ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা : পুলিশ সুপার

প্রকাশ: ২০১৭-০৩-০৫ ১২:৩০:৪০ || আপডেট: ২০১৭-০৩-০৫ ১৪:৫১:৩৭

উখিয়া কলেজে মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত  

জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা : পুলিশ সুপার

পলাশ বড়ুয়া, সিএসবি ২৪ ডটকম::
বাংলাদেশ পুলিশ উখিয়া থানার উদ্যোগে দক্ষিণ কক্সবাজারের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ উখিয়া কলেজ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫ মার্চ (রবিবার) দুপুর ১২টায় উখিয়া থানার আয়োজনে কলেজ অধ্যক্ষ ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ড. এ কে.এম ইকবাল হোসেন।

জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা : পুলিশ সুপার

অনুষ্ঠানের সভাপতি কলেজ অধ্যক্ষ ফজলুল করিম বলেন, মাদক হচ্ছে সমস্ত কিছু নষ্টের মুল। এ মাদকের কারণে যুব সমাজ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মাদক বিরোধী অভিযানে পুলিশের সাথে উখিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. ইকবাল হোসেন মাদক ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বলেন, যতদিন পুরো কক্সবাজার মাদকমুক্ত হবে না ততদিন পযর্ন্ত চলবে এ যুদ্ধ। তিনি আরো বলেন মাদকের ব্যাপারে কোন আপোষ নেই। এ সময় তিনি মাদক ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। আর এ যুদ্ধে সফলকাম হতে পুলিশের পাশাপাশি সমাজকর্মি ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। সবার সহযোগিতা পেলেই দেশের সব অপরাধ নির্মুল সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ আবদুল হক বলেন, সর্বাঙ্গে ব্যাথা, ঔষধ দিবো কোথায় ? পুরো উখিয়াবাসী মাদকের করাল গ্রাসে। তাই এ থেকে উত্তোরণের জন্য শিক্ষকদের পাশাপাশি সকল অভিভাবক সহ শিক্ষার্থীদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।

জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা : পুলিশ সুপার

স্বাগত বক্তব্যে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের বলেন, মাদকের ভয়াবহতায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সকল শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করার আহবান জানান তিনি। কেননা, অনেক সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও মাদক বহনে ব্যবহার হচ্ছে। কোন শিক্ষার্থী মাদক বহন কালে আটক হয়ে জেলে যাক এটা আমাদের কাম্য নয়।

সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক আলমগীর মাহমুদ- ভোপেন হাজারিকার গানের সুরে তিনি বলেন, বর্গিরা এখন দেয় না হানা, নেয় কো জমিদার, তবু কেন এদেশ জুড়ে নিত্য হাঁহাকার। মাদক আমাদের সমাজকে বিষিয়ে তুলেছে। সবার সচেতনতায় একমাত্র এর থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারে।

শিক্ষাথী আবু বক্কর বলেন, পর্যটন নগরী হিসেবে কক্সবাজারের পরিচিতি বিশ্বব্যাপী হলেও মাদকের ঘাটি হিসেবেও এর প্রসারতা ব্যাপক আকারে ধারণ করেছে। মাদকের করালগ্রাসের কারণে উখিয়ার পরিচিতি তুলে ধরতেও অনেক সময় লজ্জা লাগে। সমাবেশে মাদক বিরোধী অভিযানে উখিয়া কলেজ শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা আশ্বাস দেন তিনি। শিক্ষার্থী শারমিন আকতার একই ধরণের অভিমত ব্যক্ত করেন।

উপস্থিত ছিলেন, উখিয়া থানা ওসি (তদন্ত) কায় কিস্লু, কলেজ শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী অধ্যাপক অজিত কুমার দাশ, সহকারী অধ্যাপক ফরিদুল আলম চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, প্রভাষকদের মধ্যে নবী হোসাইন, নুরূল হক, শিল্পী পাল, কামরুন নাহার, খুরশেদ আলম, মো: জালাল উদ্দিন, মো: আমানত উল্লাহ, প্রদর্শক প্লাবন বড়ুয়া, লাইব্রেরীয়ান সাহাব উদ্দিন, প্রধান সহকারী আবদুর রহিম, হিসাবরক্ষক জিয়াউল হক, আইটি কর্মকর্তা পলাশ বড়ুয়া, কর্মচারীদের মধ্যে সাধন বড়ুয়া, শামশুল আলম, মনিন্দ্র বড়ুয়া, হাফেজ আলী আহমদ, নিলু বড়ুয়া, ছৈয়দ হামজা, নুরুল ইসলাম সহ ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী।

জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা : পুলিশ সুপার

প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে কলেজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জঙ্গীবাদ ও মাদকের কুফল সম্পর্কে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন ও র‌্যালী করা হয়।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কলেজের হিসাব রক্ষক জিয়াউল হক।
গীতা থেকে পাঠ করেন সহকারী অধ্যাপক অজিত কুমার দাশ।

পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন রাষ্ট্র বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী সোনিয়া বড়ুয়া।

পুরো অনুষ্ঠানটি নান্দনিক সঞ্চালনা করেন পুলিশ কর্মকর্তা প্রিয়তোষ বড়ুয়া।