ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২

আগামী ধার্য তারিখে হাজির না হলে খালেদার জামিন বাতিল : আদালত

প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৬ ১৭:৫২:২৬ || আপডেট: ২০১৭-০১-২৬ ১৭:৫২:২৬

আগামী ধার্য তারিখে হাজির না হলে খালেদার জামিন বাতিল : আদালত

ঢাকা: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী তারিখে আদালতে হাজির না হলে জামিন বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে এ দুই মামলার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য ছিল।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানান, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি আগামী ২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন রাখা হয়েছে। আদালত আজ মৌখিক আদেশে বলেছেন, আগামী তারিখে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হলে জামিন বাতিল করা হবে।

মেজবাহ আরো জানান, এ ছাড়া আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য ছিল। এ মামলায় ৩০ জানুয়ারি আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলায় তিনি আদালতে হাজির না হলে জামিন বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে, এ মামলায় তারেক রহমানের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জানান, তারেক রহমান এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। তাঁর পক্ষে এত দিন আইনজীবী ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারা অনুযায়ী হাজিরা দিতেন। আজকে তারেক রহমানকে অনুপস্থিত দেখিয়ে জামিন বাতিল করা হয়েছে।

আজ আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন মোশাররফ হোসেন কাজল।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে ছিলেন আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ।

এ মামলার অপর আসামিরা হলেন—খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।-নতুনবার্তা।