ঢাকা, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২

টেকনাফে ৩ কোটি ৩০লক্ষ টাকার ইয়াবাসহ দুই মিয়ানমার নাগরিক আটক

প্রকাশ: ২০১৭-০৭-১১ ১৮:২০:৫০ || আপডেট: ২০১৭-০৭-১১ ১৮:২০:৫০

টেকনাফে ৩ কোটি ৩০লক্ষ টাকার ইয়াবাসহ দুই মিয়ানমার নাগরিক আটক
হুমায়ূন রশিদ, টেকনাফ:

টেকনাফে বিজিবি জওয়ানেরা অভিযান চালিয়ে ৩কোটি ৩০লক্ষ টাকা মূল্যমানের ইয়াবা বড়িসহ মিয়ানমারের দুই নাগরিককে আটক করেছে।

সুত্র জানায়,গত ১০জুলাই রাত ৮টারদিকে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের নাজিরপাড়া বিওপির হাবিলদার মোঃ নজরুল ইসলাম মিয়ানমার হতে ইয়াবার চালান আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সর্ঙ্গীয় জওয়ানদের নিয়ে টেকনাফ দক্ষিণ জালিয়াপাড়া লবণ মাঠে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই ব্যক্তি পিঠের সাথে কাপড় মোড়ানো পলিথিনের ব্যাগ প্যাঁচানো অবস্থায় নিয়ে আসতে দেখে বিজিবি জওয়ানেরা চ্যালেঞ্জ করলে ব্যাগটি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের ধাওয়া করে মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মন্ডু থানার সুধাপাড়ার আবুল বাশারের পুত্র মোঃ আয়াত (২০) ও মৃত মকবুল আহমদের পুত্র মোঃ মামুন (২৫)কে আটক করে ব্যাগটি উদ্ধার করে। এসময় তাদের ব্যবহৃত দুইটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। তা পরবর্তীতে ব্যাটালিয়ন সদরে নিয়ে গণনা করে ৩কোটি ৩০লক্ষ টাকা মূল্যের ১লক্ষ ১০হাজার পিস ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা বড়ি বিক্রির লক্ষ্যে বহন এবং অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা দায়েরের পর ইয়াবা বড়িসহ ১১জুলাই সকালে টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করা হয়েছে। টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এসএম আরিফুর ইসলাম অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য,মিয়ানমারে গত বছরের ৯অক্টোবর হতে সীমান্ত চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার জেরধরে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জেরধরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে। আর্ন্তজাতিক চাপ ও মানবিকতার খাতিরে বাংলাদেশ সরকার নমনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। রোহিঙ্গা নির্যাতনের ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের প্রতি নানাভাবে আর্ন্তজাতিক চাপ সৃষ্টি হওয়ায় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতার অজুহাতে ওপারে বিভিন্ন প্রশাসনের স্ত্রী-স্বজনেরা বড় বড় মাদকের চালান বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়ায় এখনো মাদকের বড় বড় চালান আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে। এদিকে এপারে চিহ্নিত চোরাকারবারী,আদম ঘাটের দালালেরা ইয়াবাসহ যাবতীয় মাদক চোরাচালানে জড়িত থাকলেও এখন অতিদরিদ্র পরিবারের লোকজন ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের সম্পৃক্ত করায় কেউ কারো বিরুদ্ধে মুখ খুলছেনা। সাধারণ মানুষ এসবের বিরুদ্ধে কথা বললে নিরাপত্তাহীন ও বিপাকে পড়ায় এখন রহস্যজনক কর্মকান্ডে ইয়াবাসহ যাবতীয় মাদক চোরাকারবারীদের পোয়াবারো হওয়ায় সর্বনাশা মাদক চোরাচালান থামানো যাচ্ছেনা।