ঢাকা, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২

উখিয়ায় এইচএসসিতে ফেল করেছে বেশি !

প্রকাশ: ২০১৭-০৭-২৪ ১৫:৪২:১২ || আপডেট: ২০১৭-০৭-২৪ ১৫:৪২:১২

উখিয়ায় এইচএসসিতে ফেল করেছে বেশি !
পলাশ বড়ুয়া::
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে এবার উখিয়ায় পাশের চেয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বেশি। উখিয়ায় এবার পাশের হার কলেজে ৩৯.৫০%, মাদ্রাসায় ৬৫.৪৮%, কারিগরিতে ৭৭.৩৩%।

উখিয়া কলেজ থেকে এবার এইচএসসি ও সমমানের বি.এম শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫২৯জন পরীক্ষার্থী। তৎমধ্যে পাশ করে ২০১ জন। তৎমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে পাশ করেছে ৮জন, ফেল করেছে ৮জন, মানবিকে পাশ করেছে ১০০জন, ফেল করেছে ২২৮ জন। ব্যবসায় শাখায় পাশ করেছে ৭১ জন, ফেল করেছে ৮৩ জন, বি.এম শাখায় পাশ করেছে ২২ জন, ফেল করেছে ৮জন। পাশের হার ৩৮%।

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৪৯১জন পরীক্ষার্থী। তৎমধ্যে পাশ করে ২১২ জন। তৎমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাশ করেনি। মানবিক শাখায় পাশ করেছে ১৩৩জন, ফেল করেছে ২২২ জন। ব্যবসায় শাখায় পাশ করেছে ৭৯ জন, ফেল করেছে ৫৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার ৪৩%।

নুরুল ইসলাম চৌধুরী টেকনিক্যাল বিএম কলেজ থেকে অংশগ্রহণ করে ৪৫ জন পরীক্ষার্থী। পাশ করে ৩৬ জন। ফেল করেছে ৯ জন। তৎমধ্যে ৩ জন জিপিএ-৫ এবং ২৪ জন এ গ্রেড পেয়ে পাশ করেছে। পাশের হার ৮০%

রাজাপালং মাদ্রাসা থেকে ১৬৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পাশ করে ১৪৪ জন। ফেল করেছে ২১। পাশের হার ৮৭%।

ফারির বিল আলিম মাদ্রাসা থেকে ৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪০ জন। ফেল করেছে ৩জন। পাশের হার ৯৩%।

রুমখাঁপালং আলিম মাদ্রাসা থেকে ৭৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৬৭জন। ফেল করেছে ৬ জন। পাশের হার ৯২%

ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা এসব কলেজে ভর্তি হয়। ছেলে-মেয়ের প্রতি অভিভাবকদের অসচেতনতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত থাকে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কলেজে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাশ না করে রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকাটাও বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন উখিয়া কলেজ অধ্যক্ষ ফজলুল করিম।

এইচএসসিতে উখিয়ায় ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই কলেজ গুলোতে মূলত বেশির ভাগ দরিদ্র জনগোষ্টির ছেলে-মেয়েরাই পড়ালেখা করে। যারা একটু এডভান্সড তারা শহরে চলে যায়। তিনি আরো বলেন বঙ্গমাতা কলেজ সরকারি হয়েও সরকারি সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। অপরদিকে সিনিয়র হিসেবে উখিয়া কলেজ সরকারি হয়নি। এসবের কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে একটা স্থবিরতা চলে আসছে। তাছাড়া কলেজ দুটির ব্যবস্থাপনাকে দুষলেন তিনি। সরকারি কোন ধরণের সুযোগ সুবিধা ছাড়া কারিগরি কলেজ এবারও ভালো ফলাফল করেছে বলে তিনি জানান।