ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

স্বাধীনতার কত বৎসর বয়স হলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হালনাগাদ শেষ হবে ?

প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৩ ১৯:০৪:৪২ || আপডেট: ২০১৭-০১-২৩ ১৯:০৪:৪৬

পলাশ বড়ুয়া::
প্রারম্ভে দেশের স্বাধীনতা আনতে যে সকল বীর সন্তান শাহাদাৎ বরণ করেছেন এবং এখনো যাঁরা বেঁচে আছেন তাঁদের প্রতি প্রগাঢ় শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
আক্ষেপ আমার। কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন আমার তো দূরের কথা আমার মায়েরও জন্ম হয়নি। হয়ত: বাবার হয়েছে। সেই সুবাদে আদৌ জানিনা দক্ষিণ চট্টগ্রামে সম্মুখ যুদ্ধ কিংবা, গেরিলা যুদ্ধ হয়েছে কিনা ! হাতে মেলেনি যুদ্ধকালীন তথ্য-উপাত্ত নির্ভর কোন ইতিহাসও। প্রয়াত দাদু নির্মল বড়ুয়া মুখে পাকবাহিনী কর্তৃক কিছু বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং পাশ্ববর্তী ঢেকিবুনিয়ায় পাড়ি দেওয়ার কথা শুনেছি।

বুঝিনা আমি রাজনীতি। করিও না চর্চা।তবে নাগরিক হওয়ার পর থেকে যে ক’বার জাতীয় ভোট দিয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন ধারণকৃত স্থির চিত্র, ভিডিও ফুটেজ, ঐতিহাসিক ভাষণ, স্মৃতি যাদুঘর থেকে সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে মুজীবীয় আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্ভিগ্নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকে মূল্যবান রায় প্রদান করেছি।

স্ব-শিক্ষিত বাবা পেশায় ড্রাইভার এবং স্বাক্ষরজ্ঞানের মা গৃহীনি হলেও ৪ ভাই-বোনকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নিয়ে আসতে অনেক কষ্টের কাঠ-কড় পুড়তে হয়েছে মানুষ দুটোকে।তারাও কিন্তু স্বপ্ন দেখে ছেলে-মেয়ে সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ভালো একটা চাকরি করবে কিংবা একজন সফল উদ্যোক্তা হবে।কিন্তু প্রতিনিয়তই বৈষম্যের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে তাদের সেই স্বপ্ন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে বিভিন্ন পদে চাকরিতে পরীক্ষা দিয়েছি একাধিক বার। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও নানা কারণে চাকরিটা মেলেনি। কেননা, অধিকাংশ সময় হয়ত: মুক্তিযোদ্ধা কোটা, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কোটা, পৌষ্য কোটা, রাজনৈতিক নেতাদের তদবির ছাড়া আমলাদের ঘুষ বাণিজ্যও কম যায় না।অনেক সময় আবার চাকরির জন্য আবেদনও করা যায় না। কেননা শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সীমাবদ্ধ থাকে বলে।
উদ্যোক্তা হতে গেলেও যে নানা প্রতিকুলতায় গুড়োবালিতে পরিণত হচ্ছে স্বপ্নরা।
স্বাধীনতার সুদীর্ঘ সময় পরও যদি মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হালনাগাদ করা হয়। তাহলে যাঁরা দেশকে স্বনির্ভর তথা উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য গাধার মতো কাটছে তারা যাবে কোথায় ? আদৌ কতজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন ? আজীবন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ছাড়াও একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনও করা হয়।তারপরও মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা, নাতী-নাতনীদের কোটার নামে সাধারণ জনগণের সাথে বৈষম্যে নয় কি ? এরাও কি দেশের স্বাধীনতা আনতে জীবনযুদ্ধে বাজি রেখে ঝাপিয়ে পড়েছিল ?
সবাই জানে দেশ পরিচালনায় সরকারের পট পরিবর্তন হলে দলীয় নেতাকর্মী এবং সমর্থক লোকজন একটু বাড়তি সুবিধা পায়।তাই বলে আপত্তির মুখে সুবিধাবাদী ও বিতর্কিতদের তালিকাভুক্তিতে এতো সক্রিয় হয় কিভাবে দায়িত্বশীলরা ? এরা আদৌ কি মুক্তিযোদ্ধা ?
মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান তালিকার কোটার সাথে যেখানে আমরা কুলিয়ে উঠতে পারছি না। সেখানে তালিকা যদি আরও সম্প্রসারণ করা হয় তাহলে ?
সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ শুধুমাত্র স্বজনপ্রীতি এবং নিজেদের পকেট ভারী করতে দেশকে পেছনে ঠেলে দেবেন না। করবেন না শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি অমর্যদা। সর্বোপরি নিজের মনুষ্যত্ববোধের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।