ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

বিলুপ্তির পথে কক্সবাজারের উপকূলবর্তী সবুজ বেষ্টনী

প্রকাশ: ২০১৭-০৩-০৮ ১১:০৯:৪৮ || আপডেট: ২০১৭-০৩-০৮ ১১:০৯:৪৮

বিলুপ্তির পথে কক্সবাজারের উপকূলবর্তী সবুজ বেষ্টনী

আবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার:

বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলবর্তী তীর ঘেঁষে দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত এলাকার নয়নাভিরাম সবুজ বেষ্টনী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাবে আজ বিলুপ্ত হয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাছে। বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও সমুদ্রের প্রবল জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে সমুদ্র সৈকত এলাকা ও উপকূলের তীর ভাঙ্গনরোধ কল্পে উপকূলে সৃজিত বিস্তীর্ণ সবুজ বেষ্টনী (ঝাউবীথি) সংঘবদ্ধ কাঠচোর সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা প্রতিনিয়ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাকের ঢগায় দিন দুপুরে প্রকাশ্যে একের পর এক কেটে সাবাড় করে দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা দেখেও না দেখার ভান করে নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করায় এলাকাবাসি ও সচেতন মহলের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে দায়িত্বরত উপকূলীয় বনবিভাগের কোন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ ইতোপূর্বে কাঠচোরদের শনাক্ত করার পরও কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জোয়ারের তোড়ে ভাঙ্গনের কবল থেকে মানুষের জানমাল রক্ষায় বিশাল উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে বনবিভাগের সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছিল সবুজ বেষ্টনী। তবে সংঘবদ্ধ কাঠচোরদের ও সংশ্লিষ্ট বনকর্মীদের অবহেলার কারণে ওসব ঝাউবীথি বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে এতদাঞ্চলের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র। ফলে একদিকে উপকূলের তীরবর্তি সমুদ্র সৈকত এলাকা ভেঙ্গে গিয়ে জোয়ারের পানিতে একাকার হয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে অপরদিকে মারাতœক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে। পরিবেশবাদীদের অভিমত উপকূলীয় অঞ্চলের সবুজ বেষ্টনী রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়তে পারে উপকূলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পরিবার। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এক শ্রেণীর অসাধু সংঘবদ্ধ কাঠচোর সিন্ডিকেট চক্ররা সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করতে তৎপর থাকায় মরে যাচ্ছে কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গাছপালা। এছাড়া সাগরের ভাঙনেও গাছপালা বিলীন হচ্ছে। বড়ছড়া এলাকার স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, উপকূলীয় বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে মোটা অংকের বিনিময়ে আতাত করে চিহ্নিত ২০/৩০ জনের একটি কাঠচোর সিন্ডিকেট চক্ররা তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে রাতের বেলায় এই সবুজ বেষ্টনীর ঝাউগাছ কেটে বিভিন্ন স-মিলের অসাধু মালিকদের সাথে আতাত করে তা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে চলছে প্রতিনিয়ত। এ ব্যাপারে হিমছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  বলেন, অবশ্যই কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।এদিকে সবুজ বেষ্টনীর ঝাউগাছ কেটে ফেলার পলে সাগরের অতিরিক্ত লোনা পানি ও বালু এসে গাছের গোড়ায় আটকা পড়ে। এতে নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন জাতের গাছপালা মারা যাচ্ছে। শুধু যে গাছ মারা যাচ্ছে তা নয়, একই সঙ্গে উপকূল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ এতদাঞ্চলের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র। কমে যাচ্ছে নদী ও সাগরের মাছও। হিমছড়ি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাবাসিরা বলেন,আমাদের উচিত নতুন প্রজাতির গাছ আবিষ্কার করা। যা পরিবেশের সঙ্গে মোকাবেলা করে বেঁচে থাকতে পারে। পাশাপাশি বন্ধ করতে হবে সবুজ বেষ্টনীর ঝাউগাছ নিধন ও ইটভাঁটিতে অবাধে কাঠ পোড়ানো। বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেন,উপকূলীয় বনাঞ্চলসহ গ্রাম-বাংলার জীববৈচিত্র সংরক্ষণ করতে সরকারী ও বেসরকারীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এতে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বন কর্মকর্তা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঝাউবীথি উজাড় হলে আমাদের করার কিছু নেই। তবে কাঠ পাচারকারীদের কারণে যদি কোন ক্ষতি হয় অথবা তারা যদি সবুজ বেষ্টনীর ঝাউগাছ ণিধন করে তাহলে অবশ্যই ওইসব কাঠ পাচারকারীর বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা রুজু করা হবে তিনি জানান।