ঢাকা, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২

স্বাধীনতার অসমাপ্ত কাজ সম্পাদন করেছে জিয়া

প্রকাশ: ২০১৭-০৩-২৬ ১২:৫২:৫৯ || আপডেট: ২০১৭-০৩-২৬ ১২:৫২:৫৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার অসমাপ্ত কাজটি সম্পাদিত হয়েছিলো জিয়াউর রহমানের হাতে।

স্বাধীনতার অসমাপ্ত কাজ সম্পাদন করেছে জিয়া

অধ্যাপক তহিদুল আলম তহিদ::

২৫ মার্চ ১৯৭১ অসহযোগ আন্দোলনের ২৪ তম দিন। জনসাধারণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে নির্বাচিত বাঙালি নেতৃবৃন্দের কাছে ক্ষমতা হস্থান্তর করা হবে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পীর জাদা সকালের মধ্যে হস্তান্তরের দলিল চুড়ান্ত করে ফেলেছেন। বঙ্গবন্ধু আর ইয়াহিয়ার সাক্ষর হলেই আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বায়ত্ব শাসন ঘোষণা দেওয়া হবে। পাকিস্তানি সামরিক সরকার এ ধারনাই চারি দিকে ছড়িয়ে দেয়। দুপুরের পর থেকে বঙ্গবন্ধু নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় চলে যেতে বলেন। আলোচনার ফলাফলে দেশবাসী যখন উদ্বিগ্ন ঠিক সেই মুহুর্তে জেনারেল ইয়াহিয়া বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে ঢাকা থেকে কলম্বো হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে রাত ১১টায় পৌছান। ইয়াহিয়ার পৌছানোর খবর ঢাকায় আসার সঙ্গে সঙ্গে ইস্টার্ণ কমান্ড হেড কোয়াটার থেকে সুসজ্জিত পাকিস্তানি সৈন্য বাহিনী ইসলাম এবং পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার জন্য অভিযান শুরু করে।

সন্ধ্যার পর থেকে পাকিস্তানি আরমি আধুনিক সমরাস্ত্র ট্যাংক এবং যুদ্ধকালীন যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহ গিরে ফেলে। বঙ্গবন্ধু তা অবগত হয়েছিলেন। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টার সময় নির্দেশ পেয়ে সজীব সচল বাংলাদেশকে একটি মৃত্যু পুরীতে পরিনত করে পাকিস্তানি হায়েনারা। মধ্যরাত অতিক্রম করে এক ঘন্টা হলে পাকিস্তানিআর্মি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। প্রথমে থাকে শের – বাংলা নগর আরমি সদরদপ্তর এবং পরে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে যাওয়া হয়। ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী যখন অপ্রস্তুত, অসংগঠিত ও নিরস্ত্র জনগণের উপর জাপিয়ে পড়ে। ৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামিলীগ নেতারা সকলেই তখন পালিয়ে যান ভারতে। অনেকেই আত্মসমর্পণ করেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে। ভীত সন্ত্রস্ত জাতি যখন কিং কর্তব্য বিমৌড়, ঠিক তখন গর্জে উঠেন সময়ের সাহসী সন্তান জিয়াউর রহমান। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ইতারের স্রুতে ভেসে আসে এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর ( আমি মেজর জিয়া বলছি……)।

 

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। জিয়াউর রহমানের স্ব কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণাটি চিত্র পরিচালক তার নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবি (ওরা এগারো জন) এবং (সংগ্রাম) ছবিতে ব্যবহার করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়টি ইতিহাসের অন্তর্গত বিষয়। বাংলাদেশে এখনো অসংখ্য লোক বেচেঁ আছে যারা স্ব কর্মে তার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেছেন, কিন্তু এব্যাপারে অনেকেই বিতর্ক করতে চান। এপ্রসঙ্গে কারো সমালোচনা না করে ঐতিহাসিক কয়েকটি মন্তব্য তুলে ধরতে চাই। আওয়ামিলীগের একজন বিশিষ্ঠ লেখক নাম এম আর মুকুল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যার ব্যাঙাত্মক অভিভাষণ প্রচার করা হতো তারই একটি বইয়ের নাম (ওরা চারজন)। চার জন সেক্টর কমান্ডার জিয়া, মীর শৌকত, শফিউল্লাহ ও খালেক মোশারফের জবানবন্দি এতে তুলে ধরা হয়েছে। এ চার মুক্তিযুদ্ধার দেশ প্রেমের ব্যাপারে কোন দলেই দ্বিমত পোষণ করেন না। এ চার মুক্তিযুদ্ধার মধ্যে আওয়ামিলীগের সবচেয়ে পছন্দনীয় ব্যাক্তি হলেন খালেক মোশারফ। তিনি বলেছেন জিয়াউর রহমানেই সর্বপ্রথম ২৬ মার্চ শেখ মুজিবের নামেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময় অনেক ইতিহাসবিদ, লেখক, সাংবাদিক বৃন্দ খালেদ মোশারফের এ তথ্যকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার মূল ভিত্তি বলে মনে করেন। জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান তার বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রবন্ধে লিখেছেন মেজর জিয়া প্রথম ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করেন। সৈয়দ আলী আহসান নিজেও একজন মুক্তিযুদ্ধা ছিলেন। বীর সেক্টর কমান্ডার নির্বিক সাহসী যুদ্ধা স্বাধীন চেতা মানুষ এই জিয়াউর রহমানই সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পক্ষেই স্বাধীনতার ঘোষণা চ্ট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার ট্রান্সমিশন যন্ত্র থেকে ঘোষণা করেছিলেন। দেশবাসী তাদের প্রকৃত করণীয় কাজটির ব্যাপারে যখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগ ছিলো তখন জিয়াউর রহমানের এ ঘোষণা গোটা জাতিকে পাকিস্তানের হানাদারদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছিলো। সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও জল্পনা কল্পনার অবসান ঘঠিয়ে জাতি তখন স্বাধীনতা যুদ্ধে জাপিয়ে পড়ে।

তাজ উদ্দিন আহমদ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জনগণের উদ্্বশ্যে প্রথম যে ভাষণ দেন তা থেকেই পরিষ্কার বুঝা যায় যে জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের বীরত্ব পূর্ণ গ্লোরিফাই করে তিনি আরো বলেন (চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলের যুদ্ধপরিচালনার ভার পড়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের উপর)। নৌ, স্থল ও বিমান বাহিনীর আক্রমণের মূখে চট্টগ্রাম শহরে যে প্রতিরোধ ব্যুহ গড়ে উঠেছে এবং আমাদের মুক্তিবাহিনী বীর চ্ট্টলার ভাই ও বোনেরা যে সাহসীকতার সাথে শত্রুর মোকাবেলা করছেন। স্বাধীনতার ইতিহাসে এই প্রতিরোধ (স্টালিং গ্রাডের) পাশেই স্থান পাবে।

(সুত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল পত্র প্রকাশক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার)। তৃতীয় ত:””::’ ইন্দিরা গান্ধী…….. জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতা ঘোষনা করেছিলেন অন্য কেউ নয়, সেই সত্যটি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৬ নভেম্বর নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত এক ভাষণের মাধ্যমে। চতুর্থ ত :”’সনজিব রেড্ডি….. ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত গিয়েছিলেন। ২৭ ডিসেম্বর ১৯৭৭ তার সম্মানে দেয়া এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় ভারতের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সনজিব রেড্ডি বলেন, (বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণাকারী একজন বীর মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে আপনার স্থান ইতি মধ্যেই, আপনার দেশের ইতিহাসের পাতায় নির্ধারিত হয়েগেছে)।

 

বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতে অস্থায়ী সরকার ঘটন করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমদ, এইচ এম কারুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী প্রমূখেরা মুক্তিযুদ্ধকে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ কে ভারত সরকারের সহযোগীতায় সর্বোতভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান শুধুস্বাধীনতার ঘোষনাই দেন নি, যুদ্ধসংগঠিত করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নিজে বীরের মতো যুদ্ধ করে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে (জেডফোর্সের) ভূমিকা ও অবদান কোনদিন ম্লান হওয়ার নয়। যুদ্ধ শেষে তিনি ফিরে গিয়েছিলেন ব্র্যাকে।

লেখক:: অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, উখিয়া কলেজ, উখিয়া, কক্সবাজার।