ঢাকা, সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২

উখিয়ায় পুড়ে যাওয়া মৈত্রী বিহার দীর্ঘ ৭ মাসেও নির্মাণ হয়নি

প্রকাশ: ২০১৭-০৭-১০ ২০:২৮:২১ || আপডেট: ২০১৭-০৭-১০ ২০:২৮:২১

ব্যাহত হচ্ছে ধর্মীয় কার্যাদি সম্পাদন

উখিয়ায় পুড়ে যাওয়া মৈত্রী বিহার দীর্ঘ ৭ মাসেও নির্মাণ হয়নি
পলাশ বড়ুয়া:
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্যে বিশ্ব বৌদ্ধদের বর্ষাব্রত শুরু হয়েছে ১৯ জুলাই। শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমায় শুরু হওয়া বর্ষাব্রত আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথিতে সমাপ্ত হয়। এ সময় বৌদ্ধ বিহার গুলো বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়। পূণ্যার্থীদের ভীড়ও চোখে পড়ার মতো। কেননা, আতœশুদ্ধি ও সংযমতায় দীর্ঘ তিনমাস ব্যাপী দান, শীল এবং ভাবনা নিবিড়ভাবে অনুশীলন করে বৌদ্ধরা।

এবার কোনটায় সঠিক ভাবে পালিত হচ্ছে না অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া উখিয়া উপজেলার পূর্বরত্না মৈত্রী বিহারের ভিক্ষু সংঘ ও দায়ক-দায়িকাদের।
বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হেমন্দ্র লাল বড়ুয়া বলেন, গত ২৮ জানুয়ারী রাতে দৈবক্রমে আগুনে ভস্মিভূত হয়ে যায় বিহারটি। ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা। দীর্ঘ ৭ মাস অতিবাহিত হলেও সংস্কার হয়নি বিহারটি।
অগ্নিকান্ডের সংবাদ পাওয়া মাত্র স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণরূপে ভস্মিভূত বিহারটি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তাৎক্ষণিক সরকারের পক্ষ থেকে পুন: নির্মাণে আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ ৭ মাস অতিবাহিত হলেও সংস্কার হয়নি বিহারটি।
পরবর্তীততে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্মারক নং- এলজিইডি/উ:প্র:/উখিয়া/কক্স/২০১৭/৩৪ তাং- ৩১/১/২০১৭ এর মূলে বিহার পুন: নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে এবং উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় স্মারক নং- ০৫.২০.২২৯৪.০০০.১২৭.০১৮.২০১৬.৬৫, তারিখ- ৩১/০১/২০১৭ মূলে জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরণ করা হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্মারক নং- ৫১.০১.২২০০.০০০.৯৮.০০৬.১৭-৬৮, তারিখ- ০২.০২.২০১৭খ্রি: মূলে ৪৫ফুট ৪০ ফুট পরিমাপে দ্বিতল বিশিষ্ট বৌদ্ধ বিহার পুন: নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ৭২,৫২,৪৪৮.৫৯ টাকা বরাদ্ধ প্রদানে সুপারিশ সহকারে অগ্রায়ন করেন জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন।

বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক সুবদন বড়ুয়া বলেন, আগুনে ভস্মিভূত বিহারে ধর্মীয় কার্যাদি সম্পাদনে দু:খের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিহারটি পুন: নির্মাণ কাজটি বাস্তবায়নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

বিহারাধ্যক্ষ জ্যোতি মিত্র বলেন, দীর্ঘ সময়েও পুড়ে যাওয়া বিহারটি সংস্কার না হওয়ায় আষাঢ়ী পূর্ণিমা সহ বর্ষাব্রত পালন করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও বিহারটি পুন: নির্মাণে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাঈন উদ্দিন বলেন, অগ্নিকান্ড পরবর্তী উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ পূর্বক জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি বর্তমানে কোন পর্যায়ে আছে তা তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন।