ঢাকা, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২

ঈদগাঁও’র নুর হোসেন এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে

প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৪ ২২:২৭:৩৩ || আপডেট: ২০১৭-০১-২৫ ০০:২২:১২

ঈদগাঁও'র নুর হোসেন এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও:
ঈদগাঁওর কথিত অপহৃত নুর হোসেন এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সে অপহৃত হয়নি। মানব পাচার মামলায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর একটি বিশেষ ইউনিট তাকে সম্প্রতি আটক করে ঢাকার র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যায়।

জানা যায়, নুর হোসেন কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও জাগির পাড়ার মৃত নজির আহমদের পুত্র। সে ঢাকার একটি বেসরকারী জনশক্তি রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের হয়ে বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকায় দীর্ঘদিন কাজ করে আসছিল। নিজে উক্ত প্রতিষ্ঠানের হয়ে বিদেশ গমনের প্রক্রিয়া করতে গিয়ে সে একসময় ঐ প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী হিসাবে কাজ করা শুরু করে। তার মাধ্যমে এলাকার বেশ কয়েকজন বিদেশগামী যুবক উক্ত এজেন্সীর মাধ্যমে বিদেশ পাড়ী দেওয়ার জন্য প্রসেসিং ও টাকা-পয়সা জমা করেছিল। তবে তার হাত ধরে উক্ত প্রতিষ্ঠানের হয়ে এ পর্যন্ত কেউ বিদেশ যেতে পেরেছে কিনা তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে দেশব্যাপী উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ভিসা, বিমান এবং প্রসেসিং খরচ বাবদ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করে নানা প্রতারণা করে আসছিল। এতে অনেকে ফতুর হয়ে পথে বসতে বাধ্য হয়। অবশেষে এক ভূক্তভোগীর উক্ত প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ ও কর্তাব্যক্তিদের আসামী করে ঢাকার শাহবাগ থানায় কিছুদিন আগে একটি মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় অপরাপরদের সাথে ঈদগাঁওর নুর হোসেনকেও আসামী করা হয়। উক্ত মামলার সূত্র ধরে কয়েকদিন আগে র‌্যাবের একটি টীম তার বাড়ীতে আসে। তাকে ঘুম থেকে ডেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনেই গাড়ীতে তুলে নিয়ে যায়। আনীত সাদা রঙের নতুন মাইক্রোবাসটির নম্বর ছিল ১১-০১৯৬। এতে র‌্যাবের ১০/১২ জন সদস্য ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে কক্সবাজার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছিল তারই ছোট ভাই আবদুল্লাহ। এদিকে খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে নুর হোসেনের পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে যে, তাকে অপহরণ নয়, আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ প্রতিনিধির কাছে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন তারই অপর ছোট ভাই বদিউল আলম আকাশ। তিনি জানান, খবর পেয়ে তার বড়ভাইকে দেখতে তিনি ঢাকার র‌্যাব সদর দপ্তর ও কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তার সাথে দেখা সাক্ষাত ও কথাবার্তা বলেন। তিনি তার ভাইয়ের জামিনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন বলেও জানান। অন্যদিকে তার কথিত অপহরণ নিয়ে এলাকাবাসী এবং সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠে। কে বা কারা, কি কারণে বা কোন উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ করা হলো তা নিয়ে চলে নানা জল্পনা কল্পনা। অবশেষে র‌্যাব কর্তৃক আটকের খবরে অপহরণ নাটকের অবসান ঘটে।