিলাশ বহুল বাড়িতে ঘুমাতে পারছে না। বর্তমানে উখিয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত অনেক ইয়াবাকারবারী আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে, পাহাড়, জঙ্গলে অবস্থান নিয়েছে এমন তথ্যও স্থানীয় গ্রামবাসীরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

অপরদিকে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে মো: আবুল খায়ের যোগদানের প্রায় ২ বৎসর পার হয়ে গেছে। তিনি উখিয়া থানায় যোগদানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় সাধারণ মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারার কথা চাওর হয়েছে। রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ডাকাতি, ধর্ষণ, ছিনতাই, খুন-খারাবি ঘটনা অতীতের মতো ঘটেনি। গত ২৫ আগষ্ট পরবর্তী মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নিলেও বিশাল এ জনগোষ্টিকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উখিয়া থানা পুলিশের ভুমিকা প্রশংসনীয়।

এছাড়াও তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণে স্থানীয় মানুষের জানমাল রক্ষা, সার্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের মধ্যে বড় ধরণের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ওসি খায়ের প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেশি-বিদেশী ভিভিআইপিদের প্রটোকলের পাশাপাশি রোহিঙ্গা বিষয়ক নানা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দেশি-বিদেশী মিডিয়াকর্মীদের সহযোগিতা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এদিকে থানার উপ-পরিদর্শক এরশাদ উল্লাহ মাদক বিরোধী অভিযানের বিষয়টি নজিরবিহীন বলে মনে করেন এলাকার সচেতন সুশীল সমাজ। সারারাত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ ফোর্স নিয়ে অবস্থান করে মাদক নির্মূল ও অপরাধীদের আটক করার জন্য নির্ঘুম রাত কাটায়। যার ফলে দিনদিন মাদকের ছড়াছড়ি হ্রাস পেয়েছে উখিয়ার জনপদে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের সিএসবি ২৪ ডটকমকে বলেন, উখিয়ায় ওসি হিসেবে যোগদানের পর থেকে অদ্যবধি মানুষের কল্যাণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে সাধারণ মানুষ যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে সে জন্য আমার দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে কোন ধরণের অবহেলা ছিল না।

মাদক ও ইয়াবা নির্মূলের বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, তিনি উখিয়ায় যোগদানের পর থেকে গত ৩ মাসে ইয়াবাবাহী বাসসহ ইয়াবা কারবারী আটক, ৪০ হাজার ইয়াবার বড় ধরনের চালান উদ্ধারসহ অসংখ্য অভিযান চালিয়েছেন তিনি। একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে যে কোন কিছুর বিনিময়ে তিনি উখিয়াকে মাদকমুক্ত করার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করার কথাও জানান।