ঢাকা, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২

রোহিঙ্গা পল্লী গুলোতে যৌন ব্যবসায় সহযোগীতা দিচ্ছে স্থানীয়রা

প্রকাশ: ২০১৭-০৬-২১ ১১:৪৫:০৫ || আপডেট: ২০১৭-০৬-২১ ১১:৪৫:০৫

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন , কক্সবাজার:

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহার ছড়া শামলাপুর এলাকার বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা পল্লী এখন পতিতার হাট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। উঠতি বয়সের তরুণ থেকে শুরু করে সব বয়সী ও পেশার মানুষরে হরদম যাতায়ত এখানে। উদ্দেশ্য রোহিঙ্গা দেহজীবী নারিদের স্পর্শ নেয়া। এধরনের অনৈতিক কাজে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি সহ স্থানীয় একটি চক্র। পতিতা পল্লীগুলোতে মাদকের বিকিকিনির পাশাপাশি দৈনিক চাঁদাবাজিও হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

টেকনাফের উপকূলীয় বন বিভাগের ঝাউবাগান থেকে উচ্ছেদ করা রোহিঙ্গা নাগরিকদের আশ্রয় দিয়েছে ১৯ প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও বাহারছড়া ইউনিয়নে শামলাপুর বাজার ও পুলিশ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকাসহ কয়েকটি গ্রামে লম্বা ও ঝুপড়ি ঘর তৈরি করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক থেকে আনুমানিক ২৫০-৩০০ গজ পূর্বে ও পুলিশ ফাঁড়ির পশ্চিমে এবং শামলাপুরে নয়াপাড়া ও পুরানপাড়ার বিভিন্ন খোলা নিচু জায়গায় ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে লম্বা ও ঝুপড়ি ঘর । আর এসব ঘরগুলো ভাড়া দেয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের।

স্থানীয় ১৯ প্রভাবশালী ব্যক্তির মালিকাধীন জমিতে প্রায় এক হাজার পরিবারকে বসবাসের জন্য লম্বা ও ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তির আশ্রয়ে শামলাপুর বাজার পাড়া,পশ্চিম পাড়া,বার্মা পাড়া গড়ে উঠেছে রোহিঙ্গা পল্লী। এসব রোহিঙ্গা পল্লীগুলো যেনো এখন যৌনপল্লী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। পল্লীতে দিনেও রাতে বিভিন্ন লোকজনের আনাগুনা দেখা গেলেও পল্লীতে রাতে চলে রোহিঙ্গা নারীদের ফুর্তি ও মাদকের আসর।

স্থানীয় সুত্র আরো জানায়, এসব রোহিঙ্গা পল্লীর পুরুষেরা জেলে পেশায় জড়িত। সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে সপ্তাহ ও পনের দিন সাগরেই কেটে যায়। এ সুযোগে রোহিঙ্গা যুবতি, কিশোরী ও গৃহবধুরা জড়িয়ে পড়ে দেহ ব্যবসায়। বহদ্দার নামধারী বেশ কিছু নারী লিপ্সু ব্যক্তি ও কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও রোহিঙ্গা নারীদের নিয়ে রাত দিন ব্যস্ত থাকে। স্থানীয় একজনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে পতিতা পল্লীগুলোতে মাদকের বিকিকিনির পাশাপাশি দৈনিক চাঁদা আদায় করে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই সব পল্লীতে রয়েছে বেশ কিছু রোহিঙ্গা সর্দার ও সর্দারনি। রোহিঙ্গা নারী সর্দারনি ইয়াবা নজু, নুর হোছন, রামুর সোলতান সওদাগরসহ আরো অন্তত ১০ ব্যক্তি। এরা শুধু পতিতা ও ইয়াবা ব্যবসার জন্যই রোহিঙ্গা পল্লীগুলোতে বসবাস ও বিচরণ করে। তাদের রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

সুত্রে জানা যায়, বাজার পাড়া,পশ্চিমপাড়া,বার্মাপাড়া রোহিঙ্গা পল্লী গুলোতে প্রতিনিয়ত পতিতা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ওই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে রয়েছে স্থানীয় সোলতান সওদাগর, ইয়াবা নজু, নুর হোছন, জাগির হোছন, বাবুল শর্মা সহ আরো কয়েকজন। এরা শুধু রোহিঙ্গা নারী নিয়েই ব্যবসা নয়, এরা রোহিঙ্গা পল্লীর প্রত্যেক বাড়ীতে মরন নেশা ইয়াবা সেবন ও বিক্রির ব্যবস্থা রেখেছে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ ও ছাত্ররা।

স্থানীয়রা বলেন, রোহিঙ্গা পল্লীতে প্রতিনিয়ত অনৈতিক কাজ চলে। রোহিঙ্গা পল্লীর পাশেই পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও এরা রহস্যজনক ভাবে নিরব র্দশকের ভুমিকা পালন করছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সোচ্ছার হলে ইয়াবা ও অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে এলাকা মুক্ত থাকবে এমন মত প্রকাশ করেন সচেতনমহল।