ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২

রেজু খালের ভাঙ্গন রোধ, সাত পাকে বাঁধা

প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৫ ০০:৩০:৪৪ || আপডেট: ২০১৭-০১-২৫ ০১:০২:৪১

উখিয়ায় এলজিইডি ও ঠিকাদারের গাফেলতি ৥

রেজু খালের ভাঙ্গন রোধ, সাত পাকে বাঁধা
জসিম আজাদ, সিএসবি২৪ ডটকম:

স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে খাল বা নদী ভাঙ্গন প্রবন এলাকায় সংস্কার ও মেরামতের জন্য সরকার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ব্যাপক উন্নয়ন মূলক প্রকল্প হাতে নিয়ে তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় উখিয়ার রতœাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম রতœাস্থ  রেজু খালের ভাঙ্গন রোধে গৃহীত প্রকল্পের আওতায় গাইড ওয়ালের পরিবর্তে গানিব্যাগ বসিয়ে কোন রকম দায়সারা ভাবে কাজ করার গুরুতর অভিযোগ উঠছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তথা ঠিকাদার জহিরের বিরুদ্ধে। এতে সরকারের বরাদ্দকৃত প্রায় ৭ লক্ষ টাকা বরাবরের মতই খালের জলে ভেসে যাওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে।

সুত্রে জানা গেছে, উখিয়া প্রকৌশলী কার্যালয়ের অধীনে উখিয়ার রতœাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম রতœাস্থ  রেজু খালের ভাঙ্গন রোধ করার লক্ষে ৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি ক্ষুদ্র প্রকল্প কক্সবাজারের রামু উপজেলার জহির উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার কার্যাদেশ পায়। এ দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার জহির উদ্দিন  ও  স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী এলজিইডি’র সুমন, সৌরভ ও দয়াল ভাট্টাচার্য্যরে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া উপজেলার উন্নয়ন কাজে বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমান অর্থ নয় ছয় করে হাতিয়ে নিচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এলজিইডি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের অনুপস্থিতিতে শ্রমিকেরা ঠিকাদারের নির্দেশে পাটের বস্তা ব্যবহারের পরিবর্তে নি¤œ মানের চটের বস্তা দিয়ে খালের ভাঙ্গন রোধের গ্রহিত প্রকল্পটির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, রেজু খালের ভাঙ্গন রোধে ইতিপূর্বে সরকারী একাধিকবার লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করলেও কয়েক মাস যেতে না যেতেই বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে খালের পানির প্রবল ¯্রােতে গাইড ওয়াল ভেঙ্গে একাকার হয়ে যায়। এভাবে বছরের পর বছর ঠিকাদারগণ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লুটপাট করতে সদা ব্যতি ব্যস্থ থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, এলজিইডি বা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অফিস খালের ভাঙ্গন রোধে অপরিকল্পিত ব্যবস্থা বা অর্থ বরাদ্দ নেওয়ায় কার্যত ঠেকসই হচ্ছে না। ফলে সরকারি অর্থ জলে চলে যাচ্ছে। ঐ প্রকল্পের শ্রমিক তুতুরবিল গ্রামের শামিম বলেন, ঠিকাদার জহির আমাদের যেভাবে নির্দেশানা দিয়েছে ঠিক সে ভাবে কাজ করছি। পাটের বস্তা ব্যবহারের পরিবর্তে কেন নি¤œ মানের চট এবং বালির পরিবর্তে মাটি দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে ওই শ্রমিক জানান, প্রসঙ্গ এড়িয়ে সে বলে অলরেডি ঠিকাদার জহির সম্পূর্ণ বিল ভাউচার করে নিয়েছে। কাজ শেষ করার আগেই কিভাবে বিল উত্তোলন করেন জানতে চাইলে প্রকৌশলী সুমন ও অন্যন্যাদের ম্যানেজ করেই তিনি এটি সম্পন্ন করেছেন বলে সে জানায়। কার্যাদেশ তালিকার সিডিউল মোতাবেক কাজ না করে সিমেন্ট, মাটি, চট ব্যবহার করছে। এছাড়া ভাঙ্গনরোধে ঠেকসই করতে যে খুটি গুলো স্থাপন করা হয়েছে তাও অত্যান্ত নিম্নমানের এবং দুর্বল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়টি ঘিরে অনিয়ম দুর্নীতি ব্যাপক ভাবে মাথাছাড়া দিয়ে উঠছে একটি দুর্নীতিবাজ চক্র। এ অসাধু চক্রটি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের সাথে গোপনে আতাঁত করে ব্রীজ, কালর্ভাট, সড়ক, উপ সড়ক, গ্রামীণ সড়কসহ যাবতীয় সংস্কার ও উন্নয়নের কোটি কোটি টাকা যতসামান্য কাজ দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়াও প্রকৌশলী কার্যালয় কেন্দ্রিক সুমন, সৌরভ ও দয়াল ভট্টাচার্য্যরে একটি শক্ত সিন্ডিকেট রয়েছে। যার ফলে এ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের যাতাকলে পড়ে ঠিকাদার জহিরসহ অন্যান্যরা ইচ্ছে মতো নিম্নমানের নিমার্ণ কাজ চালিয়ে আসছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিবার্হী প্রকৌশলী এবং প্রধান প্রকৌশলী কার্যালয় কর্তৃক অনুসন্ধান ও তদন্ত করলে দুর্নীতিবাজদের আসল চেহেরা উম্মোচিত হবে।

উখিয়া উপজেলা নদী প্রবিব্রাজক দলের সভাপতি কবি আদিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রেজু খালের ভাঙ্গন রোধে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহন করা দরকার। কেননা, প্রতিবছর রেজু খালের এ ভাঙ্গন দেখিয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারগণেরা লক্ষ লক্ষ সরকারি টাকা জলে মেশাচ্ছে তা সরকারি অর্থ আতœসাতের সমতুল্য।

রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী বিষয়টি এখনো তার দৃষ্টিগোচর হয়নি। তবে তিনি পরিবর্তিতে বিষয়টি নিয়ে খতিয়ে দেখে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবেন।

এ দিকে উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহমুদের বক্তব্য নেওয়ার বার বার মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করার পর তিনি মিটিংয়ে ব্যবস্থা থাকার অজুহাতে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।