ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট ২০২২

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ : টিআইবি

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৯ ২১:০৪:৪৪ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৯ ২১:০৪:৪৪

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ : টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক:

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে গোপন চুক্তি করে জাতিসংঘ নিজের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ অবস্থায়  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ সব বিষয়ে জাতিসংঘের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানায় টিআইবি।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া গোপন ওই চুক্তি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির অন্তরায় হয়ে দাড়াবে। এটি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে স্বাধীনভাবে চলাচল  ও ‘মিয়ানামারের স্বাধীন নাগরিক’ হিসেবে তাদের অধিকার লাভের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমার সরকার এবং জাতিসংঘের ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআর -এর  মধ্যে সম্পাদিত গোপন সমঝোতা স্মারকের সব তথ্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করারও দাবি জানায় সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এধরনের চুক্তি রোহিঙ্গাদের চিরতরে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়। পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না করে গোপনে এমন সমঝোতা করাটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’

ড. জামান আরও বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে প্রত্যাবাসনসহ সার্বিকভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। মিয়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং লির সাম্প্রতিক বক্তব্যেও তা প্রতিফলিত হয়েছে।’

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সফরে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গেও এই গোপন সমঝোতা সাংঘষিক ও পরস্পরবিরোধী বলে মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এধরনের নীতিবিবর্জিত গোপন সমঝোতা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে জাতিসংঘের ব্যর্থতাকেই তুলে ধরে। একই সঙ্গে মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতিসংঘের আন্তরিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।’

রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা জাতিনিধনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সুযোগের সদ্বব্যবহার না করে নিরব দর্শকের ভূমিকায় থেকেছে জাতিসংঘ। নির্যাতিত এই জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে পুঁজি করে অর্থ সহায়তার সুবিধা অন্বেষণ জাতিসংঘের উদ্দেশ্য কি না এ প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।’

ড.জামানের মতে, জাতিসংঘের উচিৎ এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া। একইসঙ্গে গোপন এই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং ইতিপূর্বে গোপনকৃত বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রকাশ করা।