ঢাকা, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২

ভাষা আন্দোলনে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১৩ ০০:৫১:১১ || আপডেট: ২০১৭-০৩-১৩ ০০:৫১:১১

কালাম অাজাদ:

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মূল আঘাতটি আসে ১৯৫২ সালে। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৫ মার্চ স্বাক্ষরিত ৮ দফা চুক্তি ভঙ্গ করে ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে মুসলিম লীগের সম্মেলনে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন পুনরায় ঘোষণা করেন―‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হইবে একমাত্র উর্দু’ এবং ‘উর্দু হরফে বাংলা লিখনের প্রচেষ্টা সাফল্যমন্ডিত হইতেছে’। তার এ বক্তব্যে পূর্ব পাকিস্তানে জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদে ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের এক প্রতিবাদ সভা হয়। ৩০ জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রগণ প্রতীকী ধর্মঘট পালন করে এবং বিভিন্ন শিক্ষায়তনের ছাত্রদের সহযোগে এক বিরাট শোভাযাত্রা বের করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ওই দিন নাজিমুদ্দিনের বক্তব্যের প্রতিবাদে পূর্ব পাক মুসলিম ছাত্রলীগের উদ্যোগে বার লাইব্রেরি হলে আহুত সর্বদলীয় এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ, আওয়ামী মুসলিম লীগ, খেলাফত রব্বানী পার্টি, যুব সংঘ, তমদ্দুন মজলিস, গণতান্ত্রিক যুবলীগ, ইসলামী ভ্রাতৃসংঘ, পুর্ব পাকিস্তান জমিয়তে আরাবিয়া, মোহাজের সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্র প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ জন প্রতিনিধি সমন্বয়ে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে একটি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। সর্বদলীয় সভায় বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অফিসাদির ভাষা এবং কেন্দ্রের অন্যতম রাষ্ট্রভাষারূপে গ্রহণের জন্য খাজা নাজিমুদ্দীন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী থাকতে ১৫ মার্চ ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যে ৮ দফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন তা ভঙ্গ করায় নিন্দা প্রকাশ করা হয় এবং অনতিবিলম্ভে ভাষা সম্পর্কিত তার উক্তির প্রত্যাহারপূর্বক বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকার করে নেওয়ার দাবি জানানো হয় এবং উর্দু হরফে বাংলা লেখার চক্রান্তের বিরুদ্ধেও এক প্রস্তাবে সরকারকে হুশিয়ারী করে দেয়া হয়।১৬ সংগ্রাম পরিষদ ৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার ঢাকা শহরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ, ১১ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পতাকা দিবস পালন করে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সারা পূর্ব বাংলায় সভা, সমাবেশ, মিছিল ও হরতালের কর্মসূচী ঘোষণা করে। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এ লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার মধ্যে লাগাতার প্রচারণা শুরু করে। এই দিকে পূর্ব পাকিস্তান সরকার এতে বিচলিত হয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস.এইচ.কোরাইশি এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারার আদেশ জারি করে সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা প্রভৃতি নিষিদ্ধ করে। নির্দেশে বলা হয়― ‘যেহেতু এটা দেখা যাচ্ছে যে, জনগণের একটি অংশ ঢাকা শহরে জনসভা, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত করার চেষ্টা করছে এবং যেহেতু, আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি যে সেই ধরনের শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ মিছিল জনসাধারণের জীবনে শান্তি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারে, তাই আমি, এস.এইচ. কোরেশী সি.এস.পি, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সি. আর.পি.সি-র ১৪৪ ধারা অনুযায়ী কোতোয়ালী, সূত্রাপুর, লালবাগ, রমনা ও তেজগাঁও পুলিশ স্টেশন নিয়ে গঠিত ঢাকা শহরের সমগ্র এলাকায় আমার লিখিত পূর্ব অনুমতি ব্যতিত ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ থেকে ত্রিশ দিনের জন্য সেই ধরনের সকল জনসভা, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি।’ ১৭ পূর্ব পাকিস্তান সরকারের ১৪৪ ধারা জারির প্রেক্ষিতে ছাত্ররা আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ১৪৪ ধারা জারি ভঙ্গ করে ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সকাল ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে সমবেত হয় এবং তারা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মিছিল নিয়ে ঢাকার রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলে। পথিমধ্যে পাহারারত পুলিশের কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ উপেক্ষা করে প্রাদেশিক পরিষদ ভবনকে ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল প্রাঙ্গনে পৌঁছলে বিক্ষোভরত ছাত্রদের উপর পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ ক্লাসের ছাত্র মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন (্অবশ্য সালাহ উদ্দিন নামে কোনো ছাত্র শহীদ হয়নি বলে ভাষা ইতিহাস গবেষক ও ভাষা আন্দোলনকারীরা তাদের স্ব-স্ব-গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন ও আহমদ রফিক লিখিত ‘ভাষা আন্দোলন: ইতিহাস ও তাৎপর্য’ নামক গ্রন্থে যুক্তির মাধ্যমে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের ছাত্র এবং বাদামতলী কমার্শিয়াল প্রেসের মালিকের পুত্র রফিকুদ্দীন (১৯৩২-১৯৫২) কে সালাহ উদ্দিন নামে উল্লেখ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং ওই সময়ের বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগারিক মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক এর জবানী উল্লেখ করার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছান। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আজাদ পত্রিকার কল্যাণে সালাহ উদ্দীনের শাহাদাত বরণের খবর প্রকাশিত হবার পর জনাব সালাহ উদ্দিন সশরীরে তার কর্মস্থলে এসে সবার সাথে দেখা করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ১৮) ঘটনাস্থলে নিহত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল জাব্বার (৩০), আবুল বরকত (২৫), নবাবপুর রোডের রাজমিস্ত্রি হাবিবুর রহমানের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র অহিউল্লাহ, সলিমুল্লাহ মোছলেম হলের ছাত্র আনোয়ারুল এছলাম (২৪), জগন্নাথ কলেজের ছাত্র এ আর ফৈয়াজ (১৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সিরাজুদ্দীন খান (২২), সরকারি শুল্ক বিভাগের পিয়ন আবদুস সালাম (২৭), এলাহী বখশ (৪০), মনসুর আলী (১৬), বছিরুদীন আহমদ (১৬), তাজুল এছলাম (২২), মাছুদুর রহমান (১৬), আবদুস সালাম (২২), আখতারুজ্জামান (১৯), এ রেজ্জাক (১৭), মোজাম্মেল হক (২৩), সুলতান আহমদ (১৮), এ রশিদ (১৪), মোহাম্মদসহ বহু সংখ্যক ছাত্র ও পথচারী আহত হয়। পরে ওই দিন রাতে আবদুল জাব্বার (৩০), আবুল বরকত (২৫), নবাবপুর রোডের রাজমিস্ত্রি হাবিবুর রহমানের ছেলে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র অহিউল্লাহ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান এবং দৈনিক আজাদ’র ৮ এপ্রিল ১৯৫২- সংখ্যার সংবাদ অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে পুলিশের গুলিতে আহত সরকারি শুল্ক বিভাগের পিয়ন আবদুস সালাম (২৭) প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় ঢাকা হাইকোর্টের কর্মচারী সফিউর রহমান নবাবপুর রোড হয়ে কাজে যাওয়ার পথে পুলিশের গুলিতে আহত হয়। ওই দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. এ্যালিনসন এর তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টায় মারা যান। এ খবর সারা দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ২২ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ অধিবেশন চলাকালে পরিষদ হতে আজাদ সম্পাদক ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য আবুল কালাম শামসুদ্দিন, ২৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থা পরিষদের সদস্য মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ (১৯০০-১৯৮৬) লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি হতে ও ঢাকায় ১৪৪ ধারার প্রবর্তন এবং ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থা পরিষদের সদস্য আহমদ হোসেন, খয়রাত হোসেন মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি এবং প্রাদেশিক লীগ ওয়ার্কিং কমিটির পদ থেকে এস্তেফা দেন। এ সময় পূর্ববাঙলা ব্যবস্থা পরিষদের মুসলিম ও কংগ্রেস দলীয় ১২ জন সদস্য ওয়াকআউট করেন। তার মধ্যে খয়রাত হোসেন (১৯১১-১৯৭২), রাজশাহীর মনির উদ্দিন আখন্দ, আলী আহমদ খান, আলী আহমদ চৌধুরী, মোবারক আলী, বসন্ত কুমার দাশ, শামসুদ্দিন আহমদ, আহমেদ কবীর চৌধুরী, মনোরঞ্জন ধর, আহমেদ হোসেন, আনোয়ারা খাতুন, কক্সবাজারের এমএলএ কবির আহমদ চৌধুরী অন্যতম।
রাষ্ট্রভাষা বাঙলার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি এবং ছাত্র নিহত ঘটনার খবরটি প্রথম
রাজধানী ঢাকায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির মিছিলে খুনী নুরুল আমিন সরকারের নির্দেশে গুলি করে ছাত্র হত্যার খবরটি ওই দিন রাত্রে পেয়ে যায়। ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের মতো পালং উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে স্কুলের সহপাঠী বন্ধুদের সাথে আলাপ তৎক্ষনাৎ ক্লাস বর্জন করে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে মিছিল ও উখিয়া থানা ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাদশা মিয়া চৌধুরী ও স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ জকরিয়া (শিক্ষক, বর্তমানে প্রয়াত) এর নেতৃত্বে পালং হাই স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে মিছিল সহকারে আরাকান সড়ক হয়ে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ সেøাগান দিতে দিতে পায়ে হেঁটে উখিয়া থানা স্টেশনে যায়। এক পর্যায়ে উখিয়া থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদেরকে বলা হয় যে, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলার সমর্থনে আপনারা আপনাদের কার্যক্রম বন্ধ করে আমাদের আন্দোলনকে সমর্থন করুন। নতুবা থানা উড়িয়ে দেয়া হবে’। পরক্ষণে থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা আমাদের সমর্থন জানালেও উখিয়া স্টেশন ঘুরে এসে দেখি থানার পুলিশ তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা থানায় গিয়ে লাঠি মেরে দরজা বন্ধ করি। অসংখ্য লাঠির আঘাতে থানার দরজা ফাটল হয়ে যায়।’ দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত ফাটল দরজা ভাষা আন্দোলনের আলামত হিসেবে বহাল ছিলো। তখন উখিয়া স্টেশনে জনতার উদ্দেশ্যে বাংলার ভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে ধারণা এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাদশা মিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ জাকারিয়া, নিরোধবরণ বড়–য়া, প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, ললিত বড়–য়া প্রমুখ। ওই সমাবেশে ছাত্র হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করা হয়। ২৮ এছাড়া মিছিলে ছিলেন, ছালেহ আহমদ চৌধুরী (পরবর্তীতে কৃষক লীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন চৌধুরীর পিতা), প্রিয়দর্শী বড়–য়া, এ কে আহমদ হোসেন (পরবর্তীতে এডভোকেট), আয়ুব আলী, রশিদ আহমদ, আজিজুর রহমান প্রকাশ আজিরান মিয়া (পরবর্তীতে এডভোকেট), তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, ফরিদ আহমদ খোন্দকার (পরবর্তীতে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন), আবদুল হক চৌধুরী (পরবর্তীতে উখিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক)সহ অনেকেই। সে সময় স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার কাননুগোপাড়া নিবাসী লোকনাথ দে। ছাত্রদের ক্লাশ বর্জন, বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশে শিক্ষকদের মৌন সম্মতি ছিলো। টি ছাত্র মিছিলের পরপরই সরকারি দল মুসলিম লীগ নেতা নজির আহমদ চৌধুরী ও আবদুল গফুর চৌধুরীর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন নস্যাৎ করতে ৪টি সভা করে। সভায় নেতারা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন এবং এ ভাষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করেন। এ চারটি সভায় উপস্থিত উল্লেখ্যযোগ্যরা হলেন খান বাহাদুর ফজলুল কাদের চৌধুরী, মকসুদ আহমদ চৌধুরী, আনোয়ার চৌধুরী, মীর কাসেম চৌধুরী, জাফর আলম চৌধুরী( ১৯০৩-১৯৭৭), আবদুর গফুর চৌধুরী (১৯৩০-১৯৯০) নজির আহমদ চৌধুরী প্রমুখ। এরা প্রায় সকলেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে অবলম্বন করে বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করেন।২
উখিয়ার পালং স্কুলে ছাত্র মিছিলের পরপরই সরকারি দল মুসলিম লীগ নেতা মীর কাসেম চৌধুরীর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন নস্যাৎ করতে 1টি সভা করে। সভায় নেতারা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন এবং এ ভাষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করেন। এ সভায় উপস্থিত উল্লেখ্যযোগ্যরা হলেন খান বাহাদুর ফজলুল কাদের চৌধুরী, মকসুদ আহমদ চৌধুরী, আনোয়ার চৌধুরী, মীর কাসেম চৌধুরী, জাফর আলম চৌধুরী( ১৯০৩-১৯৭৭), আবদুর গফুর চৌধুরী (১৯৩০-১৯৯০) নজির আহমদ চৌধুরী প্রমুখ। এরা প্রায় সকলেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে অবলম্বন করে বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করেন।