ঢাকা, রোববার, ৩ জুলাই ২০২২

টেকনাফ সড়কে তল্লাশীর নামে হয়রানি !

প্রকাশ: ২০১৭-০৭-০৪ ১৮:৩৯:২১ || আপডেট: ২০১৭-০৭-০৪ ১৮:৪৪:১১

টেকনাফ সড়কে তল্লাশীর নামে হয়রানি !
পলাশ বড়ুয়া: কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা উখিয়া, টেকনাফ ও রামুর একাধিক পয়েন্টে তল্লাশীর নামে প্রতিনিয়ত হয়রানি শিকার হচ্ছে রোগী সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

ঈদ পরবর্তী নিকটাতœীয়দের সাথে টেকনাফ ট্যুর শেষে ফেরার সময়। বাজে বিকাল ৫ টা তখন। দমদমিয়া চেকপোস্ট। প্রায় ২ ঘন্টায়ও চেক করা শেষ হয়নি সামনে থাকা দুটি গাড়ী।

বাসের ইঞ্জিন বক্সে কোলে ২ শিশু সহকারে বসা দুই মহিলা একে অপরকে বলতে শুনলাম শাহজাইন্য নাকি আবার আইস্যে (বিজিবি কর্মকর্তা শাহজাহান নাকি আবার এসেছে)। আ’লার পোয়া আলা ইতে বেশি খারাপ (শালার বেঠা শালা বেশি খারাপ)। পরে বিজিবি প্রশ্নোত্তর পর্বে জানতে পারলাম মহিলা দুটির বাড়ী নাকি হোয়াইক্ষ্যংপাড়া। ঐ সময় গাড়ীতে থাকা অপরাপর যাত্রীরাও বলতে লাগলো এটা কি ধরণের গাড়ী চেক করা ? গাড়ীতে রোগী সহ কত গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাচ্ছে মানুষজন আছে।

কিছুক্ষণপর খবর আসে ঢাকাগামী একটি সৌদিয়া বাসে তল্লাশী চালিয়ে বিজিবি জওয়ানরা মালিক বিহীন কিছু ইয়াবা উদ্ধার করেছে। তবে পরিমাণটা জানায়নি তখনো। এ কথা শোনার পর যাত্রীদের মধ্যে থেকে একজন বলে উঠে মনে প্রাণে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যদি বিজিবি জওয়ানরা সীমান্তে অতন্দ্র পাহারায় রত থাকে তাহলে একটি পিপড়াও অনুপ্রবেশ করতে পারবে না, ইয়াবা চালান তো দূরের কথা। সবাই চোর শালারা। এখানে তল্লাশীর নামে নাটক করছে। এখন উদ্ধারকৃত অধিকাংশ ইয়াবাও তারা বিক্রি করবে।

পরক্ষণে আমাদের গাড়ী চেকপোষ্টে থামা মাত্রই বিজিবির কর্মকর্তা শাহজাহান উঠলেন। নিছিদ্র তল্লাশী শেষে অবশেষে ৭টা বাজে ছেড়ে দেয় আমাদের বাস। তখন অন্তত: আটকে পড়া গাড়ী বহর টেকনাফ স্টেশন পর্যন্ত হবে। এ রকম কর্মযজ্ঞ সীমান্তে জোরদার করা হলে বিজিবি’র আরো সমৃদ্ধ হবে ধারণা এমনটি।
এ রকম তল্লাশী নামে দুগ্ধপানরত অবুঝ শিশু সহ মা’কে অসম্মান করা হয়েছে। মুমুর্ষূ রোগীকে রক্তদানে ছুটে যাওয়া ব্যক্তিকে ১/২ মিনিটের রাস্তায় (মরিচ্যা যৌথ চেকপোষ্ট, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ব্রীজের পরে একবার) দুই দুইবার হেনস্থা করা। ফ্রিল্যান্সার, সাংবাদিক, শিক্ষক সহ সুশীল ব্যক্তিবর্গের ল্যাপটপ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহৃত জিনিস পত্র নষ্ট করা হচ্ছে।

এ সব দেখবে কে ? রুখঁবে কে ?

এ রকম চলতে থাকলে ভ্রমণ পিপাসুরা যেমন নিরুৎসাহিত হবে তেমনি বিজিবি সহ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অশ্রদ্ধা পরিপূর্ণ হয়ে ক্ষোভের সঞ্চার সাধারণ মানুষের মাঝে। যা কারো কাম্য নয়।

লেখক : সম্পাদক, সিএসবি ২৪ ডটকম।