ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট ২০২২

সীমান্তে মাদক চোরাকারবারী বলে কেউ থাকবেনা

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৬ ২১:১০:৩৪ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৬ ২১:১০:৩৪

টেকনাফে বিজিবি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম রকিবুল্লাহ

হুমায়ূন রশিদ, টেকনাফ:

টেকনাফে বিজিবি জওয়ানদের বিগত ৫ মাসের অভিযানে জব্দকৃত বিভিন্ন প্রকারের মালিকবিহীন ১৫৯ কোটি ১৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৬শ টাকার মাদকদ্রব্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিনষ্ট করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ২০১৭ সালের গত ২৫ অক্টোবর হতে ২০ মার্চ ২০১৮ ইং পর্যন্ত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আটককৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় ব্যাটালিয়ন সদরে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম রকিবুল্লাহ, সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আব্দুল খালেক, ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মঞ্জুরুল হাসান খান, টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃকর্ণেল আছাদুদ-জামান, ডিজিএফআই কক্সবাজার জোনের পরিচালক লেঃ কর্ণেল জোবাইর আহমদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আশরাফুল আফসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজিব কুমার বিশ^াস, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজিব কুমার দেব, মোঃ হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রণয় চাকমা, টেকনাফ ২ বিজিবির উপাধিনায়ক শরীফুল ইসলাম জমাদ্দার, সাবেক সাংসদ ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, টেকনাফ কোস্টগার্ড ষ্টেশন কমান্ডার লেঃ কমান্ডার ফয়েজুল ইসলাম, টেকনাফ উপজেলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রনজিত কুমার বড়–য়া, টেকনাফ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোশারফ হোসাইনসহ বিভিন্ন স্তরের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাদক বিরোধী অভিযানে সকলের অংশ-গ্রহণে শতভাগ সাফল্য কামনা করে বলেন, মাদকের বিস্তার এবং সেবনের ফলে দেশে যে দূর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে নিজ নিজ পরিবার ও সমাজ বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমরা সকলের পরিবারকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে। এর পাশাপাশি সরকারের মাদক বিরোধী অভিযান স্বার্থক করতে টেকনাফে নিয়োজিত আইন-শৃংখলা বাহিনী সমুহের স্বল্পতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার রয়েছে। একটু ধৈর্য্য ধরুন আগামীতে আইন-শৃংখলা বাহিনী, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশাসহ সর্বস্তরের মানুষের সমন্বয়ে মাদক বিরোধী অভিযান আরো জোরদার করা হবে। এই জনপদে মাদক গডফাদার ও চোরাকারবারী বলে কারো অস্তিত্ব থাকবেনা ইনশল্লাহ।

এরপর মালিকবিহীন জব্দকৃত ৫২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৮শ ৬৭পিস ইয়াবা, ১ হাজার ৪শ ৭৭ বোতল ফেন্সিডেল, ১৩ কেজি ৩শ গ্রাম গাঁজা, ৬শ ৯৫.৫০০লিটার চোলাই মদ, ৩ হাজার ৯শ ৯০ ক্যান আন্দামান বিয়ার, ৩ হাজার ৩শ ৭৩ ক্যান ডায়াব্লু বিয়ার (১২%), ৩ হাজার ৫শ ১৮ ক্যান সিংগা বিয়ার, ৫শ ৪৫ ক্যান চ্যাং বিয়ার, ৩শ ৬০ ক্যান চেইঞ্জ ক্লাসিক বিয়ার, ৭শ ২৪ বোতল ম্যান্ডেলা রাম, ২শ ৭ বোতল গ্রান্ড রয়েল হুইস্কি, ২২ বোতল গ্রান্ড হুইস্কি, ৩৯ বোতল গারদা, ৫ বোতল ঈগল হুইস্কি, ৪ বোতল মায়ানমার মদ, ৩ বোতল ডাবল ব্লাক মদ, ১২ বোতল রয়েল ড্রাইগ্রীন মদ, ৩ বোতল মায়ানমার ড্রাইগ্রীন মদ, ৩০ বোতল মেরিন হুইস্কি মদ, ৯ বোতল ড্রাগন রাম মদ, ১২ বোতল জামালিকা মদ, ২ বোতল মায়ানমার ওল্ড ব্যান্ডে মদসহ মোট ১৫৯ কোটি ১৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৬শ টাকা মূল্যমানের মাদক ধ্বংস করা হয়।