ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২

ম্রোদের প্রুং প্রে বাঁশি সুর শোনার জন্য নয়, মানবতায় ছুটে গিয়ে ছিলো- খিন ওয়ান নু

প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৫ ১৯:৩০:৫৩ || আপডেট: ২০১৭-০১-২৫ ১৯:৩০:৫৩

ম্রোদের প্রুং প্রে বাঁশি সুর শোনার জন্য নয়, মানবতায় ছুটে গিয়ে ছিলো- খিন ওয়ান নু

জয় মারমা, লামা (বান্দরবান) :: মানবতার সেবা। ইচ্ছে করলে যে কেউ করতে পারে না। সমাজে অনেক বিত্তবান লোকের দেখা মিলে কিন্তু অসহায় মানুষদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো মত বা মানবতার সেবা করানো মত খুব কম সংখ্যক মানুষের দেখা মিলে বর্তমান সমাজে। পার্বত্য এলাকায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে ম্রো সম্প্রদায় নামক জাতি গোষ্ঠী। যাদের এক কথায় বলা যায় ‘পশ্চাদপদ এক জনগোষ্ঠীর’ । যারা পাহাড়ের চূড়ায় ছোট ছোট ম্যাচাংঘর বানিয়ে শত শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে সে আদিকাল থেকেই। যাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল থাকতে হয় জুম চাষের উপর। যারা একদিন পাহাড়ে গিয়ে মাথার ঘাম না ফালালে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সে পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীদের কিঞ্চিই পরিমাণ পাহাড়ে হাঁড় কাপাঁনো শীতে উষ্ণতার পরশ ছড়িয়ে দিতে দূর্গম পাহাড়ে নিঃস্ব ম্রো জনপদে পা রাখেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খিন ওয়ান নু।

অনেক আচার অনুষ্ঠান বা রাজনীতিক অনুষ্ঠানে ম্রো সম্প্রদায়ের সে “প্রুং প্রে” বাঁশির সুর শোনানো জন্য অনেকে এদের নিয়ে আসে। সে “প্রুং প্রে” বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে তাদের “বকসি” নামক কিছু আর্থিক সহযোগিতাও প্রদান করে। কিন্তু লামা উপজেলা সদ্য যোগদানকৃত নির্বাহী কর্মকর্তা খিন ওয়ান নু সে পিছিয়ে পরা  ম্রো জনগোষ্ঠীর “প্রুং প্রে” বাঁশির সুর টি শোনার জন্য যায়নি, গিয়ে ছিলো তাদের পাশে দাঁড়াতে। চলুন এ মানবদরদি আরো কিছু মানবতার কাজের  গল্পটুকু জেনে আসিই-

লামা উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করার পর থেকে খিন ওয়ান নু লামাবাসীর জন্য যে দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে এসেছিলো তা মনে হয় অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছে, যা বলার মত ভাষা আজো রাখিনি। ২০১৬ সালে ০২ ডিসেম্বর লামা গজালিয়া ইউনিয়নে দূর্গম পাহাড়ে সেই লুলাইং নয়া পাড়ায় ৪ ম্রো পরিবারে বসত-বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার সংবাদ শোনার একদিনের মাথায় নিঃস্ব ম্রো পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ, ঢেউ টিন ও শীত বস্ত্র বিতরণ, এরপর লামা রূপসী পাড়া ইউনিয়নে অংহ্লা পাড়ায় অসুস্থ হ্লারাই প্রু মারমা মত অনেক রোগির চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা করে পাশে দাঁড়ানো, ২৪ জানুয়ারি/২০১৭ রোজ মঙ্গলবার রূপসী পাড়া, ফাঁসিয়াখালী ও ফাইতং ইউনিয়নে দুস্থ অসহায় ৩০০ পরিবারের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ এবং সরকারি ভাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসায় বিভিন্ন রকমে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা দৃশ্য তা আসলে লামাবাসীকে অনেক ভাবিয়ে তুলছে। যা লামাবাসীর হৃদয়ে নকঁশি কাথার মত চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পাহাড়ে এ কনকনে শীতে একটি শীত বস্ত্র কত যে উষ্ণতা এনে দিয়েছে তা, ত্রাণ বিতরণে সময় দুস্থ-অসহায়দের মুখের হাঁসি তা প্রমাণ করে ছাড়ে।

আসলে মানবতার কাজে- ধনী-গরীব বড় কথা নয়! মনের জোর আর অন্যের জন্য কিছু করার ইচ্ছা শক্তি থাকলে “মানবতার” নামক শব্দটি করা যায় এবং এ রকম প্রত্যেকটি কাজে সফল ভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয়ে ওঠে। অসহায় বা নিরীহ মানুষদের জীবন-জীবিকা কাছে গিয়ে না দেখলে বুঝা যায় না, তারা যে কতটুকু অসহায় বা নিরীহ। এমন কার্যক্রম যেন সামনেও অব্যাহত থাকেই ।